E-Trick
Please stay connected with us and give us valuable feedback about the content. InshaAllah we
15/07/2021
এসএসসি নভেম্বরে, এইচএসসি ডিসেম্বরে: শিক্ষামন্ত্রী
এসএসসি নভেম্বরে, এইচএসসি ডিসেম্বরে: শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, তিনটি বিষয়ে পরীক্ষার ভিত্তিতে বাকি আবশ্যিক বিষয়গুলোর মূল্যায়ন নির্ধারণ হবে এসএসসি...
11/04/2021
►আপকামিং ব্যাংক এক্সাম।
► যেভাবে প্রস্তুতি নিবেন বাংলাদেশ ব্যাংক।
►অফিসার নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
►বাংলাদেশের চাকরির বাজারে বিসিএসের পাশাপাশি আর যেসব চাকরি নিয়ে প্রার্থীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। অনলাইনে আবেদনের শেষ তারিখ ১৩ এপ্রিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া, কর্মপরিধি, চাকরির সুযোগ-সুবিধা এবং অন্য সব বিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন ২০১৭ ব্যাচের বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার-জেনারেল (বর্তমানে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত) সফিকুল ইসলাম সোহেল।
►যাঁদের জেনারেল কোরে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাঁরা ব্যাংকের সব বিভাগে কাজ করার সুযোগ পান। আর যাঁরা বিশেষায়িত বিভাগে নিয়োগ পান তাঁরা ওই বিভাগে কাজ করেন। অর্থাৎ যাঁরা সামনে ‘অফিসার (জেনারেল)’ হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন, তাঁরা ব্যাংকের প্রায় সব বিভাগে এবং সব অফিসে কাজ করার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশের প্রায় সব বিভাগীয় শহর ও বিভাগের বাইরে বগুড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে দীর্ঘ পদক্রম এবং নিয়মিত পদোন্নতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি চাকরিপ্রার্থীদের আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে ১৯৮৮, ১৯৯৩, ১৯৯৯, ২০১৭, ২০১৯ ব্যাচের অফিসার (জেনারেল) ব্যাচ কর্মরত রয়েছে। এ ছাড়া ২০২১ সালে একটি ব্যাচ যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছে এবং নতুন এ ব্যাচের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। সাধারণত তিনটি ধাপ অতিক্রম করে একজন প্রার্থী অফিসার (জেনারেল) হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগে কোনো অর্থ বা ফি ছাড়াই আবেদন করা যায়।
►উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক নবম ও দশম গ্রেডে সাধারণত সহকারী পরিচালক, অফিসার ও অফিসার (ক্যাশ) হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ ছাড়া অনেক সময় সহকারী পরিচালক (জেনারেল)/ অফিসারের (জেনারেল) পাশাপাশি সহকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান)/ সহকারী পরিচালক (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার)/ সহকারী পরিচালক (গবেষণা) বা এ রকম কয়েকটি বিশেষায়িত সেক্টরে নিয়োগ দেওয়া হয়।
✅ প্রিলিমিনারি
নিয়োগের প্রথম ধাপে হয় ১০০ নম্বরের এমসিকিউ (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা। এখানে সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান এবং কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। প্রিলিতে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে সাধারণত বেশি প্রশ্ন থাকে। নেগেটিভ মার্কিং থাকবে কি না সেটি পরীক্ষার শুরুতেই প্রশ্নপত্রে ভালো করে খেয়াল করে নিতে হবে। প্রিলিমিনারির মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সঠিক প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরের প্রশ্নের ধরন দেখা যেতে পারে। ২০১৭ ও ২০১৯ ব্যাচের প্রশ্ন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলায় ২০-২৫, ইংরেজিতে ২০-২৫, গণিত ও মানসিক দক্ষতায় ২০-২৫, সাধারণ জ্ঞান এবং কম্পিউটার ও প্রযুক্তি বিষয়ে ২০-২৫ নম্বরের প্রশ্ন এসেছে। বিগত পরীক্ষাগুলোতে বাংলায় ব্যাকরণ থেকে বেশি প্রশ্ন এসেছে এবং সাহিত্য থেকে তুলনামূলক কম প্রশ্ন এসেছে। বাংলা বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য ড. হায়াৎ মামুদের ‘ভাষা শিক্ষা’ বইটি সহায়ক হিসেবে দেখা যেতে পারে।
ইংরেজি বিষয়ে Grammar এবং Vocabulary থেকে প্রশ্ন এলেও ইংরেজি সাহিত্য থেকে তেমন প্রশ্ন আসে না বললেই চলে। ইংরেজিতে প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরের প্রশ্নের পাশাপাশি indiabix.com ওয়েবসাইটের প্র্যাকটিসগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
গণিতে ভালো করতে হলে অবশ্যই পাটিগণিত টাইপের অঙ্কে বেশি জোর দিতে হবে এবং GRE/GMAT-এর ম্যাথ অংশ সহায়ক হতে পারে। সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে সমসাময়িক বিষয়ের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে পত্রিকা পড়ার কোনো বিকল্প নেই। কম্পিউটার ও প্রযুক্তি বিষয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও কম্পিউটার বিষয়ে বিশদ জ্ঞান রাখতে হবে।
✅ লিখিত
যত সংখ্যক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সাধারণত এর ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য সুযোগ দেওয়া হয়। এখানে লিখিত পরীক্ষা ২০০ নম্বরের। লিখিত পরীক্ষায় ইংরেজি, বাংলা, গণিত ও সমসাময়িক বা অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। বিগত বছরের প্রশ্ন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০-২৫ নম্বরের ফোকাস রাইটিং, ১৫ নম্বরের ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ, ২০-২৫ নম্বরের ইংরেজি ফোকাস রাইটিং এবং ১৫ নম্বরের বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ আসে। ইংরেজি অংশে একটি কম্প্রিহেনশন থেকে ৪-৫টি প্রশ্ন করা হয়, যেখানে ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে।
অর্থনীতিবিষয়ক ১৫-২০ নম্বরের ফোকাস রাইটিং এবং ব্যাংকিং-অর্থনৈতিক ও সমসাময়িক যেকোনো বিষয়ের ওপর ২০-৩৫ নম্বরের ৫-৭টি শর্ট নোটস লিখতে বলা হয়। গণিত অংশ বাংলাদেশ বাংকের লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ মার্কস পাওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গণিতে ৫ থেকে ৮টি প্রশ্নের সমাধান করতে বলা হয়, এর জন্য থাকে ৪০-৫০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় শতভাগ উত্তর করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে, কারণ অনেকাংশে লিখিত পরীক্ষার নম্বরের ওপরই চাকরি পাওয়া নির্ভর করে।
✅ মৌখিক
প্রাথমিকভাবে একজন প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সর্বশেষ ধাপ হলো মৌখিক পরীক্ষা। এই অংশে একজন প্রার্থীকে ২৫ নম্বরের মধ্যে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ও মৌখিক অভীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়ে থাকে। মৌখিক অভীক্ষায় সাধারণত প্রার্থীর পঠিত বিষয়, নিজ জেলা, মুক্তিযুদ্ধ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থনীতি বিষয়ক প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। প্রত্যেক ভাইভা প্রার্থীকে ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক কিছু বিষয়ে সাধারণত প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। Monetary Policy, Fiscal Policy, Repo, Reverse repo, Bank rate, Central Bank, Commercial Bank, Schedule Bank, Non-schedule Bank, CRR, SLR, GDP, Mobile Banking, Agent Banking, Bank note-সহ বেশ কিছু বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার পর নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে মেডিক্যাল টেস্ট ও সনদ যাচাই বা অন্যান্য কার্যক্রমের পর চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়।
⭕ পদক্রম ও কর্মপরিধি
বাংলাদেশ ব্যাংকে যাঁরা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন, তাঁরা দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সহকারী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। অফিসার থেকে ক্রমান্বয়ে সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক, যুগ্ম পরিচালক, উপমহাব্যবস্থাপক, মহাব্যবস্থাপক এবং নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পাবেন। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংক হচ্ছে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আপনি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন। অফিসার (জেনারেল) হিসেবে নির্বাচিত হলে ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগে কাজ করার সুুযোগ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়াও আপনি বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট, বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস, ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিবিসহ নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
⭕ সুযোগ-সুবিধা
১) দেশের ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
২) দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে অফিস হওয়ায় সব সময় শহর অঞ্চলে বসবাস করতে পারবেন।
৩) বাংলাদেশ ব্যাংকারদের জন্য চাকরির বয়স তিন বছর পূর্তিতে প্রায় এক কোটি টাকা হাউজ লোন পাবেন।
৪) দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
৫) সব কর্মকর্তার জন্য মোবাইল ও ইন্টারনেট ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে।
৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় সব শাখায় নিজস্ব মেডিক্যাল সেন্টার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওষুধের ব্যবস্থা রয়েছে।
৭) প্রতিদিন লাঞ্চভাতা এবং বাৎসরিক মূল বেসিকের ৪-৫টি হারে ইনসেনটিভ বোনাস পেতে পারেন।
৮) বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব কো-অপারেটিভ রয়েছে, যার শেয়ার মালিক হতে পারবেন।
৯) বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন।
১০) প্রেষণে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ লাভেরও সুযোগ রয়েছে।
►লিখেছেনঃ সফিকুল ইসলাম সোহেল।
►ধন্যবাদান্তে
►অন্তিম কুমার রুপাই
03/03/2021
#জন্ম_নিবন্ধন
জন্ম নিবন্ধন করার জন্য আমাদের ইউপি সদস্যের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে পায়ের সেন্ডেল ক্ষয়হয়।
এখন আর ওনাদের পেছনে ঘুরতে হবে না, দেশে এখন ডিজিটাল ইউনিয়ন সেন্টার, অনলাইন সার্ভিস, চালু করা হয়েছে।
দোকানে বা নিজ মোবাইলে ঘরে বসে আপনি আপনার
নিজের বা শিশুর জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন। আর নয় ঘুরাঘুরি সেবা পাবে নিজ পরিবার✌️, নিচের লিংক গুলোতে ক্লিক করুন, আপনার প্রয়োজনিয় সেবা নিন,
★নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন
http://bdris.gov.bd/br/application,
★জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন
http://bdris.gov.bd/br/correction,
★জন্ম নিবন্ধন তথ্য অনুসন্ধান
http://bdris.gov.bd/br/search](http://bdris.gov.bd/br/search...
★জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা
http://bdris.gov.bd/br/application/status,
★জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট
http://bdris.gov.bd/application/print,
★জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনঃ মুদ্রন
http://bdris.gov.bd/br/reprint/add,
আমাদের দেশে উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম কোন দিক দিয়ে আলাদা? কেন আলাদা? লেখাটা শুরু করলাম দুটো প্রশ্ন দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে বা পড়া শেষে এমন হাজারো প্রশ্ন হাজারো শিক্ষার্থীর মাথায় ঘুরপাক খায় বলেই মনে হয় আমার। হয়তো মুখ ফোটে করা হয় না, বা করার সুযোগ দেয়া হয় না। কিন্তু চুপ থাকলেই কি কাজের কাজ কিছু হয় বা সমস্যার সমাধান নীরবে দুয়ারে এসে কড়া নাড়ে? গত চার দশকে এসেছে কি? দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান কি বাড়ছে? বা বাড়ার কোনো সম্ভাবনা কি দেখা যাচ্ছে?
বিশ্ববিদ্যালয় নামক শিক্ষার যে চর্চা একজন তরুণের জীবন থেকে ৫ থেকে ৭ কিংবা ৮ বছরের একটি সোনালি অধ্যায় কেড়ে নেয়, বিনিময়ে তাকে আসলে কী দেয়? একটা সার্টিফিকেট, কিছু গর্ব আর ছলাকলাময় অভিনয়ে নিজেকে সুখী দেখানোর আনাড়ি বালখিল্যতা! এর বাইরে বিশেষ আর কি? মানবিকতা, মনুষত্ব্যবোধ। এমন কোনো দক্ষতা বা বিশেষ জ্ঞান কি আছে যা দিয়ে সে সারাজীবন কলেজপড়ুয়া একজন থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে? এই দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা আমারও আছে। দেশের বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একেবারে ভিন্ন না হয়ে থাকে তাহলে পাঁচ-ছয় বছর পড়াশোনা শেষে একজন শিক্ষার্থীর অদক্ষই থেকে যাওয়ার কথা। আমিও অদক্ষই আছি। কলা, সমাজবিজ্ঞান প্রভৃতি অনুষদে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কমবেশি একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা কি ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে? আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর পড়া মুখস্থ করি, পরীক্ষা দিই, পাস করি। যেমনটা স্কুলে করতাম, কলেজে করেছি। শিক্ষকরা পড়ান, সাজেশন দেন!
বিশ্ববিদ্যালয় পাস করতে করতে আমরা স্কুলে ও কলেজে যা মুখস্থ করেছিলাম, তা ভুলে যাই। পাস দিয়ে আবার সেইসব পড়া শুরু করি। সেই স্কুলে যা পড়েছি, কলেজে যা পড়েছিলাম। কারণ এবার বিসিএস মহাযজ্ঞের পালা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিসিএস পরীক্ষার একটা পার্থক্য হলো, বিসিএসে আবার স্কুল, কলেজের পড়ায় ফিরে যেতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া মুখস্থ করতে করতে সেসব মুখস্থ বিদ্যা ভুলে বসে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। তারপর আবার চলে সেই ভুলে যাওয়া বা ভুলতে বসা বিদ্যাকে ঝালাই করার পালা। এভাবেই আমরা খুঁজে নিই, আমাদের দেশটা পরিচালনার জন্য, আমাদের দেশকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার জন্য যোগ্য ও দক্ষ আমলা! তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিই। এতেই আমরা খুশি। কিন্তু কেউ কখনো প্রশ্ন তুলি না, এটা কোন পদ্ধতি যেখানে লর্ড ক্লাইভের প্রথম বউয়ের নাম মুখস্থ রেখে নিজেকে মেধাবী প্রমাণ করতে হয়! ক্লাইভের বউয়ের সঙ্গে একজন শিক্ষার্থীর মেধার সম্পর্কটা কোথায়! একটি দেশ পরিচালনায় এই মেধা কোথায় খরচ হয়!
শিক্ষাব্যবস্থা
আমাদের যদি চাকরির জন্য সেই স্কুলের সিলেবাসে ফিরে যেতে হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মাহাত্ম্য কোথায়? এ শিক্ষা কি তাহলে চাকরি জীবনে অচল? যদি অচল না হয় তাহলে কেন বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কোনো কাজে লাগে না। যদি কাজে না লাগে তাহলে বিসিএস দেয়ার শর্ত হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস কেন থাকবে? স্নাতক পাসের সঙ্গে বিসিএসের সম্পর্ক কোথায়? বিসিএস দিয়ে যদি বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্সের মেধাবী শিক্ষার্থী পুলিশ বনে যায় তাহলে এই পাঁচ বছর সে কেন এত কষ্ট করে পড়ল? রাষ্ট্র কেন তার পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করল? মেডিকেল পড়ুয়া দেশের সবচেয়ে মেধাবী একজন তরুণের পেছনে রাষ্ট্র এত টাকা খরচ করে কি সে বিসিএস দিয়ে এসি ল্যান্ড হবে বলে!
এই যে এত বছর পড়িমরি করে সে দক্ষতা অর্জন করল সেই দক্ষতা তাহলে কাজ লাগল কোথায়? নাকি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একেবারেই ব্যর্থ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে? এর চেয়ে এমন ভাবনা কি অধিক গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, বিসিএসের জন্য স্নাতক পাসের শর্ত তুলে দেয়া হোক। পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর হওয়ার জন্য স্নাতক পর্যন্ত অপেক্ষার কোনো মানে হয় না।
আমি জানি অনেকেই হয়তো বলবেন, এইচএসসির বাচ্চা ছেলে-মেয়ে বিসিএস ক্যাডার হয়ে চাপ সামলাতে পারবে না। ঠিকঠাক মতো কাজ হবে না। রাষ্ট্রে অস্থিরতা ও অচলাবস্থা দেখা দেবে। তাদের সবিনয়ে একটা প্রশ্ন করি। এখন যারা অনার্স শেষ করে, বই মুখস্থ করতে করতে বয়স ৩০ পার করে, আমার মতো আধাবুড়ো হয়ে, বিসিএস ক্যাডার হয়ে আমলা সেজে বসে আছেন, তারা কি দেশটা ঠিকঠাকমতো চালাতে পারছেন? আমাদের কোনো কিছুই কি আসলে ঠিকমতো চলছে?
আমার বিশ্বাস, বিশেষায়িত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেয়া গেলে এই ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলোই তাদের পূর্বসূরিদের চেয়ে অনেক ভালোভাবে অর্পিত দায়িত্ব সামলাবে। তাহলে আর পাঁচ বছর ধরে এমবিবিএস পড়া একজনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে হবে না, রসায়নের ছাত্রকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ফাইল সামলানোর দৃশ্য দেখতে হবে না। এ ক্ষেত্রে আমরা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে উদাহরণ হিসেবে নিতে পারি। এইচএসসি পাস করার পর একজন শিক্ষার্থী একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিসিএস ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হবে। ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে। যেন তাদের নতুন করে প্রস্তুতি নিতে না হয়। এতে একদিকে যেমন কোচিং-বাণিজ্যের লাগামে টান পড়বে, অন্যদিকে কমে আসবে নষ্ট প্রতিযোগিতা।
চাকরিরত অবস্থায় কেউ উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সে সুযোগ থাকবে। একজন পুলিশ সদস্য চাইলে অনার্সও সম্পন্ন করবে, দেশের বাইরে গিয়ে পড়বে। সেনাসদস্যরা যেমনটা করতে পারে। প্রয়োজনে ২-৩টা প্রফেশনাল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনার্স পড়তে বয়সের যে বাধ্যবাধকতা, সেটা তুলে দিলেই বহু সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এইচএসসি দিয়ে তারা চাকরিতে জয়েন করবে। তারপর ক্যাডার অনুযায়ী নিজস্ব ফিল্ডে স্নাতক প্রয়োজনে স্নাতকোত্তর করবে। তাদের শিক্ষাটা হবে কার্যকর, প্রায়োগিক, বিশেষায়িত। এখন যে শিক্ষা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিচ্ছে, এটা কার্যকরী শিক্ষা নয়। এমন শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার কোনো অর্থ নেই।
এই চিন্তা আলোর মুখ দেখলে বিসিএসের পর একজন যে সেক্টর পাবে, তিনি সেই সেক্টরের বিশেষায়িত শিক্ষা পাবে। আর যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, তাদের দেয়া হবে প্রায়োগিক শিক্ষা। যেমন সাংবাদিকতার একজন শিক্ষার্থীকে হাতে-কলমে মাঠে নিয়ে সাংবাদিকতা শেখানো হবে। ফলে স্নাতক সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে আর শুনতে হবে না, ‘এ অফিসে ফ্রেশার নেয়া হয় না। ফ্রেশার নিলেও বেতন দেয়া হয় না!’ এমনটা করা গেলে আর কিছু না হোক, কয়েক বছরের ব্যবধানে দেশ পেতে শুরু করবে যোগ্য আমলা ও দক্ষ জনশক্তি।
লেখক: সরোজ মেহেদী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও মিডিয়া বিশ্লেষক।
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Islampur
Jamalpur
2020
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when E-Trick posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.