InHuman Muzzle
Evolve Yourself
17/05/2026
কল্পনা করুন,এখন ১৬শ শতাব্দী। আর একটি জেনিসারি বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে আপনার পক্ষে লড়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।৷
The Enemy should count their last moments.
15/05/2026
মার্চের শেষদিকে বা এপ্রিলের শুরুর দিকে ট্রাম্পের চীন সফর করার কথা ছিল। সেই সফর হইত অনেকটা গুন্ডা স্টাইলে।
ভাবটা এমন-বেইজিং এ যাব, চোখ বন্ধ করে চাবায়ে চাবায়ে আধপাগলের মত কিছু খিস্তি করব, জিনপিংকে কিছু অর্ডার দিব, আর সে জো হুকুম জাহাঁপনা বলে সেসব তামিল করবে।
তাই জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার তেল সরাসরি আমেরিকার দখলে নিয়ে নিল।
তেল ভেনিজুয়েলার, কিন্তু সেটা বিক্রি করবে আমেরিকা। টাকাও থাকবে আমেরিকার কাছে। দয়া করে মনে চাইলে ভেনিজুয়েলাকে কিছু দিবে।
ফেব্রুয়ারিতে সাইজ করবে ইরানকে। এমনটা ভেবেই আক্রমণ শুরু করেছিল।
ইরানের তেল বন্ধ হয়ে গেলে চীনের মোটামুটি এক তৃতীয়াংশ তেলের উৎস হাতছাড়া হয়ে যাবে। ভেনিজুয়েলা, ইরান, রাশিয়া।
ফলে চীনের অবস্থা হইত মরার আগে মানুষ যেমন ব্যাকুল হয়ে পানি চায়, তেমনই ব্যাকুল, তেলের জন্য।
কিন্তু সেই প্ল্যান ভজঘট পাকায়ে গেল। ইরানে বড্ড বাজেভাবে ফেঁসে গেল দুই উন্মাদ।
এপ্রিলের সফর পিছায়ে মে-তে নিয়ে যাওয়া হল। আশা ছিল হুমকি-ধামকি দিয়ে ইরানকে এর ভিতর একটা চুক্তি স্বাক্ষর করায়ে ফেলতে পারবে।
কিন্তু সেটাও বুমেরাং হয়ে গেল।
ইতিহাসে এই-ই প্রথম মার্কিন কোনো প্রেসিডেন্ট চীন সফরে যাচ্ছে, যেখানে পৃথিবীর মোটামুটি সমস্ত বিশ্লেষক একমত যে-প্রথমবারের মত চীন আমেরিকার চাইতে আপারহ্যান্ডে আছে।
আমেরিকার ইতিহাসে সবচাইতে দুর্ভাগ্যজনক চীন সফর।
07/05/2026
এই ম্যাপটিই বলে দিচ্ছে, ভারতের পশ্চিম থেকে পূর্ব এখন বিজেপির দখলে। দীর্ঘদিনের, মানে বিজেপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটির স্বপ্ন এবং লক্ষ্য ছিলো পশ্চিম বাংলা দখলে নেওয়ার। কারণ, বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন বাঙালি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ছেলে। বিজেপির জন্য পশ্চিম বাংলা দাদা বাড়ি, অর্থাৎ পিত্রালয়।
কিন্তু পৈতৃক ভিটায় উঠতে বিজেপির অপেক্ষা করতে হলো ৭৫ বছর। এতো বছর পর যখন বিজেপি ফিরলো, তখন আশেপাশের অনেক কিছুই একটু আধটু বদলে যাবে বলে ধারণা করা হয়।
প্রশ্ন হচ্ছে, পশ্চিম বাংলায় ক্ষমতায় আসতে বিজেপিকে পৌনে শতাব্দী অপেক্ষা করতে হলো কেন?
এর উত্তর একটু জটিল। তবে প্রধান একটি কারণ হলো জ্যোতি বসুর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট।
ভারতের তিনটি রাজ্য ঐতিহাসিকভাবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও দাঙ্গাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। গুজরাট, পাঞ্জাব ও পশ্চিম বাংলা। ব্রিটিশরা উপমহাদেশ এমনভাবে ভাগ করেছিলো, যার অন্যতম ভুক্তভোগী হয় এই তিন অঞ্চল। কিন্তু উপমহাদেশে এই তিন অঞ্চলের মানুষ অনেক আগে থেকেই ছিলো অগ্রগামী।
গুজরাটিরা ব্যবসায় (মারওয়ারি ও অন্যান্য), পাঞ্জাবিরা যুদ্ধ-বিগ্রহে এবং বাঙালিরা জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিতে ছিলো অতুলনীয়।
ব্রিটিশরা উপমহাদেশ ছাড়ার আগেই এই তিন অঞ্চল রক্তের হোলি খেলায় মেতে ওঠে।
১৯৪৬-এ বাংলার দাঙ্গা আজও পৃথিবীর অন্যতম জঘন্য ঘটনা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। পাঞ্জাবের ঘটনাও আলোচিত। ভারতের প্রখ্যাত সাংবাদিক খুশবন্ত সিংয়ের 'ট্রেন টু পাকিস্তান'-এ ওই বর্ণনা পাওয়া যায়। আর গুজরাটের ঘটনা বিংশ শতাব্দীর একেবারে শুরুর দিকে, সবারই প্রায় জানা।
বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতে, পশ্চিম বাংলা ভারতের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। কারণ, সেখানে ধর্মের ভিত্তিতে মাইগ্রেশন প্রচুর। ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ১৯৯০ - বারবার ভিটে ছেড়ে পশ্চিম বাংলায় গিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে অসংখ্য মানুষ। এই সংখ্যা তিন কোটি হবে বলেও দাবি করা হয়। এই ধরনের পরিস্থিতি যেখানে হয়, সেখানেই উত্থান ঘটে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির।
কিন্তু তারপরও পশ্চিম বাংলায় কেনো এতদিন লাগলো? এর পেছনে রয়েছেন অন্তত তিনজন ব্যক্তি। প্রফুল্ল চন্দ্র সেন, বিধান চন্দ্র রায় এবং জ্যোতি বসু। এই তিনজনই বিভিন্ন মেয়াদে পশ্চিম বাংলার মূখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এবং তারা সবাই ছিলেন আদর্শবান, ধর্মপন্থি রাজনীতির বিরুদ্ধে আপসহীন।
সবচেয়ে বেশি সময় ছিলেন জ্যোতি বসু। সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে তিনি ক্ষমতায় ছিলেন তিন দশকের বেশি। যারা মনে করতেন, ধর্মের কারণে ঘরবাড়ি ছাড়া হতে হয়েছে, যাদেরকে সাম্প্রদায়িক উসকানিতে পা দেওয়ার আশংকা ছিলো সবচেয়ে বেশি, সেইসব 'উদ্বাস্তু ও দেশান্তরি'দের আশ্রয়ের শেষ ঠিকানা হয়েছিলেন জ্যোতি বসু। তিনি তাদেরকে বামপন্থার ওষুধ দিয়ে বিভোর করে রেখেছিলেন। নন্দন বানালেন, বই পড়ার সংস্কৃতি সম্প্রসারণ করলেন, সারা দুনিয়ার শিল্প সংস্কৃতির মেলা বসালেন কলকাতায়। সংস্কৃতির 'বিষে মাতাল' হয়ে গেলো সাম্প্রদায়িকতা। কিন্তু কতদিন?
ঘোর কাটতে শুরু শুরু করলো জ্যোতি বসু চোখ বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে। তিনি মারা যাওয়ার পরই পশ্চিম বাংলা থেকে উধাও হয়ে গেলো বামপন্থা। কোনো উত্তরসূরি নেই। বুদ্ধদেব বাবু বালিগঞ্জের পৈতৃক ভিটের অ্যান্টিক চেয়ারে বসে কবিতা চর্চা করতে লাগলেন। কালিঘাট থেকে উঠে এলেন ঝগড়াটে এক প্রেত। সহজ পন্থা নিলেন, কাপুরুষরা যে পন্থা অবলম্বন করে। শত্রুর শত্রুকে বন্ধু বানানো। সাম্প্রদায়িকতা ঠেকাতে সাম্প্রদায়িক উসকানি। মমতা উসকে দিলেন মুসলিমদের। জ্যোতি বসু কিন্তু এই কাজ করেননি, ভিন্নভাবে পরিস্থিতি সামলেছিলেন।
কিন্তু মমতা পারলেন না। পশ্চিম বাংলার সবচেয়ে সংস্কৃতিহীন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি কি আগের থেকেও খারাপ হতে যাচ্ছে?
নোট: মারওয়ারিদের উল্লেখ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ দেখা দিয়েছে। আমি বলতে চেয়েছি, গুজরাটে বসবাসরত মারওয়ারি ব্যবসায়ীদেরকে। অনেকেই মনে করছেন, রাজস্থানের মারওয়ার অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে গুজরাটি বলছি। বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এখানেই। আসলে মারওয়ারিদের বিরাট একটি অংশ বহু আগেই মাইগ্রেট করে গুজরাটে চলে গেছেন এবং সেখানে তারা ব্যবসা-বাণিজ্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও প্রভাবশালী।
05/05/2026
এখন অবধি মাকিয়াভেলির দর্শন নিয়ে কম লেখালেখি হয়নি, তবে তার দর্শন ও ব্যক্তিগত জীবনের দ্বিচারিতার যে সত্যটি অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়, সে ব্যাপারে কিছু বিষয় তুলে ধরবো।
ইতিহাসের ধুলোবালি মাখা পাতাগুলো উল্টালে দেখা যায়, ক্ষমতার দাপট আর যৌনতার আদিম আকর্ষণ সবসময়ই এক অবিচ্ছেদ্য সুতোয় গাঁথা ছিল। রাজপ্রাসাদের অন্ধকার অলিন্দ থেকে শুরু করে বর্তমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক কার্যালয়, সর্বত্রই একটি গল্প বারবার ফিরে আসে। সেটি হলো, একজন অপরাজেয় পুরুষ যখন ক্ষমতার চূড়ায় বসেন, তখন তার সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়ায় তার নিজেরই অবদমিত প্রবৃত্তি। পঞ্চদশ শতকের এক ধূসর বিকেলে ফ্লোরেন্সের এক প্রান্তে বসে নিকোলো মাকিয়াভেলি যখন তার লেখনী চালাচ্ছিলেন, তখন তিনি কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল লিখছিলেন না; তিনি আসলে ব্যবচ্ছেদ করছিলেন পুরুষের সেই গোপন দুর্বলতাকে, যা তাকে যেকোনো মুহূর্তে ধ্বংসের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারে । মাকিয়াভেলি নিজে যে জীবন কাটিয়েছেন, তাতে রাষ্ট্রচিন্তা আর ব্যক্তিগত লালসার এক অদ্ভুত সহাবস্থান ছিল। আজ আমরা সেই অন্ধকার গলিপথ দিয়ে হাঁটব, যেখানে মাকিয়াভেলি, নিৎসে এবং বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতির অলিগলি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
নিকোলো মাকিয়াভেলিকে পৃথিবী চেনে একজন ঠান্ডা মাথার, নির্মম এবং চরম বাস্তববাদী রাজনৈতিক দার্শনিক হিসেবে। তার ‘দ্য প্রিন্স’ (The Prince) বইটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শাসকদের বাইবেল হিসেবে কাজ করেছে । কিন্তু এই মহান চিন্তাবিদের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক রক্ত-মাংসের মানুষ, যার জীবন ছিল ব্যর্থতা, অপমান এবং অদম্য যৌন লালসায় ঘেরা। ১৫১২ সালে মেদিচি পরিবার যখন ফ্লোরেন্সে পুনরায় ক্ষমতায় আসে, মাকিয়াভেলির সুদিন ফুরিয়ে যায়। তাকে কারারুদ্ধ করা হয়, অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত শহরের বাইরে সান ক্যাসিয়ানোতে তার পৈতৃক খামারে নির্বাসনে পাঠানো হয়। নির্বাসিত জীবনের সেই দিনগুলো মাকিয়াভেলির জন্য ছিল এক জীবন্ত নরক। দিনের বেলা তিনি তার ধুলোমাখা খামারে পাখিদের ফাঁদ পাততেন বা সামান্য কাঠ কাটতেন। কিন্তু সূর্য ডোবার সাথে সাথে তার মধ্যে এক আমূল পরিবর্তন আসত। তিনি তার সাধারণ পোশাক ছেড়ে রাজকীয় পোশাক পরতেন এবং পড়ার টেবিলে বসে প্রাচীন রোমান লেখকদের সাথে কল্পিত সংলাপে লিপ্ত হতেন। তবে এই বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার আড়ালে ছিল তার রাতের গোপন জীবন। তিনি তার বন্ধু ফ্রানচেস্কো ভেত্তোরিকে লেখা চিঠিতে বর্ণনা করেছেন, কীভাবে তিনি স্থানীয় সরাইখানাগুলোতে যেতেন এবং নিম্নবর্গের নারীদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। এক চিঠিতে তিনি এক কুৎসিত যৌনকর্মীর সাথে তার বীভৎস অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন, যা পড়ার পর মনে হয় তিনি নিজের এই আসক্তিকে ঘৃণা করতেন, তবুও তিনি তা থেকে মুক্ত হতে পারতেন না। এই যে নিজের দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে দেখা, অথচ তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা; এটাই হলো মাকিয়াভেলিয়ান ট্র্যাজেডি। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, যে পুরুষরা পুরো সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে, যারা রাষ্ট্রের ভাগ্য নির্ধারণ করে, তারা এক অদ্ভুত কারণে একজন সাধারণ নারীর কাছে মানসিক ও শারীরিকভাবে নতি স্বীকার করে। এটি কোনো সাধারণ আসক্তি ছিল না; এটি ছিল ক্ষমতার ছায়ায় পালিত এক গোপন দানব। মাকিয়াভেলি তার পর্যবেক্ষণে দেখেছিলেন যে, ক্ষমতাবান পুরুষরা যখন মনে করে তারা সব জয় করে নিয়েছে, ঠিক তখনই তাদের ভেতরকার ‘পশু’ জেগে ওঠে এবং তাদের বিচারবুদ্ধিকে গ্রাস করে ফেলে।
মাকিয়াভেলি যা তার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণে বুঝেছিলেন, আধুনিক বিজ্ঞান আজ তাকে নিউরোবায়োলজির ভাষায় ব্যাখ্যা করছে। ক্ষমতার অধিকারী হওয়া মানুষের মস্তিষ্কে এক ধরনের রাসায়নিক পরিবর্তনের সৃষ্টি করে। যখন একজন পুরুষ নিজেকে ক্ষমতাবান মনে করেন, তখন তার মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সার্কিট’ (Reward Circuit) বা পুরস্কার কেন্দ্রটি অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষভাবে ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটারের প্রবাহ বেড়ে যায়, যা মানুষকে বারবার আনন্দের উৎস খুঁজে পেতে প্ররোচিত করে। মস্তিষ্কের গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স হলো আমাদের যুক্তি, বিচারবোধ এবং নৈতিকতার কেন্দ্র। অন্যদিকে, লিম্বিক সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের আদিম প্রবৃত্তি, ভয় এবং যৌন আকাঙ্ক্ষাকে । যখন একজন পুরুষ ক্ষমতার চূড়ায় বসেন, তখন তার মধ্যে ‘ইমিউনিটি’ বা অভেদ্যতার একটি বোধ তৈরি হয়। তিনি ভাবতে শুরু করেন যে, সাধারণ নিয়ম-কানুন তার জন্য নয়। এই অহমবোধ তার প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং লিম্বিক সিস্টেম বা আদিম পশুত্বকে লাইসেন্স দিয়ে দেয়।
আজকাল আমরা জেফরি এপস্টাইনের (Jeffrey Epstein) কথা শুনি। কীভাবে তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী পুরুষদের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ীদেরযৌন ফাঁদে ফেলতে পেরেছিলেন? এর উত্তর মাকিয়াভেলির সেই ‘অন্ধ বিন্দু’ বা ব্লাইন্ড স্পট তত্ত্বের মধ্যে রয়েছে। এপস্টাইন জানতেন, এই ক্ষমতাধর পুরুষরা বাইরে যতই কঠোর হোন না কেন, পর্দার আড়ালে তারা তাদের আদিম জৈবিক ক্ষুধার কাছে দাসের মতো অসহায়। এই দুর্বলতাটিই এপস্টাইনের মতো ধূর্ত ব্যক্তিদের জন্য ব্ল্যাকমেইল করার বা প্রভাব বিস্তারের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল।
মাকিয়াভেলি যখন ইতালিতে বসে ক্ষমতার ব্যবচ্ছেদ করছিলেন, উসমানীয় সাম্রাজ্যে ক্ষমতার এক অদ্ভুত খেলা চলছিল। সুলতান সুলেমান, যাকে পশ্চিমা বিশ্ব ‘সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট’ হিসেবে চেনে, তার আমলেই হেরেম ব্যবস্থা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় । বর্তমানে টিভি সিরিয়ালের মাধ্যমে আমরা হেরেমের যে রূপ দেখি, তা অনেকখানি কাল্পনিক হলেও এর পেছনের ক্ষমতার রাজনীতি ছিল অত্যন্ত জটিল। Topkapi প্রাসাদের সেই হেরেমে ৪০০-এর অধিক কক্ষ ছিল যা ক্ষমতার দাপটকেই ইঙ্গিত করত। উসমানীয় সুলতানরা কেন শত শত দাসী রাখতেন? এটি কি কেবল যৌন আনন্দের জন্য ছিল? ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ বলছে, এটি ছিল ক্ষমতার এক নিখুঁত গাণিতিক ছক। পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে সুলতানরা ভিনদেশী রাজকন্যাদের বিয়ে করা বন্ধ করে দেন, কারণ তারা চেয়েছিলেন উত্তরাধিকারীদের ওপর যেন কোনো বিদেশি শক্তির বা প্রভাবশালী শ্বশুরবাড়ির প্রভাব না থাকে । এর পরিবর্তে তারা ব্যবহার করতেন দাসী-উপপত্নী বা কনকিউবাইন। এই নারীদের কোনো পারিবারিক পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ছিল না; তাদের পুরো অস্তিত্ব ছিল সুলতানের মর্জির ওপর নির্ভরশীল। মাকিয়াভেলির ভাষায়, এটি ছিল সুলতানের এক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতে তাকে কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক জোটের কাছে মাথা নত করতে না হয়। কিন্তু এই ব্যবস্থার মধ্যেই তৈরি হয়েছিল ‘সুলতানাত অব উইমেন’ বা নারীদের শাসন। হুররেম সুলতানের মতো ব্যক্তিত্বরা প্রমাণ করেছেন যে, যৌন আকাঙ্ক্ষাকে পুঁজি করে কীভাবে একজন দাসী থেকে সম্রাজ্ঞী হয়ে ওঠা যায় এবং সাম্রাজ্যের বড় বড় সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করা যায় । সুলতান সুলেমান তার প্রিয়তমা হুররেমের প্রভাবে নিজের বড় ছেলে শাহজাদা মুস্তাফাকে পর্যন্ত হত্যা করেছিলেন। এটিই সেই গোপন বিজ্ঞান, যা মাকিয়াভেলি বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, নারীর প্রতি আসক্তি ক্ষমতার বর্ম ছিদ্র করে ফেলে এবং রাজার বিচারবুদ্ধিকে পঙ্গু করে দেয়।
এপ্রসঙ্গে ফ্রেডরিখ নিৎসে এর কথা মনে পরলো। তিনি ছিলেন এমন একজন দার্শনিক যিনি মানব চরিত্রকে কোনো রঙ চড়িয়ে দেখতে পছন্দ করতেন না। তার মতে, মানুষের প্রতিটি কাজের পেছনে কাজ করে ‘উইল টু পাওয়ার’ (Will to Power) বা শক্তির আকাঙ্ক্ষা। তিনি মনে করতেন, মানুষ আসলে তার ভেতরকার পশুত্বকে পুরোপুরি জয় করতে পারেনি। বরং আধুনিক সভ্যতা এবং নৈতিকতা হলো সেই পশুত্বের ওপর লাগানো এক পাতলা প্রলেপ। যখন একজন মানুষ ক্ষমতার তুঙ্গে পৌঁছায়, তখন সেই পাতলা প্রলেপটি খসে পড়ে। নিৎসের ভাষায়, ‘শক্তিমান পুরুষ যখন পশু হয়ে যায়, তখনই সে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চায়’। এই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের একটি প্রধান মাধ্যম হলো যৌন আধিপত্য। নিৎসে বিশ্বাস করতেন যে, তথাকথিত ‘ভালো’ বা ‘মন্দ’ বলে কিছু নেই; যা শক্তি বাড়ায় তা-ই ভালো, আর যা দুর্বল করে তা-ই মন্দ। ক্ষমতাশালী পুরুষরা অনেক সময় যৌন লালসাকে তাদের শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেন। কিন্তু এখানেই নিৎসে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন:
“যিনি নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তিনি আসলে প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী নন”।
মাকিয়াভেলি এবং নিৎসে; দুজনই ভিন্ন ভিন্ন সময় থেকে একই সত্য উচ্চারণ করেছেন। মাকিয়াভেলি এটাকে দেখেছেন রাজনৈতিক পতনের কারণ হিসেবে, আর নিৎসে দেখেছেন চারিত্রিক শূন্যতা হিসেবে।
মাকিয়াভেলি লক্ষ্য করেছিলেন যে, ক্ষমতাবান পুরুষরা হঠাৎ করেই মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে যখন তারা কোনো নারীর স্বীকৃতি চায়। এটি এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক প্যারাডক্স। যে মানুষটি হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে, সে কেন একজন নারীর চোখের এক পলক প্রশংসার জন্য ব্যাকুল হয়? আধুনিক মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘এক্সটার্নাল লোকাস অব কন্ট্রোল’ (External Locus of Control)। যখন একজন পুরুষের আত্মমূল্য তার ভেতরের নৈতিকতা থেকে না এসে বাইরের স্বীকৃতির ওপর নির্ভর করে, তখন সে আসলে তার নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি অন্যের হাতে তুলে দেয়। মাকিয়াভেলি এমন অনেক শাসকের কথা লিখেছেন যারা তাদের রাজত্ব বা সেনাবাহিনী নিয়ে মিথ্যা বলতেন, শুধু একজন নারীর চোখে নিজেকে মহান প্রমাণ করার জন্য।
এর পেছনে আরও একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে, যাকে নিয়ন্ত্রণের ক্লান্তি বলা যায়। সারাক্ষণ ক্ষমতায় থাকা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা অত্যন্ত মানসিক চাপের কাজ। এই চাপ থেকে বাঁচতে পুরুষরা অনেক সময় এমন একটি সম্পর্কের আশ্রয় চায় যেখানে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে। যৌন আকাঙ্ক্ষা সেই পালানোর পথ বা ‘এসক্যাপিস্ট রুট’ তৈরি করে দেয়। তারা আত্মসমর্পণ করতে চায়, কারণ সারাক্ষণ জয়ী হওয়া তাদের ক্লান্ত করে ফেলে । ফ্লোরেন্সের সেই সরাইখানার নারীরা বা উসমানীয় হেরেমের দাসীরা এই মনস্তত্ত্বটি খুব ভালো বুঝত। তারা শুধু শরীর দিত না, তারা ক্ষমতাশালী পুরুষকে তার নিজের ‘ভার’ থেকে মুক্তি দিত।
প্রাচীন রোমানরা বলত, ‘ভালোবাসা হলো মনের এক অস্থিরতা।’ মাকিয়াভেলি এই কথার সাথে একমত ছিলেন, তবে তিনি এর সাথে যোগ করেছিলেন এক ভয়াবহ সত্য; এই অস্থিরতা রাজনৈতিক জীবনের জন্য মরণঘাতী। যখন একজন পুরুষ আকাঙ্ক্ষার চরম অবস্থায় থাকে, তখন তার মস্তিষ্ক ঝুঁকির বিচার করতে পারে না। ইতিহাসে আমরা দেখেছি, বড় বড় যুদ্ধ হেরে যাওয়া হয়েছে বা গোপন রাজনৈতিক গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে শুধুমাত্র একজন নারীর সান্নিধ্য পাওয়ার লোভে। মাকিয়াভেলি লক্ষ্য করেছিলেন, একজন দক্ষ প্রতিপক্ষ সবসময় একজন ক্ষমতাধর পুরুষের দুর্বল জায়গাটি খোঁজে। যদি তার জীবনে এমন কোনো নারী থাকে যার কথা সে শোনে, তবে সেই নারীই হয়ে ওঠে তার সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার ছিদ্র। আজকের ডিজিটাল যুগেও আমরা ‘হানি ট্র্যাপ’ (Honey Trap) এর কথা শুনি, যেখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সুন্দরী নারীদের ব্যবহার করে রাষ্ট্রনায়কদের কাছ থেকে তথ্য হাতিয়ে নেয়।
মাকিয়াভেলি ১৫২৭ সালে যখন মারা যান, তখন তিনি ছিলেন ফ্লোরেন্সের রাজনৈতিক জীবনের এক ব্রাত্য ব্যক্তি। তিনি যে ক্ষমতার বিজ্ঞান লিখেছিলেন, তা তাকে নিজের জীবনে কোনো সাফল্য দিতে পারেনি। তার ট্র্যাজেডি জ্ঞানের অভাব ছিল না; তার ট্র্যাজেডি ছিল জ্ঞান এবং বাস্তব পরিবর্তনের মধ্যের বিশাল ফাঁক। তিনি জানতেন নারীর প্রতি আসক্তি তাকে হাসির পাত্র করছে, তিনি জানতেন সরাইখানায় সময় কাটানো তার মর্যাদাহানি করছে, তবুও তিনি তা থামাতে পারেননি।
তার এই ব্যর্থতা থেকে আমাদের বড় একটি শিক্ষা নেওয়ার আছে। শিক্ষাটি হলো: অচেতন আকাঙ্ক্ষা একটি শিকল। আপনি যদি আপনার ভেতরের শূন্যতা সম্পর্কে সচেতন না হন, তবে বাইরে আপনি যতই ক্ষমতাধর হোন না কেন, পর্দার আড়ালে আপনি সবসময়ই কারো না কারো শিকলে বন্দি থাকবেন। মাকিয়াভেলির ক্ষেত্রে সেই শিকলটি ছিল তার নিঃসঙ্গতা এবং গুরুত্ব পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা। তিনি ইতিহাসের কাছে অপমানিত হয়েছিলেন এবং অন্তত কিছু সময়ের জন্য তিনি অনুভব করতে চাইতেন যে তিনি এখনও কাঙ্ক্ষিত।
আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিক বা বুদ্ধিজীবীদের ক্ষেত্রেও এই একই কথা খাটে। যারা নিজেদের পরিচয় কেবল বাইরের সাফল্যের ওপর বা ক্ষমতার দাপটের ওপর তৈরি করেন, তারা আসলে তাসের ঘর তৈরি করেন। যখন সেই ক্ষমতা চলে যায় বা যখন ব্যক্তিগত জীবনের কলঙ্ক সামনে চলে আসে, তখন তাদের ভেতরে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। ক্ষমতার ছায়ায় যৌনতার এই গোপন বিজ্ঞান আসলে আমাদের এক চিরন্তন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। সেটি হলো:
যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির ওপর রাজত্ব করতে পারে না, সে অন্যকে শাসন করার যোগ্যতা রাখে না।
মাকিয়াভেলি তার জীবনের শেষ দিনগুলো কাটিয়েছিলেন এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বে। একদিকে তিনি ছিলেন রেনেসাঁ যুগের শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক চিন্তাবিদ, আর অন্যদিকে ছিলেন লালসার কাছে পরাজিত এক বিধ্বস্ত বৃদ্ধ।
জেফরি এপস্টাইনের ফাইল থেকে শুরু করে হানি ট্র্যাপের ইতিহাসগুলো, সবই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের চরিত্র আসলে কয়েকশ বছরে খুব একটা বদলায়নি। ক্ষমতার দাপট বাড়লে আদিম পশুত্বের তেজও বাড়ে। নিৎসে যে ‘উইল টু পাওয়ার’-এর কথা বলেছিলেন, তা যদি নৈতিকতার বর্মে আবৃত না থাকে, তবে তা কেবল নিজের নয়, পুরো সমাজের ধ্বংস ডেকে আনে। আমাদের চারধারে যে ‘মর্দে মুজাহিদ’ বা বিপ্লবীদের আমরা দেখি, তাদের বিচারের মাপকাঠি কেবল তাদের বক্তৃতা হওয়া উচিত নয়। বরং দেখা উচিত তাদের ব্যক্তিগত জীবনে তারা কতটা সংযমী।
মাকিয়াভেলির সেই ফ্লোরেন্সের সরাইখানাগুলো আজও টিকে আছে, হয়তো ভিন্ন নামে, ভিন্ন রূপে। কিন্তু সেই সরাইখানায় পা রাখা ‘প্রিন্স’দের ভাগ্য সবসময়ই এক। তারা ক্ষমতার চূড়ায় বসেও আসলে এক অন্ধকার গহ্বরে পড়ে থাকেন, যেখান থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো নিজের ভেতরের পশুটিকে চেনা এবং তাকে বশ করা।
পরিশেষে, প্রশ্নটি আপনার কাছে রেখে যাচ্ছি; আপনার সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ আসলে কার হাতে? আপনার বুদ্ধির, নাকি আপনার অবদমিত আকাঙ্ক্ষার? মাকিয়াভেলির জীবন আমাদের শেখায় যে, ক্ষমতা পাওয়ার চেয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন, আর ক্ষমতা ধরে রাখার চেয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা আরও হাজার গুণ বেশি কঠিন। এই সত্যটি যে পুরুষ বা শাসক বুঝতে পারেন না, ইতিহাস তাকে কোনোদিন ক্ষমা করে না।
ধন্যবাদ
05/05/2026
“সিংহের মত এক দিন বাঁচা শেয়ালের মত একশ বছর বাঁচার চেয়ে শ্রেয়”— টিপু সুলতান
আজ ৪মে ঠিক এই দিনে, ১৭৯৯ সালে চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে বীরের মতো যুদ্ধ করতে করতেই শাহাদাত বরণ করেন টিপু সুলতান। ইতিহাসে “মহীশূরের বাঘ” নামে পরিচিত এই মহান শাসক শুধু একজন যোদ্ধাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, সংস্কারক এবং উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক।
টিপু সুলতানের প্রকৃত নাম ছিল ফতেহ আলী খান। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৭৫০ সালে দক্ষিণ ভারতের মহীশূর রাজ্যে। তাঁর পিতা হায়দার আলী ছিলেন মহীশূরের শক্তিশালী শাসক এবং একজন দক্ষ সামরিক নেতা। শৈশব থেকেই টিপু সুলতান যুদ্ধকৌশল, প্রশাসন ও কূটনীতির শিক্ষা লাভ করেন। পিতার সান্নিধ্যে থেকে তিনি অল্প বয়সেই যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন এবং দ্রুতই নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। ১৭৮২ সালে হায়দার আলীর মৃত্যুর পর তিনি মহীশূরের সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং শাসনভার গ্রহণ করেন।
শাসক হিসেবে টিপু সুলতান ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়চেতা ও প্রগতিশীল। তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে ভারতের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখতেন এবং তাদের বিরুদ্ধে নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যান। তাঁর শাসনামলে মহীশূর একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তিনি প্রশাসনিক সংস্কার, রাজস্বব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ মনোযোগ দেন।
টিপু সুলতানের অন্যতম বড় অবদান ছিল সামরিক প্রযুক্তিতে নবতর উদ্ভাবন। তিনি লোহার নলযুক্ত রকেট অস্ত্রের উন্নত ব্যবহার করেন, যা সে সময়ের জন্য ছিল অত্যন্ত আধুনিক। এই রকেট প্রযুক্তি ব্রিটিশদের বিস্মিত করে এবং পরবর্তীতে তারা এই প্রযুক্তি অনুসরণ করে ইউরোপে নতুন ধরনের রকেট উদ্ভাবন করে। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর কৌশল, সাহসিকতা এবং নেতৃত্বগুণ তাকে ব্রিটিশদের অন্যতম ভয়ংকর প্রতিপক্ষে পরিণত করে।
তাঁর জীবনের সঙ্গে “বাঘ” প্রতীকটি বিশেষভাবে জড়িত। কথিত আছে, একবার শিকারের সময় তিনি খালি হাতে একটি বাঘের সঙ্গে লড়াই করে তাকে হত্যা করেন, এরপর থেকেই তিনি “শের-ই মহীশুর" তথা মহীশূরের বাঘ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর সিংহাসন, রাজকীয় পোশাক, অস্ত্র এবং সামরিক পতাকায় বাঘের প্রতীক ব্যবহৃত হতো, যা তাঁর সাহস ও শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও টিপু সুলতান ছিলেন সক্রিয়। তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জোট গঠনের উদ্দেশ্যে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। যদিও সেই জোট বাস্তবায়িত হয়নি, তবুও এটি তাঁর দূরদর্শিতা ও কৌশলগত চিন্তাভাবনার প্রমাণ বহন করে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও তিনি উল্লেখযোগ্য সংস্কার সাধন করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, নতুন ক্যালেন্ডার প্রবর্তন, রেশম শিল্পের উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে মহীশূর অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়।
টিপু সুলতান নিজেকে মুসলিম বিশ্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন এবং সে সময়ে উসমানীয় খলিফা ৩য় সেলিমের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এই প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সমর্থন ও বৈধতা অর্জন করা।
তিনি ওসমানীয় দরবারে দূত পাঠান এবং চিঠির মাধ্যমে নিজের সালতানাতকে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি আশা করেছিলেন যে, খলিফার সমর্থন পেলে ভারতের মুসলিমদের মধ্যে তাঁর প্রভাব আরও বাড়বে এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, উসমানীয় সুলতান টিপুর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং তাকে সম্মানজনকভাবে গ্রহণ করেন। তবে বাস্তবিক সামরিক সহায়তা বা জোট গঠন তেমন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, কারণ সে সময় উসমানীয় সাম্রাজ্য নিজেই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল।
১৭৯৯ সালে শ্রীরঙ্গপত্তনম-এ সংঘটিত যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার ফলে মহীশূরের পতন ঘটে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিপু সুলতান যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করেন এবং বীরের মতো শহীদ হন। তাঁর এই শাহাদাত তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।
04/05/2026
🔥 পাকিস্তানের ডাবল গেম: এক চালে বাজিমাত, ট্রাম্পের অবরোধ এখন সুতার ওপর! 🇵🇰🇮🇷⛽
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের ময়দানে এখন আসল খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। একদিকে তারা যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পিসমেকার সাজছে, অন্যদিকে তলে তলে ইরানের জন্য নিজেদের স্থলপথ খুলে দিয়ে আমেরিকার ইকোনমিক অবরোধের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে! মূলত সমুদ্রবন্দরে মার্কিন অবরোধের মুখে পড়ে ইরান এখন ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। তারা স্থলপথে পাকিস্তানে তেল পাঠাচ্ছে, আর পাকিস্তান সেই তেল বিশ্ববাজারে ছেড়ে দিয়ে নিজের খালি পকেট ভরছে।
পাকিস্তানের এই ‘মাস্টারপ্ল্যানে’ যা যা ঘটছে:
ইরানের স্বস্তি: আমেরিকার অবরোধ এখন ইরানের জন্য কেবল কাগজের বাঘ; কারণ পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে তাদের বাণিজ্য সচল রয়েছে।
পাকিস্তানের লাভ: নিজেদের ভেঙে পড়া অর্থনীতি সচল করতে ইরানের তেল বিক্রি করে পাকিস্তান মোটা অংকের মুনাফা ঘরে তুলছে।
কূটনৈতিক ব্যালেন্স: পাকিস্তান এক হাতে আমেরিকার সাথে সম্পর্ক রাখছে, আবার অন্য হাতে চীন-রাশিয়া এবং ইরানের সাথে বন্ধুত্ব আরও গভীর করছে—যাকে বলে সাপও মরলো, লাঠিও ভাঙলো না!
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই সাহসী কিন্তু চতুর পদক্ষেপ ওয়াশিংটনকে বড় ধরনের অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। একদিকে ট্রাম্প ইরানকে চাপে রাখার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে আমেরিকারই মিত্র পাকিস্তান তেহরানকে লাইফলাইন দিচ্ছে। এই ‘পলিটিক্যাল গেমে’ শেষ হাসি কে হাসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়! 🍿📉
04/05/2026
আজ ৩ মে ঠিক এই দিনে, ১৪৮১ সালে ইন্তেকাল করেন ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম মহাবীর "কনস্টান্টিনোপল বিজেতা" মহান অটোম্যান সাম্রাজ্যের ক্ষমতাধর শাসক সুলতান মুহাম্মদ বিন মুরাদ আল ফাতিহ। পূর্বসূরী সকল সাহাবী ও খলিফাদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত বরকতময় শহর মাত্র ২১ বছর বয়সে সুলতান মুহাম্মদ জয় করে নেন এবং পূর্ব রোম সাম্রাজ্যের ধুলিস্যাৎ করে ইউরোপে ইসলামের নিশানকে ভু-প্রতিষ্ঠিত করেন।
ফাতিহ সুলতান উসমানীয় সাম্রাজ্যের সীমানাকে তার পিতা সুলতান মুরাদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছিলেন। তার শাসনামলে, উসমানীয় সাম্রাজ্য পূর্বে আনাতোলিয়া থেকে পশ্চিমে বলকান পর্যন্ত এবং দক্ষিণে কৃষ্ণ সাগর থেকে উত্তরে এজিয়ান সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। মৃত্যুর সময় সুলতান রোডোস দ্বীপ ও ইতালীর দিকে অভিযান পরিচালনা করছিলেন। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে আল্লাহ ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান এই মহান সুলতান।
তার মৃত্যুসংবাদে গোটা ইউরোপের খ্রিস্টান মহলগুলোতে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। গির্জাগুলোতে ঘণ্টা বাজানো হতে থাকে। ভেনিসে তার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করা হয় এই বলে,
la grande aquila e morta
"মহান ঈগলের মৃত্যু হয়েছে"
04/05/2026
ইব্রাহিম যখন ক্ষমতায় এলেন, সৌদিরা বুর্কিনা ফাসোতে শত শত নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছিল।
ট্রাওরে উত্তর দিলেন, "এটা খুবই উদারতার প্রস্তাব, কিন্তু আমাদের ইতিমধ্যেই প্রচুর মসজিদ আছে এবং আমরা নিজেরাই সেগুলো নির্মাণ করতে জানি। আপনারা যদি সত্যিই সাহায্য করতে চান, তাহলে হাসপাতাল এবং অবকাঠামো নির্মাণে অর্থায়ন করলে আমরা খুশি হব।"
এই শর্তে আগ্রহী না হয়ে সৌদিরা সরে গেল।
03/05/2026
এই ব্যাপারটাই বোঝা সবচেয়ে জরুরি। অনেক মুসলমানদেরও দেখি যে,যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় গর্ববোধ করে। একমাত্র যায়েনিস্টরাই কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও যায়োদের সফলতায় আনন্দিত হতে পারে।
03/05/2026
Squid Game Bangladesh...
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the establishment
Telephone
Website
Address
Devendro College Road
Manikganj
1800