Primary Culture Development Centre PCDC
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Primary Culture Development Centre PCDC, Education, PCDC, Pabna Road, Ishurdi, Pabna, Pabna.
কলাম
মতামত
একটি পথ দেখানো রায় ও ফেসবুক নিয়ে ৩টি সুপারিশ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২২, ০৭: ৩০
‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে আমাদের দেশের মানুষের কাছে ফেসবুক ভীষণ জনপ্রিয়। মানুষে মানুষে যোগাযোগের অনন্য মাধ্যম ফেসবুক। মানুষ ফেসবুকের মাধ্যমে মুহূর্তে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছে, প্রতিনিয়ত দেশ–বিদেশি নানা খবরাখবর পাচ্ছে এবং নিজেকে আপডেটেড রাখতে পারছে। ফেসবুকে মানুষ তাদের আনন্দ, বেদনা, কষ্ট, ভালো লাগা, মন্দ লাগা শেয়ার করছে। নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে প্রতিদিন তরুণেরা এগিয়ে আসছেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, ব্যবসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কবিতা, গান, ফটোগ্রাফি, সিনেমাসহ নানা ক্ষেত্রে মানুষ নিজেকে সৃষ্টিশীল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষও এখন ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার করছে।
নেপোলিয়নক্যাটের হিসাবমতে, জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহার করে ৫ কোটি ২৭ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ মানুষ, যা আমাদের মোট জনসংখ্যার ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ। দিন দিন ফেসবুক, মেসেঞ্জার আরও শক্তিশালী ও প্রভাবশালী মাধ্যম হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার জায়গা রয়ে যায়। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ভালো দিকগুলোর সঙ্গে কিছু নেতিবাচক দিকও উন্মোচিত হচ্ছে। রামু কক্সবাজার, নাছিরনগর সিলেট, বোরহানউদ্দীন ভোলাতে ফেসবুককেন্দ্রিক প্রকাশিত ও প্রচারিত কনটেন্টকে কেন্দ্র করে ঘৃণা, বিদ্বেষে রক্ত ঝরেছে, মুহূর্তে আগুনে জ্বলেছে শত শত ঘরবাড়ি, তাণ্ডবে গৃহহীন হয়েছে বহু মানুষ।
কিছু দুষ্ট মানুষের অশুভ কর্মকাণ্ডে বহু নারীর জীবন দুর্বিষহ হয়েছে, হচ্ছে। তাদের ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও এই মাধ্যমে বিকৃত বা অপমানজনকভাবে প্রচার, প্রকাশ করা হয়েছে। আমাদের সমাজ, মানুষের বিশ্বাস, মূল্যবোধ, ধর্মীয় বোধ ও সংস্কৃতি, পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক রীতিনীতি উন্নত দেশের মতো করে একই নীতিতে মূল্যায়ন বাস্তবসম্মত নয়। তাই আমাদের সামাজিক ব্যবস্থা বিবেচনায় ফেসবুককে ‘পলিসি’ নিতে হবে।
কোনো সাইবার ক্রাইম হলে দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তা একত্রে উন্মোচন, উদ্ঘাটন, দমন ও শাস্তি আরোপে পরস্পর নিবিড়ভাবে ফেসবুকের সহযোগিতা কাম্য। ফেসবুকের বহু ভালো দিকের পাশাপাশি এখনো কিছু জায়গা আছে, যা আরও সুরক্ষিত ও উন্নত হতে পারে। ব্যবসার পাশাপাশি সাইবার স্পেসকে আরও নিরাপদ রাখতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দায়বোধের জায়গাও রয়ে গেছে।’
এই চমৎকার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান গত মঙ্গলবার একটি রায় দিয়েছেন। এক কিশোরীর এডিট করা নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করার মামলায় এই বিচারক আসামিকে আট বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও আট লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। রায়ে বিচারক পথ দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এসব ঘটনার ক্ষেত্রে আরও নিরাপদ থাকতে পারেন।
সার্বিক বিবেচনায় বিচারক গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সুপারিশ করেছেন। এক. ‘ফেক আইডি’ হলো সাইবার অপরাধের সূতিকাগার। একই ব্যক্তি নামে–বেনামে একাধিক আইডি খোলার ‘অপসন’ চালু রাখা সাইবার নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই ফেক আইডি প্রতিরোধে ফেসবুকের পক্ষ থেকে কার্যকর ভূমিকা কাম্য।
দুই. ফেসবুকে পোস্ট করা কোনো নারী ও শিশুর ছবি বা ভিডিও যাতে অনুমতি ছাড়া কেউ ডাউনলোড করতে না পারে, এমন সিকিউরিটি থাকতে হবে। নারী ও শিশুর ছবি বা ভিডিও বিকৃত করে কেউ যেন ফেসবুক বা মেসেঞ্জারে প্রকাশ ও প্রচার করতে না পারে বা অভব্য কমেন্ট বা শেয়ার না করতে পারে, সে জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নিরাপত্তা ফিচার জোরদার জরুরি।
‘আমাদের সমাজবাস্তবতায় যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে “ভিকটিম ব্লেমিং” বা ভুক্তাভোগী নারীকেই বেশি দায়ী করা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অপরাধকে খাটো করে দেখে, অপরাধীকে আড়াল করে রাখে এবং অপরাধকে উসকে দেয়। সামাজিকভাবে ভিকটিম একঘরে হয়ে পড়ে।’
তিন. কারও ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে, এমন কোনো কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব দ্রুত উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনে সেরূপ কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচারে বাধা দেওয়া এবং তা দ্রুত অন্তর্জাল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সাইবার ওয়ার্ল্ডকে অস্বীকার করা যাবে না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম একটি বাস্তবতা। এটা দিনে দিনে আরও বৈচিত্র্যময় হবে। তাই নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর সাইবার স্পেসের জন্য শিক্ষা, সচেতনতা, প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। সাইবার বুলিং প্রতিরোধে ফেসবুকের কাছে আরও কার্যকর ভূমিকা কাম্য। কোনটি বুলিং, কোনটি বুলিং নয়—এমন শিক্ষণীয় কনটেন্ট ফেসবুক প্রকাশ ও প্রচার করতে পারে। পাশাপাশি সিস্টেমে ‘আমি বুলিং করি না’ এমন ‘সেল্ফ ডিক্লারেসন জেনারেট’ করা উচিত, যা প্রত্যেক ব্যবহারকারী প্রতি ছয় মাস বা নির্ধারিত সময় পরপর করতে বাধ্য থাকবে, যা তাকে যত্নবান দায়িত্বশীলের মতো সুরক্ষা দেবে। ফেসবুকের উচিত নিরাপদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কীভাবে করতে হয়, অন্তর্জালে কোনটা করা যায় আর কোনটা যায় না, কমেন্ট বা শেয়ার বা ট্যাগ কীভাবে আরও নিরাপদ করা যায়, তা সহজ ভাষায় সহজভাবে শিক্ষণীয় কনটেন্ট আকারে প্রকাশ ও প্রচার করা, যাতে ব্যবহারকারীরা দায়িত্বশীল নেটিজেন হতে পারেন।
রায়ে বিচারক আরও বলেছেন, ‘আমাদের সমাজবাস্তবতায় যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে “ভিকটিম ব্লেমিং” বা ভুক্তাভোগী নারীকেই বেশি দায়ী করা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অপরাধকে খাটো করে দেখে, অপরাধীকে আড়াল করে রাখে এবং অপরাধকে উসকে দেয়। সামাজিকভাবে ভিকটিম একঘরে হয়ে পড়ে।’ তিনি আদালতের কার্যধারায় ভিকটিমের ‘কল্পনাম’ ব্যবহার করেছেন। মানুষ হিসেবে নারীর প্রতি সমাজের প্রকৃত সম্মানবোধের অভাব যৌন অপরাধের অন্যতম একটি কারণ বলে মতামত দিয়েছেন তিনি।
যখন ক্রমাগত সাইবার অপরাধ বাড়ছে, হেনস্তার শিকার হচ্ছে নারী ও তার পরিবার। সে সময় এ রায় আমাদের পথ দেখায়।
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ: প্রথম আলোর সাংবাদিক
01/07/2022
বাংলাদেশ
ধর্মীয় উগ্রবাদ
সামাজিক মাধ্যমে উগ্রবাদ প্রচার, বিভ্রান্ত মানুষ
দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশে উগ্রবাদী বক্তব্যের পাঠক-শ্রোতা-দর্শক ক্রমশ বাড়ছে। মানুষ না জেনে, না বুঝে সামাজিক মাধ্যমে এসব তথ্য শেয়ার করছে।
গত বছর ১০টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০৫৩টি চ্যানেলে উগ্রবাদী তথ্য প্রচার
এসব চ্যানেলের গ্রাহক এখন ১ কোটি ১১ লাখ
জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম বেশির ভাগ চ্যানেল চালাচ্ছে
শেখ সাবিহা আলমঢাকা
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২২, ২৩: ০৫
সামাজিক মাধ্যমে উগ্রবাদ প্রচার, বিভ্রান্ত মানুষ
বাংলাদেশে উগ্রবাদী বক্তব্যের পাঠক-শ্রোতা-দর্শক ক্রমশ বাড়ছে। তরুণদের একটি বড় বাঙালি বা বাংলাদেশি পরিচয়ের চেয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত হতে স্বচ্ছন্দ বোধ করছে বেশি। এতে সামাজিক অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। বাঙালির উদার ও অসাম্প্রদায়িক চরিত্র মুছে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশে কর্মরত দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলা হয়েছে। তারা ঘনিষ্ঠভাবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে থাকে। স্পর্শকাতর তথ্য বিবেচনায় সংস্থা দুটি নাম প্রকাশ করতে চায়নি।
উগ্র মতাদর্শের প্রচার কতটা বেড়েছে, প্রতিবেদনের তথ্যে তার কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। এতে বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১ হাজার ৫৩টি চ্যানেল ব্যবহার করে উগ্রবাদী তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এসব চ্যানেলের গ্রাহক এখন ১ কোটি ১১ লাখ।
উগ্রবাদী এসব চ্যানেলে প্রচারিত ৫৮৪টি পোস্টে ২৯ লাখ মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চ্যানেলের সংখ্যা ছিল ৯১৩টি, গ্রাহক ছিল ১ কোটি ৪ লাখ। এসব চ্যানেলের বেশির ভাগ চালাচ্ছে আল-কায়েদার অনুসারী জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। মানুষ কখনো কখনো না জেনে, না বুঝে এসব চ্যানেলের তথ্য শেয়ার করছে।
আরও পড়ুন
এমন বিয়োগান্ত ঘটনা যেন আর না হয়
ইতো নাওকি
পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপে হামলা, শিক্ষার্থীদের হাতে মুন্সিগঞ্জে বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে হেনস্তা, ঢাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষিকাকে টিপ নিয়ে পুলিশ সদস্যের কটূক্তি ও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিপ নিয়ে অপপ্রচার, নরসিংদীতে পছন্দমতো পোশাক পরায় নারীকে মারধর, নড়াইলে কলেজশিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছনা—এই সবই এক সুতায় গাঁথা। এর পেছনে অসহিষ্ণুতা ও উগ্র মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান প্রথম আলোকে বলেন, অসহিষ্ণুতা ও ধর্মীয়, রাজনৈতিক উগ্রবাদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর থেকে মুক্তি পেতে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন দরকার। সমাজ থেকে এই সংস্কারের সূত্রপাত হতে হবে। ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া সংস্কারে কাজ হবে না।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি এখন কেবল অনলাইনকেন্দ্রিক। তবে তরুণেরা এখন সচেতন। অপপ্রচার চালানোর পরও জঙ্গিগোষ্ঠীতে তারা যুক্ত হচ্ছে না, সহিংসতায় জড়াচ্ছে না। দেশজুড়ে সিটিটিসির চালানো সচেতনতামূলক কার্যক্রমের একটা প্রভাব পড়ছে।
প্রচারের বিষয়, প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদনে বলা হয়, উগ্রবাদী এসব চ্যানেলে আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের খবর, ভারত ও হিন্দু জনগোষ্ঠী, কাশ্মীর পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, নারীবাদ, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারবিরোধী প্রচার।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দুর্গাপূজা সামনে রেখে ভারত ও হিন্দু জনগোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আলোচনা বেড়েছে।
আরও পড়ুন
পেপারবুক প্রস্তুত, অপেক্ষা শুনানির
হোলি আর্টিজানে ২ জুলাই সকালে অভিযান শেষ করার পর সেনাবাহিনীর অবস্থান
সামাজিক মাধ্যমে উগ্রবাদ প্রচার, বিভ্রান্ত মানুষ
উগ্রবাদী চ্যানেল থেকে এ সময় যত আধার প্রচারিত হয়েছে, তার ৬০ ভাগই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি দেশ ও দেশের বাইরের মুসলমানদের উসকে দিতে এই সময়কে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনে মাঠের পরিস্থিতি ও অনলাইনে উগ্রবাদীদের তৎপরতার একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। যেমন গত বছরের ১৩-১৭ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলায় পূজামণ্ডপে ভাঙচুর চালানো হয়। ঠিক ওই সময়ে অনলাইনে হিন্দুবিদ্বেষী বার্তার সংখ্যা শীর্ষে পৌঁছায়। টানা পাঁচ দিন ধরে চলা সহিংসতার জন্য হিন্দুরাই দায়ী—অনলাইনে এমন অপপ্রচার ছড়ানো হয়।
এর কয়েক দিন পর গত বছরের ২২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত কনসার্টে ‘মেঘদল’-এর জনপ্রিয় একটি গানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে প্রচার চালানো হয়। মেঘদলকে ইসলাম অবমাননার জন্য দায়ী করে পোস্ট করা হতে থাকে। পোস্টগুলোতে গানের মাধ্যমে মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে—এমন একটা দৃশ্যপট তৈরির চেষ্টা হয়।
গত বছরের ১১ ও ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৫ জন নিহত হন। ৩০ নভেম্বর আনসার আল ইসলাম পরিচালিত একটি চ্যানেলের ভিডিও বার্তায় বলা হয়, গণতন্ত্র মুসলমানদের দাসত্বের শৃঙ্খলে বাঁধার একটি মাধ্যম। একইভাবে বুয়েটের আবরার হত্যার রায় ঘোষণা ও অভিজিৎ রায়ের হত্যা সম্পর্কে তথ্য চেয়ে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘোষণা নিয়ে আনসার আল ইসলাম নিজস্ব মত প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন
ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সেই দিন আজ
২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়
প্রতিবেদনে বলা হয়, উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদকে উসকে দেয়, এমন চ্যানেলগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানতে পারছে না। অনেকে না বুঝে এসব চ্যানেলে প্রচারিত তথ্যে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন বা শেয়ার করছেন।
যেমন তামিম আল আদনানী ‘অভিশপ্ত নারীবাদের ধূর্ত ফেরিওয়ালা’ শিরোনামে নারীবিদ্বেষী বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে নারীশিক্ষা, নারীর স্বাধীনতা, নারী-পুরুষ সমতার পক্ষে আছে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কথা বলেন তিনি। অনেকের মতো তাঁর এই ভিডিও শেয়ার করেছে পুরুষ অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম নামের একটি প্ল্যাটফর্ম।
সিটিটিসি সূত্র বলছে, তামিম আল আদনানী এই মুহূর্তে আনসার আল ইসলামের অন্যতম বক্তা। কয়েক বছর ধরে তিনি আত্মগোপনে।
বাঙালির উদার ও অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ঝুঁকিতে
‘আইডেনটিটি, আইডেনটিটি পলিটিকস অ্যান্ড ইলেকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার। ২০১৮ সালের মধ্য জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই গবেষণায় বলা হয়, লিঙ্গ, সামাজিক ও ভৌগোলিক অবস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ধর্মভেদে সিংহভাগ তরুণ-তরুণী বলেছেন, তাঁরা ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত হতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।
গবেষণায় ঢাকা মহানগর, রংপুর ও বরিশাল সিটি করপোরেশন, নীলফামারী ও ঝালকাঠি জেলা, কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা, রাজশাহীর পবা উপজেলা, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খেদাপুরি ইউনিয়ন, নেত্রকোনার কাইলাতি, মৌলভীবাজারের পূর্ব ও পশ্চিম জুড়ি, জাফরনগরের নারী-পুরুষেরা অংশ নেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া ২০৮ ব্যক্তির মধ্যে ১৪৫ জনই ধর্মীয় পরিচয়কে এক নম্বরে রেখেছেন।
শান্তনু মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, মানুষ বহুপরিচয়ের। একটিমাত্র পরিচয় দিয়ে নিজেকে বা নিজেদের পরিচিতি করানো ঝোঁক দেখা দিলে সমাজে অবধারিতভাবে ‘আমরা’ ও ‘তারা’ দুটি পক্ষ তৈরি হয়। ধর্মের ভিত্তিতে দুটি পক্ষ হওয়ায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ভিন্ন ধারার মানুষ কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছে।
শান্তনু মজুমদার আরও বলেন, এই উপমহাদেশে ঘৃণা সৃষ্টিকারীদের আরেকটি কৌশল হচ্ছে ধর্মীয় সংখ্যাগুরুর মনে লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-অপমানিত হওয়ার কতগুলো ভিত্তিহীন ক্ষোভ চাগিয়ে তোলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবিধা নিয়ে এই অপশক্তি এই অপপ্রচারটিই চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
বিশেষ সংবাদজঙ্গি হামলাজঙ্গিবাদগুলশানে হামলাসামাজিক যোগাযোগ
সামাজিক মাধ্যমে উগ্রবাদ প্রচার, বিভ্রান্ত মানুষ বাংলাদেশে উগ্রবাদী বক্তব্যের পাঠক-শ্রোতা-দর্শক ক্রমশ বাড়ছে। তরুণদের একটি বড় বাঙালি বা বাংলাদেশি পরিচয়ের চেয়ে .....
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the school
Website
Address
PCDC, Pabna Road, Ishurdi, Pabna
Pabna
6520