Rita Rani Roy
Hi, Friends . I am a simple Girl. I love my mom, Dad & My Bro .
06/04/2020
I proud or you ...........
এদের #মানবিকতা দেখুন-----
পুরোটাই পড়ুন না পড়লে অনেক কিছু করবেন ,
#হানিফ_কালুরাই_এই_বাংলাদেশের_মানবিকতার_পরিচয়_দিলেন ,
, Every your
নিজস্ব প্রতিবেদক, Kaligonj News24
০৫ এপ্রিল ২০২০, অনলাইন সংস্করণ,
#স্টেশনে সুনসান নীরবতা। তবে আলোর কমতি নেই। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে অর্ধনগ্ন এক নারী ভাত খাচ্ছেন। ভাত কোথা থেকে পেলেন- সেই কৌতুহলেই কাছে যাওয়া। কিছু সময় দাঁড়ানোর পর মাঝ বয়সী এক ব্যক্তি ওই নারীকে বলছিলেন কাছে একটা জায়গায় হাত-মুখ ধুয়ে পলিথিনটা যেন নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলেন।
মাঝ বয়সী ব্যক্তির নাম মো. #কালু_মিয়া। জানতে চাইলে পরিচয় দিলেন, ‘আমি #মিস্টার_কালু। বাংলায় মোহাম্মদ #কালু। সবাই আমাকে কালু মিয়া হিসেবেই চেনে। আমি প্রাইমারি নট পাস হলেও কিছু কিছু ইংরেজি বলতে পারি।’
#কালু মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে বলতে বেরিয়ে এলো এক #মানবিক_বাংলাদেশের কথা। স্থানীয়ভাবে ‘ #লিলি_পাগলী’ নামে পরিচিত ওই অর্ধনগ্ন নারীকে তিনিই ভাত খেতে দিয়েছেন। রিকশাচালক #হানিফ মিয়া তাকে যে খাবারটুকু দিয়েছিলেন সেখান থেকেই বেশ অর্ধেকটা ওই পাগলীকে দিয়েছেন। সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ওই নারী খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলেই #কালু মিয়ার এ মানবিকতা।
নুন আনতে পান্তা ফুরায় #হানিফ মিয়ার। অথচ ওই ব্যক্তিই কিনা করোনা পরিস্থিতিতে গত চার-পাঁচদিন ধরে #মানবসেবা করে যাচ্ছেন। অর্ধহারে অনাহারে থাকা কর্মহীন ও আয় না থাকা ১৫ জনকে তিনি নিজে রান্না করে খাওয়াচ্ছেন। শুক্রবার তিনি নিজে বাড়িতে আলু ভর্তা আর ডাল-ভাত খেলেও অসহায়দের খাইয়েছেন #মুরগির_মাংস, পুঁইশাক ও ডাল।
শুক্রবার রাত নয়টার দিকে #ব্রাহ্মণবাড়িয়ার_আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় মানবিকতার এমন বাস্তব ‘গল্প’। যে গল্প থেকে শেখার কিংবা জানার আছে অনেক কিছু। #হানিফদের এ কর্মকাণ্ড মোবাইল ফোন কিংবা ক্যামেরার ফ্রেমে বাধা পড়ে না ?
কথা হলে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) #তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, ‘এই মানুষগুলোই (হানিফ, কালু) হতে পারে মানবিকতার অন্যতম উদাহরণ। তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজের #বিত্তবানদেরও উচিত এগিয়ে আসা।’
কালু মিয়া এ প্রতিবেদককে নিয়ে যান #হানিফের বাড়িতে। স্টেশন থেকে #আধা কিলোমিটারের বেশি পথ হেঁটে যেতে হয় রেললাইন ধরে। হানিফ মিয়ার বাড়ি সামনে ঘুটঘুটে অন্ধকারের এক ভূতুড়ে পরিবেশ। স্থানীয় এক ব্যক্তির পাশাপাশি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে থাকা #পলাশ সাহা, #জীবন লাল চৌহান, #আশীষ সাহা সহযোগিতা করলেন পথ চলতে।
আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রামের তালপট্টিতে #খোরশেদ মিয়ার বাড়ির একটি ঘরে ৮০০ টাকা ভাড়ায় থাকেন হানিফ মিয়া। প্রায় ১৫ বছর ধরে থাকেন আখাউড়ায়। গ্রামের বাড়ি #নোয়াখালী জেলার #বেগমগঞ্জ থানার পাশেই।
সংসারে মা, স্ত্রী, তিন সন্তানসহ মোট #ছয়জন। এক সন্তান চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। বাকিরা বড়। রিকশাচালক হানিফের প্রতিদিনের আয় ছয় থেকে সাতশ’ টাকা। সেই টাকা দিয়ে নিজের সংসার খরচ জোগানোই হিমশিম হয়। এখন আবার তিনি স্টেশনে থাকা ছিন্নমূল অসহায়দের খাওয়ানোর মত মহৎ কাজ করে যাচ্ছেন।
হানিফ মিয়া বলেন, ‘রিকশা নিয়ে তো প্রায়ই স্টেশনে যাই। আমি দেখি যে স্টেশনে থাকা মানুষরা যে কি ধরণের #অসহায়। সেই চিন্তা থেকেই আমি একদিন পরপর অন্তত ১৫ জনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছি। িন নামে একজনের দেয়া চারশ’ টাকা ও নিজের পকেট থেকে আর তিনশ’ টাকা দিয়ে #শুক্রবার রাতে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করি।’
মা #রুবি আক্তার ছেলের কর্মকাণ্ডে বেশ খুশি। স্ত্রী ইয়াছমিনও আপত্তি তুলেন না। কথা হলে তারা বলেন, ‘এটা তো ভালো কাজ। যেহেতু তার মন চাইছে সে করতে থাকুক। আমরা এতে কষ্ট করলেও মনে কোনো কষ্ট থাকবে না।’
খোরশেদ মিয়ার বাড়ির কেয়ারটেকার #নুরুন্নাহার বেগম বলেন, ‘হানিফ খুবই ভালো ছেলে। কয়দিন ধরে সে নিজেই রান্না করে অসহায়দের খাওয়াচ্ছে। হানিফের এমন কাজ দেখে মন চায় সাহায্য করি। তবে সামর্থ নাই বলে পারছি না।’
প্রতিবেশি কৃষক মো. #একলাছ মিয়া বলেন, ‘হানিফকে দেখলে বোঝা যায় যে গরিবেরও ভালো মন আছে। তার এ কাজে আমরা সবাই খুশি। হানিফের মতো যদি সমাজের সবাই সামর্থ অনুযায়ী এগিয়ে আসতো তাহলে অসহায় মানুষদেরকে কষ্ট করতে হবে না।’
‘ #আমরা_৯৫’ নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদক হানিফের হাতে ১০ জনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করার জন্য নগদ টাকা তুলে দেন। তার এ মহৎ কাজে পরবর্তীতে আরো আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয় তখন। সানন্দে টাকা গ্রহণ করে নিজের সামর্থ অনুযায়ী অসহায়দের পাশে থাকার কথা জানান হানিফ।
টাকা দেওয়ার কথা বলতেই মুখ ফিরিয়ে উল্টো পথে হাঁটতে লাগলেন #কালু_মিয়া। জানালেন, স্টেশনে থাকেন। তবে আত্মসম্মানবোধ কমে যায়নি। এভাবে তিনি হুট করেই কারো কাছ থেকে টাকা নেবেন না। কাউন্সিলের দেওয়া সহায়তাও তার মেয়ে (ছেলে বৌ) আনতে যান নি লজ্জায়।
হানিফ মিয়ার তার ছেলে বৌ #হাবিবাকে মেয়ে বলেই ডাকেন। বড় ছেলে আকাশ কাঠের মিস্ত্রি ও ছোট ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। আখাউড়া-আগরতলা সড়কের টিএন্ডটির পাশে একটি বাসায় ভাড়া থাকেন তারা। তবে এক ঘরে জায়গা হয় না বলে #স্টেশনেই রাত কাটান #কালু মিয়া।
হানিফ মিয়ার বাড়ি থেকে ফেরার পথে কথা হলে বলতে লাগলেন পারলে যেন তার ছেলেদের গিয়ে দেখে আসি। কোনো সহযোগিতার দরকার নেই। স্টেশনে থাকা একজন ভবঘুরের সন্তানরা যে কেমন হতে পারে কিংবা কত ভালো হতে পারে সেটা দেখে আসার অনুরোধ করেন তিনি।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dist: Panchagarh, Thana: Debiganj, Vill: Kaliganj ( Sotapara )
Panchagarh
5020