Rasheduzzaman Rashed
সহ সাধারণ সম্পাদক যশোর জেলা ছাত্রদল ও
যুগ্ন-আহবায়ক বেনাপোল পৌর ছাত্রদল।
30/03/2026
গণতন্ত্রকামী মানুষের অনুপ্রেরণা শহীদ নুরু
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথচলায় শহীদ নুরুল আলম নুরুর আত্মত্যাগ এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। তাঁর অকাল মৃত্যু কাঁদিয়েছিল পুরো বাংলাদেশকে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী তীরে পড়ে থাকা তাঁর নিথর দেহ সেদিন যে আগুণের স্ফূলিঙ্গ তৈরি করেছিল তার থেকে রূপান্তরিত দাবানলেই ধীরে ধীরে ভষ্ম হয়েছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার হিংস্রতা আর অপশাসন।
২০১৭ সালের ২৯ মার্চ। সেই রাতের ভয়াবহতা মনে করে এখনও অনেকে শিউরে ওঠেন। সে রাতেই নুরুল আলম নুরুকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে তাঁর উপর শুরু হয় এক অমানবিক নির্যাতন। পুলিশ এবং শাসক দলের ক্যাডারদের হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের পর, তাঁর মৃতদেহ কর্ণফুলী নদীর তীরে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল হাসিনা খুনে বাহিনী। তাঁর দেহ ছিল রক্তাক্ত। চামড়া তুলে নেওয়া হয়েছিলো এবং শারীরিকভাবে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত।
পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডাররা মিলে তীব্র শারীরিক নির্যাতনের পর মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয় তাঁকে। তার মরদেহ দেখে চিকিৎসকেরা ধারণা করেন, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাঁকে তিলে তিলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যু কোনো সাধারণ হত্যা ছিল না। এটি ছিল এক রক্তাক্ত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, যা শুধু তার পরিবার এবং রাজনৈতিক সহযাত্রীদের জন্য নয়, বরং পুরো জাতির জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।
নুরুল আলম নুরুর মৃত্যুর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে, তিনি জাতীয়তাবাদী হেল্প সেলের সমন্বয়কারী হিসেবে গুম-খুনের শিকার পরিবারের পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর এই গণতান্ত্রিক ভূমিকা এবং সাহসিকতার জন্যই তাঁকে বারবার শাসক দলের রোষানলে পড়তে হয়েছিল।
সাধ্যমতো তিনি বিরোধী দল হিসেবে জনগণের অধিকার এবং গণতন্ত্রের পক্ষে আওয়াজ তুলতেন।
বাংলাদেশের গণমানুষের নেত্রী চারবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শহীদ নুরুর হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছিলেন, "ফ্যাসিবাদী সরকার জনগণকে ভয় দেখানোর জন্য এই ধরনের নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে"।
নুরু শুধুই নুরু নয়। নুরু বরং আরও অজস্র নিহত আহত ছাত্রদল কর্মীর প্রতিচ্ছবি। ব্যাক্তি নুরু বা খিলগাঁওয়ের ব্যক্তি জনি এই হাজারো শহীদ কর্মীর প্রতিচ্ছবি।
বাংলাদেশের গণমানুষের দাবি, নুরুল আলম নুরুর হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন দ্রুত এবং ন্যায্যভাবে হয়। আমাদের রাষ্ট্রে গণতন্ত্র এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য এ ধরনের নৃশংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। নুরুল আলম নুরুর আত্মত্যাগ বাংলাদেশকে শিখিয়েছে নতুন রাজনীতির পাঠ, চিনিয়ে দিয়েছে নতুন একটা পথ।
দেশের মানুষের ভোটাধিকার, স্বাধীন মতামত, বাক-স্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এই সময় তাই শহীদ নুরুদের কাছে অনেকটা ঋণী।
আজ আমরা যে গণতান্ত্রিক পরিবেশে নিঃশ্বাস নিচ্ছি, যেখানে নারীরা তাঁদের অধিকার চর্চা করতে পারেন, যেখানে নাগরিকেরা নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারেন, যেখানে আমরা ভোট দিতে পারি এবং শাসককে প্রশ্ন করতে পারি, তা নিঃসন্দেহে নুরুল আলম নুরুর মতো নেতাদের আত্মত্যাগের ফল। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, শাসকের অগণতান্ত্রিক প্রবণতা এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতি অবহেলা যে প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছিল, তা আমাদের এই উপলব্ধি তৈরি করেছে যে গণতন্ত্র শুধুমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয় না; এটি একটি চলমান সংগ্রাম, যেখানে সর্বদা মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করতে হয়।
নুরুল আলম নুরুর হত্যাকাণ্ড একটি গভীর শোকের কারণ হলেও, তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের জন্য একটি প্রেরণা হয়ে আছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, গণতন্ত্রের জন্য আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। যখন আমরা মুক্ত বাকস্বাধীনতা, নারীর অধিকার, এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা বলি, তখন আমাদের নুরুল আলম নুরুর মতো ব্যক্তিদের অবদানকে ভুলে গেলে চলবে না। কারণ তাঁর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন দিশা এসেছে, যেখানে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।
25/03/2026
01/03/2026
১২/০১/২০২১ সালে প্রকাশিত কমিটি
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Benapole
Jessore
7431