Subhan-allah
১. সুবহানাল্লাহ (سُبْحانَ الله)
২. আলহামদুলিল্লাহ (اَلْحَمْدُ لِله)
৩. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (لَا اِلَهَ اِلَّا الله)
৪. আল্লাহু আকবার (اَللهُ اَكْبَر)।
পবিত্র কুরআনের আলোকে
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতে এই দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।
উত্তম জাতি হওয়ার শর্ত:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।" (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১১০)
মুমিনদের বৈশিষ্ট্য:
মুমিন নারী ও পুরুষের অন্যতম প্রধান গুণ হিসেবে এটিকে উল্লেখ করা হয়েছে:
"আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু। তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজে নিষেধ করে..." (সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৭১)
সাফল্যের চাবিকাঠি:
"আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দেবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।" (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১০৪)
হাদীসের আলোকে
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি এবং গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।
পরিবর্তন করার পদ্ধতি:
সহীহ মুসলিমের একটি প্রসিদ্ধ হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেছেন:
"তোমাদের কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজ হতে দেখে, তবে সে যেন তা হাত দিয়ে (শক্তি প্রয়োগে) বাধা দেয়। যদি তাতে সক্ষম না হয়, তবে মুখের মাধ্যমে (উপদেশ দিয়ে) বাধা দেয়। আর যদি তাতেও সক্ষম না হয়, তবে যেন অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে (এবং তা পরিবর্তনের পরিকল্পনা করে)। আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর।" (সহীহ মুসলিম)
অবহেলা করার পরিণাম:
হযরত হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন:
"সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজে বাধা দিবে। অন্যথায় আল্লাহ তাআলা শীঘ্রই তোমাদের ওপর আযাব পাঠাবেন। তখন তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবে, কিন্তু তোমাদের দোয়া কবুল করা হবে না।" (তিরমিজি)
এই কাজের স্তর ও নিয়মাবলী
ইসলামী স্কলাররা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে এই দায়িত্ব পালনের তিনটি মূল স্তরের কথা বলেছেন:
জ্ঞান (Knowledge): কোন কাজটি 'সৎ' আর কোনটি 'অসৎ', সে সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। না জেনে কাউকে উপদেশ দেওয়া হিতে বিপরীত হতে পারে।
প্রজ্ঞা ও নম্রতা (Wisdom and Kindness): দাওয়াতের ভাষা হতে হবে নরম ও যুক্তিপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের কাছে পাঠানোর সময় মূসা (আ.)-কেও নরম ভাষায় কথা বলতে বলেছিলেন।
ধৈর্য (Patience): সৎ কাজের আদেশ দিতে গেলে বাধা বা কটু কথা শুনতে হতে পারে। লোকমান (আ.) তার ছেলেকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিলেন: "...সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজে নিষেধ করো এবং তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধারণ করো।" (সূরা লোকমান, আয়াত: ১৭)
সামাজিক ভারসাম্য: এটি সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখে।
আল্লাহর সন্তুষ্টি: এটি নবীদের উত্তরসূরি হিসেবে কাজ করার নামান্তর।
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা প্রত্যেক মুসলমানের সামর্থ্য অনুযায়ী একটি আবশ্যিক কর্তব্য। এটি করার মূল উদ্দেশ্য হতে হবে মানুষের কল্যাণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
তোমরা তাঁর জন্য কাঁদো বা না কাঁদো, ফেরেশতারা অনবরত তাঁদের ডানা দিয়ে তাকে ছায়া দিচ্ছিল যতক্ষণ না তোমরা তাকে তুলে নিয়েছ।" (সহিহ বুখারী: ১২৮১)
ইসলামের জন্য যারা শহীদ হন, তাদের মর্যাদা সম্পর্কে কুরআন এবং সহিহ হাদিসে অনেক চমৎকার ও শিহরণ জাগানো বর্ণনা রয়েছে। তবে "আসমানে ফেরেশতারা শহীদদের নিয়ে মিছিল করে"— হুবহু এই শব্দে কোনো বর্ণনা সহিহ হাদিসের কিতাবগুলোতে পাওয়া যায় না। এটি সম্ভবত বক্তাদের অলঙ্কারিক ভাষা বা অতিরঞ্জিত বর্ণনা হতে পারে।
তবে সহিহ হাদিসে শহীদদের নিয়ে ফেরেশতাদের কিছু বিশেষ কাজের কথা অবশ্যই আছে, যা মিছিলে চেয়েও বেশি সম্মানজনক। নিচে গবেষণামূলক তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো:
১. ফেরেশতাদের ছায়া দান
শহীদদের সম্মানে ফেরেশতারা ডানা দিয়ে ছায়া দান করেন। সহিহ বুখারীতে জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, উহুদ যুদ্ধের পর তাঁর পিতার (যিনি শহীদ হয়েছিলেন) লাশ নিয়ে আসা হলে নবীজি (সা.) বলেন:
> "তোমরা তাঁর জন্য কাঁদো বা না কাঁদো, ফেরেশতারা অনবরত তাঁদের ডানা দিয়ে তাকে ছায়া দিচ্ছিল যতক্ষণ না তোমরা তাকে তুলে নিয়েছ।" (সহিহ বুখারী: ১২৮১)
>
২. শহীদদের জান কবজের সময় ফেরেশতাদের অভিবাদন
সাধারণ মানুষের জান কবজ আর শহীদের জান কবজ এক নয়। কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে, ফেরেশতারা যখন মুমিনদের জান কবজ করেন তখন তারা সালাম প্রদান করেন:
> "যাদের জান কবজ করে ফেরেশতারা পবিত্র থাকা অবস্থায়। ফেরেশতারা বলে, 'তোমাদের প্রতি সালাম (শান্তি) বর্ষিত হোক, তোমরা যা করতে তার কারণে জান্নাতে প্রবেশ করো'।" (সূরা আন-নাহল: ৩২)
>
৩. শহীদের রুহ সবুজ পাখির পেটে
সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, শহীদদের রুহ সবুজ রঙের পাখির পেটে করে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে উড়ে বেড়ায়। তারা আরশের নিচে ঝুলন্ত প্রদীপসমূহে বিশ্রাম নেয়। এটি ফেরেশতাদের মিছিলে চেয়েও বড় পাওনা যে তারা সরাসরি জান্নাতের মেহমান হয়ে যান।
কেন মানুষেরা 'মিছিলের' কথা বলে?
অনেক সময় বক্তারা শহীদদের জানাজায় ফেরেশতাদের উপস্থিতিকে বোঝাতে গিয়ে 'মিছিল' বা 'বিশাল জমায়েত' শব্দ ব্যবহার করেন। যেমন:
* সা’দ ইবনে মুআয (রা.)-এর মৃত্যু: তাঁর জানাজায় ৭০ হাজার ফেরেশতা অংশ নিয়েছিলেন যা ইতিপূর্বে কখনো ঘটেনি। (সুনানে নাসাঈ)। এই বিশাল সংখ্যক ফেরেশতার উপস্থিতিকে অনেকে আলঙ্কারিক ভাষায় 'মিছিল' বলে থাকেন।
আপনার ইউটিউব কন্টেন্টের জন্য পরামর্শ:
আপনি যখন এই বিষয়টি নিয়ে ভিডিও বানাবেন, তখন এভাবে বলতে পারেন—
> "আমরা আবেগ দিয়ে ইসলামকে বিচার করব না। শহীদদের নিয়ে আসমানে মিছিল হওয়ার কোনো সহিহ দলিল নেই, কিন্তু এর চেয়েও বড় সম্মান আল্লাহ তাদের দিয়েছেন। ফেরেশতারা তাঁদের ডানা দিয়ে ছায়া দেন এবং হাজার হাজার ফেরেশতা তাঁদের জানাজায় শরিক হন। এটাই শহীদের প্রকৃত মর্যাদা, যা কোনো বানোয়াট গল্পের মুখাপেক্ষী নয়।"
>
সতর্কতা:
দ্বীনের বিষয়ে কোনো কথা বলার সময় "বলা হয়ে থাকে" বা "শুনেছি" এমন কথা না বলে, সরাসরি কুরআন ও সহিহ হাদিসের রেফারেন্স ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। এটিই আমাদের আগের আলোচনার (নবীজির নামে মিথ্যা না বলা) মূল দাবি।
আল্লাহর চিঠি.
نَبِّیٴۡ عِبَادِیۡۤ اَنِّیۡۤ اَنَا الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ ۙ
আপনি আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন যে, আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়ালু।
আমার বান্দাদেরকে বলে দাও যে, আমি তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু,
—আল হিজ্র - ৪৯
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
আরামবাগ ১০ নম্বর ওয়ার্ড কোনাবাড়ী গাজীপুর সিটি
Gazipur