English with Rhyme Sir
English শিখার জন্য প্রয়োজন
১.নিজের ইচ্ছা
২.সহজ কৌশল
08/05/2026
Sons and Lovers — যেন তুমি উপন্যাসটি পড়ছ
ইংল্যান্ডের কয়লাখনির ছোট্ট শহর। আকাশে ধোঁয়া জমে আছে। সন্ধ্যা নামলে খনিশ্রমিকেরা ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরে। চারদিকে কালো ধুলা, সংকীর্ণ ঘর, কঠিন জীবন—তবু মানুষের ভেতরে কোথাও ভালোবাসার ক্ষুধা রয়ে যায়।
মিসেস মোরেল জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তার চোখে গভীর অসন্তোষ। তিনি একসময় স্বপ্ন দেখেছিলেন সুন্দর, শিক্ষিত, কোমল জীবনের। কিন্তু তিনি বিয়ে করেছেন ওয়াল্টার মোরেলকে—একজন খনি শ্রমিক, প্রাণবন্ত কিন্তু রূঢ় মানুষ।
শুরুর দিকে হয়তো ভালোবাসা ছিল।
কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ভালোবাসা ঝগড়া, হতাশা আর নীরব ঘৃণায় বদলে যায়।
রাতে যখন মোরেল মাতাল হয়ে বাড়ি ফেরে, ঘরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। সন্তানরা চুপ হয়ে যায়। আর মিসেস মোরেল আরও দূরে সরে যান তার স্বামীর কাছ থেকে।
তখন তিনি নিজের সমস্ত ভালোবাসা ঢেলে দেন সন্তানদের মধ্যে।
বিশেষ করে পলের মধ্যে।
পল মোরেল ছোটবেলা থেকেই সংবেদনশীল। দুর্বল শরীর, গভীর অনুভূতি, শিল্পের প্রতি আকর্ষণ—সে যেন এই কঠোর কয়লাখনির জগতের জন্য তৈরি হয়নি। তার মা তাকে বুঝতে পারেন, উৎসাহ দেন, আগলে রাখেন।
তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে এত গভীর হয়ে ওঠে যে পলের জীবনের প্রতিটি অনুভূতির কেন্দ্রে মা বসে পড়েন।
বাইরে বসন্ত আসে। মাঠে ফুল ফোটে। কিন্তু পলের মন সবসময় কোনো অদৃশ্য বন্ধনে আটকে থাকে।
মিরিয়াম আসে তার জীবনে।
শান্ত, ধর্মভীরু, গভীর অনুভূতির মেয়ে। মিরিয়ামের সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে পলের। তারা একসঙ্গে প্রকৃতি দেখে, বই পড়ে, আত্মার কথা বলে। মিরিয়াম পলকে ভালোবাসে সম্পূর্ণভাবে।
কিন্তু পল যেন নিজেকে পুরোপুরি তাকে দিতে পারে না।
কারণ তার ভেতরে সবসময় মায়ের উপস্থিতি।
মিসেস মোরেল অনুভব করেন—মিরিয়াম যদি পলকে নিয়ে যায়, তবে তিনি একা হয়ে পড়বেন। আর পলও বুঝতে পারে না, সে প্রেম করছে নাকি শুধু মুক্তি খুঁজছে।
তাদের সম্পর্ক তাই বারবার কাছে আসে, আবার দূরে সরে যায়।
তারপর ক্লারা আসে।
ক্লারা ভিন্ন ধরনের নারী। স্বাধীন, আবেগী, শারীরিক আকর্ষণে ভরা। তার সঙ্গে পলের সম্পর্ক আরও দেহঘনিষ্ঠ, আরও বাস্তব। কিছু সময়ের জন্য পল মনে করে, হয়তো এবার সে নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।
কিন্তু সেখানেও সে পুরোপুরি শান্তি খুঁজে পায় না।
কারণ তার আত্মার গভীরে এখনও মায়ের কণ্ঠ বেঁচে আছে।
এদিকে মিসেস মোরেল ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শরীর ভেঙে যায়। ঘরের বাতাসে মৃত্যুর গন্ধ জমতে থাকে।
পল তার মায়ের পাশে বসে থাকে দীর্ঘ রাত।
তার মনে হয়—এই মানুষটিকে ছাড়া সে কিছুই নয়।
শেষ পর্যন্ত মিসেস মোরেল মারা যান।
আর তখন পল হঠাৎ ভয়ংকর এক শূন্যতার সামনে দাঁড়িয়ে যায়।
মা চলে গেছেন।
মিরিয়াম দূরে।
ক্লারাও আর তার জীবনের অংশ নয়।
চারদিকে রাত। শহরের ওপরে ধোঁয়া। দূরে খনির আলো জ্বলছে।
এক মুহূর্তের জন্য পলের মনে হয়—সে হারিয়ে গেছে।
তবু শেষ দৃশ্যে সে অন্ধকারের দিকে নয়, শহরের আলোর দিকে হাঁটতে শুরু করে। যেন জীবনের সমস্ত যন্ত্রণা, আসক্তি আর শূন্যতার মধ্যেও কোথাও বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা রয়ে গেছে।
উপন্যাসটি শুধু প্রেমের গল্প নয়। এটি মা ও ছেলের জটিল মানসিক সম্পর্কের গল্প। ভালোবাসা কীভাবে মানুষকে আশ্রয়ও দেয়, আবার বন্দিও করে—তার গল্প।
আর কয়লাখনির সেই ধোঁয়াভরা শহরের মধ্যে মানুষ যেন সারাক্ষণ খুঁজে বেড়ায়—
ভালোবাসা, স্বাধীনতা, আর নিজের সত্যিকারের সত্তাকে।
08/05/2026
The Grass Is Singing — যেন তুমি উপন্যাসটি পড়ছ
আফ্রিকার রোদ যেন মাটির ওপর আগুন ঢেলে দিয়েছে। ধুলো উড়ছে শুকনো বাতাসে। দূরে কোথাও ঘাস নড়ে উঠছে, কিন্তু সেই নড়াচড়ার ভেতরেও এক ধরনের অস্বস্তি আছে—যেন প্রকৃতি নিজেই কিছু জানে, যা মানুষ জানে না।
উপন্যাসটি শুরু হয় একটি মৃত্যুর সংবাদ দিয়ে।
মেরি টার্নার মারা গেছে।
তার কালো চাকর মোসেস তাকে হত্যা করেছে।
সংবাদপত্র খুব সংক্ষিপ্তভাবে ঘটনাটি জানায়। যেন এটি কেবল আরেকটি উপনিবেশিক অপরাধের গল্প। কিন্তু ধীরে ধীরে বোঝা যায়, এই মৃত্যুর পেছনে শুধু একজন মানুষ নয়—একটি সমাজ, একটি ভাঙা জীবন, এক গভীর নিঃসঙ্গতা দায়ী।
মেরি একসময় শহরে থাকত। স্বাধীন, হাসিখুশি, বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো আনন্দে ভরা জীবন ছিল তার। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজ তাকে অদৃশ্য চাপ দিতে থাকে। সবাই যেন এক প্রশ্নই করে—
“তুমি এখনও বিয়ে করোনি কেন?”
অবশেষে সে বিয়ে করে ডিক টার্নারকে।
ডিক স্বপ্নবাজ মানুষ। সে আফ্রিকার জমিতে সফল কৃষক হতে চায়। কিন্তু তার খামার অনুর্বর, ঋণে ডুবে থাকা, ব্যর্থতায় ভরা। সে বাস্তবতা বুঝতে পারে না; শুধু আশা করে।
মেরি যখন প্রথম খামারে আসে, তার মনে হয় সে যেন পৃথিবীর শেষ প্রান্তে চলে এসেছে।
চারদিকে নির্জনতা।
দীর্ঘ গরম দুপুর।
ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ।
আর এক অদ্ভুত নীরবতা, যা ধীরে ধীরে মানুষের ভেতর ঢুকে যায়।
সে শহরের জীবনের জন্য আকুল হতে থাকে। খামারের দরিদ্রতা, অগোছালো জীবন, অবিরাম গরম—সব তাকে ক্লান্ত করে তোলে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি তাকে ভেঙে দেয় নিঃসঙ্গতা।
ধীরে ধীরে মেরি বদলে যেতে থাকে।
সে রূঢ় হয়ে ওঠে। অস্থির হয়ে ওঠে। আফ্রিকান চাকরদের প্রতি তার আচরণ আরও কঠোর হয়ে যায়। কারণ উপনিবেশিক সমাজ তাকে শিখিয়েছে—শ্বেতাঙ্গ মানেই ক্ষমতা, আর কৃষ্ণাঙ্গ মানেই ভয় ও দূরত্ব।
কিন্তু এই ভয়ই একসময় তার জীবনের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়।
মোসেস আসে খামারে কাজ করতে।
শান্ত, শক্তিশালী, নীরব মানুষ। তার উপস্থিতিতে মেরি অদ্ভুতভাবে অস্বস্তি বোধ করে। কখনও ভয় পায়, কখনও তার ওপর নির্ভর করতে শুরু করে। তাদের সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়—ক্ষমতা, ভয়, আকর্ষণ, ঘৃণা—সব মিলিয়ে এক জটিল নীরবতা।
মেরি বুঝতে পারে না, সে আসলে কী থেকে পালাতে চাইছে।
নিজের ব্যর্থ জীবন থেকে?
নিজের নিঃসঙ্গতা থেকে?
নাকি সেই সমাজ থেকে, যা তাকে কখনো সত্যিকারের স্বাধীন হতে দেয়নি?
আফ্রিকার প্রকৃতি যেন ধীরে ধীরে তাকে গ্রাস করতে থাকে।
রাতে ঘাসের শব্দ শোনা যায়।
বাতাস বয়ে যায় শুকনো জমির ওপর।
আর মেরির মন আরও ভেঙে পড়ে।
শেষদিকে সে যেন বাস্তবতা ও আতঙ্কের মাঝখানে আটকে যায়। তার চারপাশের পৃথিবী ক্রমে অস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মোসেসের উপস্থিতি তখন আর শুধু একজন চাকরের উপস্থিতি নয়—বরং সেই সব ভয়, দমন, অপরাধবোধ ও দমিয়ে রাখা অনুভূতির প্রতীক, যেগুলো থেকে মেরি কখনো মুক্ত হতে পারেনি।
আর তারপর আসে সেই অনিবার্য রাত।
মৃত্যু যেন শুরু থেকেই অপেক্ষা করছিল।
উপন্যাসটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের গল্প নয়। এটি উপনিবেশিক সমাজের ভেতরের অসুস্থতা, বর্ণবৈষম্য, নিঃসঙ্গতা এবং মানসিক ভাঙনের গল্প।
আফ্রিকার ঘাস এখানে শুধু প্রকৃতি নয়—এক নীরব সাক্ষী।
মানুষের ভেতরের ভয়, দমন আর অন্ধকারের সাক্ষী।
08/05/2026
A Passage to India — যেন তুমি উপন্যাসটি পড়ছ
ভারতের গরম দুপুর। ধুলো উড়ছে রাস্তায়। দূরে মসজিদের গম্বুজ ঝাপসা হয়ে আছে রোদের ভেতর। চন্দ্রপুর শহর যেন দুই ভাগে বিভক্ত—একদিকে ইংরেজদের ক্লাব, আলাদা জীবন, আলাদা অহংকার; অন্যদিকে ভারতীয়দের ভিড়, কোলাহল, মাটি আর গন্ধে ভরা বাস্তব পৃথিবী।
ডক্টর আজিজ সাইকেল চালিয়ে ফিরছিলেন। প্রাণবন্ত, আবেগী মানুষ তিনি। খুব সহজেই হাসেন, আবার খুব সহজেই আহত হন। এক ইংরেজ মহিলার সঙ্গে দেখা করার তাড়াহুড়োয় তিনি মসজিদে ঢোকেন—আর সেখানেই প্রথম দেখা হয় মিসেস মুরের সঙ্গে।
মসজিদের নীরবতা ঠান্ডা। চারদিকে ছায়া। আজিজ প্রথমে বিরক্ত হন, ভাবেন—একজন ইংরেজ মহিলা নিশ্চয়ই জায়গাটার পবিত্রতা বোঝেন না। কিন্তু মিসেস মুর শান্তভাবে জুতো খুলে রেখেছেন বাইরে। তার কণ্ঠে কোনো ঔদ্ধত্য নেই।
হঠাৎ আজিজের মনে হয়—এই মহিলাটি অন্যরকম।
সেই মুহূর্তে দুজন মানুষের মধ্যে অদ্ভুত এক সংযোগ তৈরি হয়। যেন সাম্রাজ্য, জাতি, ধর্ম—সব বিভাজনের ওপরে উঠে মানুষ মানুষকে চিনে ফেলেছে।
এরপর আসে আদেলা কোয়েস্টেড। তরুণী ইংরেজ মেয়ে। সে ভারতকে “সত্যিকারে” জানতে চায়। শুধু ইংরেজ ক্লাব আর চা-পার্টির ভারত নয়—আসল ভারত। কিন্তু ভারত যেন নিজেকে সহজে কারও কাছে খুলে দেয় না।
সবকিছুই এখানে অস্পষ্ট, রহস্যময়, ধোঁয়াটে।
ইংরেজদের ক্লাবে হাসি আছে, কিন্তু আন্তরিকতা নেই। তারা ভারতীয়দের নিয়ে ঠাট্টা করে, সন্দেহ করে, নিচু চোখে দেখে। রনি হিজলপ—ম্যাজিস্ট্রেট এবং আদেলার বাগদত্তা—ধীরে ধীরে সেই ঔপনিবেশিক অহংকারের অংশ হয়ে উঠেছে। তার কাছে শাসনই সত্য, মানবতা নয়।
তবু ফিল্ডিং আলাদা। কলেজের প্রিন্সিপাল। তিনি আজিজকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন। তাদের বন্ধুত্ব যেন অন্ধকারে ছোট্ট এক আলো।
তারপর শুরু হয় মারাবার গুহায় যাওয়ার যাত্রা।
ট্রেন এগিয়ে চলে শুকনো পাহাড়ের দিকে। চারদিকে পাথর, নীরবতা, উত্তাপ। গুহাগুলো দূর থেকে রহস্যময় মনে হয়—যেন পৃথিবীর ভেতরে কোনো অন্ধকার শূন্যতা।
গুহার ভেতরে ঢুকতেই সব শব্দ বদলে যায়।
প্রতিটি কথা, প্রতিটি অনুভূতি ফিরে আসে এক ভয়ঙ্কর প্রতিধ্বনি হয়ে—
“বৌম… বৌম…”
মনে হয়, জীবনের সব অর্থ গুহার ভেতরে ঢুকে ভেঙে পড়ছে। ভালোবাসা, ধর্ম, সম্পর্ক, সৌন্দর্য—সবকিছু একই অর্থহীন প্রতিধ্বনিতে পরিণত হচ্ছে।
হঠাৎ বিশৃঙ্খলা।
আদেলা আতঙ্কিত হয়ে বেরিয়ে আসে। তারপর অভিযোগ তোলে—ডক্টর আজিজ তাকে আক্রমণ করেছেন।
এক মুহূর্তে পুরো শহর বদলে যায়।
ইংরেজরা ক্ষুব্ধ। ভারতীয়রা অপমানিত। বন্ধুত্ব ভেঙে পড়ে। আদালত, গুজব, রাগ, জাতিগত ঘৃণা—সব একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়।
আজিজ স্তব্ধ হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে না—কীভাবে সবকিছু এত দ্রুত নষ্ট হয়ে গেল। যে মানুষগুলোকে সে বন্ধু ভেবেছিল, তাদের অনেকেই দূরে সরে যায়। শুধু ফিল্ডিং তার পাশে দাঁড়ায়।
আদালতের দিন।
ঘর গরম। মানুষে ভরা। উত্তেজনায় বাতাস ভারী। সবাই অপেক্ষা করছে।
আর ঠিক তখনই আদেলা হঠাৎ বলে ওঠে—
না, আজিজ নির্দোষ।
মুহূর্তের মধ্যে সব পাল্টে যায়। মামলা ভেঙে পড়ে। কিন্তু সম্পর্কগুলো আর আগের জায়গায় ফেরে না।
আজিজের ভেতরে তিক্ততা জন্মায়। সে অনুভব করে, ইংরেজ শাসনের ভেতরে সত্যিকারের বন্ধুত্ব সম্ভব নয়। কারণ ক্ষমতা সবকিছুকে বিষাক্ত করে দেয়।
শেষদিকে ফিল্ডিং ও আজিজ আবার দেখা করে। তারা আবার বন্ধু হতে চায়। কিন্তু প্রকৃতি নিজেই যেন তাদের আলাদা করে রাখে। ঘোড়াগুলো ভিন্ন দিকে ছুটে যায়, পাহাড়, আকাশ, পথ—সব যেন বলে ওঠে:
“না, এখন নয়… এখনও নয়…”
উপন্যাসটি শুধু ভারত ও ইংল্যান্ডের গল্প নয়। এটি মানুষের মধ্যে দূরত্বের গল্প। মানুষ একে অপরকে বুঝতে চায়, কাছে আসতে চায়—তবু অদৃশ্য দেয়াল তাদের আলাদা করে রাখে।
আর ভারত এখানে শুধু একটি দেশ নয়—এক রহস্য, এক বিশাল নীরবতা, যার সম্পূর্ণ অর্থ কেউ কখনো ধরতে পারে না।
24/04/2026
Job Vocabulary
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Address
Mirpur