AJUC
Collect money from investor and provide loan to the customer.
এক সময় ছিল যখন মানুষ চাকরি বলতে সরকারী চাকরিকেই বুঝত। কোম্পানি চাকরিকে তেমন প্রাদান্য দিত না। আবার গ্রাম অঞ্চলে এমনও দেখা যেত ছেলে কোম্পানিতে চাকরি করলে তার কাছে মেয়ে বিয়ে দিতেও ইতস্তবোধ করত।
দুই হাজার সালের পরে দেখা গেছে, কিছু বছর মানুষ শুধু এস এস সি পাস করেই আর্মির চাকরির পেছনে দৌড়াচ্ছিল, যদিও এখন এই চাকরির তেমন সাড়া নেই। এ গেলো সরকারী চাকরির কথা, এবার আসি কোম্পানি চাকরির কথা। কিছু দিন মানুষ ব্যাংকের চাকরির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল, এখনো কিছুটা প্রভাব তার রয়েই গেছে।
এবার আসুন একটু অন্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলি, মেয়ের পরিবার যখন মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজে তখন তাদের প্রথম চয়েজ থাকে ছেলে সরকারী চাকুরীজীবী হতে হবে, দ্বিতীয় চয়েজ ছেলে ব্যাংকার, তৃতীয় চয়েজ ছেলে চাকুরীজীবী হলেই চলবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যে সব পরিবারে চাকুরীজীবী লোক নেই তারাই এমনটি আশা করে থাকে। কারন তারা বুঝেনা যে চাকরী কি জিনিস।
এতসময় ধরে যা বললাম তার শিকার হচ্ছে নিন্মবিত্ত অথবা নিন্মমধ্যোবিত্ত পরিবার গুলো। এবার বলি মধ্যোবিত্ত বা উচ্চমধ্যোবিত্ত পরিবারের কথা। এসব পরিবারগুলো আর্মি চাকরী, ব্যাংকের চাকরী অথবা চাকুরীজীবী লোকের হাতে মেয়ে তুলে দিতে রাজীই হন না, আমার মনে হয় এরা বুঝে চাকরী কি জিনিস। কারন তারা জানে চাকরীর খাঁটি বাংলা অর্থ হচ্ছে অন্যের গোলামি করা। নিজের স্বাধীনতাকে বিক্রি করা।
অনেক আগে গ্রামে গঞ্জে বাড়ির গরু পালনের জন্য অথবা বাড়ির কাজকর্ম করার জন্য ধনী বাড়িগুগোতে কাজের ছেলে রাখা হতো যাদেরকে বলা হতো বারোমাইসা কামলা বা চাকর। বারোমাইসা কামলা বা চাকর বলার পেছনের কারন, তারা ছিল অশিক্ষিত, নিজেদের নামও লিখতে পারতোনা। আর বর্তমানে যারা বারোমাইসা কামলা দেয় তাদেরকে বলা হয় চাকুরীজীবী, কারন এরা শিক্ষিত, নিজেদের নাম ইংলিশেও লিখতে পারে।
বর্তমানে সেই ধনীবাড়িগুলো যারা বারোমাইসা কামলা রাখতো, তারা এখন কোম্পানি খুলে ফেলেছে আর সেই বারোমাইসা কামলাগুলো এখন সেই কোম্পানিতে বারোমাইসা কামলাগীরি করছে, মানে চাকরী করছে (চাকুরীজীবী)। শুধু মাত্র স্থান এবং নামের পরিবর্তন এটাই শিক্ষিত হওয়ার গুন। যদি এরা শিক্ষিত না হতে পারতো তাহলে সারা জীবন এদেরকে বারোমাইসা কামলা বলেই ডাকতো।
আর ঐ সময় যারা ধনীও ছিলনা আবার বারোমাইসা কামলাগীরিও করতনা, মানে গেরস্তগীরি করত। তারাও কিন্তু এখন শিক্ষিত, কারন বারোমাইসা কামলারা যখন শিক্ষিত হয়ে গেছে তখন তারা শিক্ষিত না হলে কেমন দেখায়। যখন বারোমাইসা কামলাদের নাম পরিবর্তন হয়ে চাকুরীজীবী হয়ে গেলো তখন গেরস্তদেরও নাম পরিবর্তন হয়ে ব্যাবসায়ী হয়ে গেলো, কারন এরাওতো শিক্ষিত।
তাই সেই সময় মেয়ে বিয়ে দিতে গেলে কখনোই বলতো না যে মেয়ের জন্য চাকুরীজীবী মানে বারো মাইসা কামলাগীরি ছেলে চাই। তখন শুধুই মেয়ের জন্য গেরস্ত ছেলেই খুঁজতো। কিন্তু বর্তমানে কিছু কিছু লোক শিক্ষিত হয়েও, গেরস্তর চেয়ে বারোমাইসা কামলাগীরিদের মানে ব্যবসায়ীদের চেয়ে চাকুরীজীবীদেরকে সুখি মনে করে, এই বিষয়টার ব্যাখ্যা আমি খুঁজে পেলাম না। আর এজন্যই মেয়েকে সুখি রাখার জন্য পরিবার সুখি ছেলে মানে চাকুরীজীবী ছেলে খুঁজে। এটাও মনে হয় শিক্ষিত হওয়ার গুন তাইনা বন্দুরা???
আরে ভাই বারোমাইসা কামলাগীরি মানে চাকরী করে যে টাকা রোজগার করা যায় তার চেয়ে বেশী টাকা ব্যবসায়ীরা রোজগার করে। একথা বললাম এ কারনে আপনিতো মনে করেন টাকাতেই সুখ তাইনা? তাহলে টাকা ব্যবসায়ীদের কাছেই বেশী। আর যদি মনে করেন না টাকাতে সুখ নেই শান্তিতেই সুখ, তাহলে বলবো চাকুরীজীবীদের চেয়ে ব্যবসায়ীরাই বেশী শান্তিতে আছে।সে সরকারী বা ব্যাংকের চাকরী যাই হোক না কেন। আপনার বিশ্বাস না হয় আপনি দুটোই করে দেখেন। শুধু যদি চাকরী করেন তাহলে চাকরী এবং ব্যবসা দুইটা তুলনা করতে পারবেন না। আবার যদি শুধু ব্যবসা করেন তাহলেও পারবেন না। তখন আপনার কাছে মনে হবে চাকুরীজীবীরাই সুখে আছে, আমার চেয়ে বেশী টাকা তারাই রোজগার করছে।
আরে ভাই, আমাদের এলাকার লালমিয়া প্রামানিক রাজমিস্ত্রির কাজ করেই চাকুরীজীবীদের চেয়ে বেশী টাকা রোজগার করে। তাহলে টাকার জন্য চাকরী করবেন কেন রাজমিস্ত্রির কাজই করেন। রাজমিস্ত্রির কাজ অনেক কষ্টের এইটা ভাবতেছেন? তাহলে একবার ভাবুন চাকরী কত কষ্টের!
প্রকৃতপক্ষে সুখির দিক দিয়ে, টাকার দিক দিয়ে, সন্মানের দিক দিয়ে, শিক্ষিতের দিক দিয়ে, সাংসারিক দিক দিয়ে যে দিকই বলুলনা কেন সব দিক দিয়েই ব্যবসায়ীরাই আগানো। যদিও আজ সুখির দিক দিয়ে এবং টাকার দিক ছাড়া অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারলাম না। আবার সময় পেলে বলবো।
তাই সকল বন্দুদেরকে বলতে চাই, যে যাই বলুক তুমি ব্যবসা শুরু করো, হোক ছোট ব্যবসা। আজ যদি আমার সব বন্দুরা ব্যবসা শুরু করো তাহলে এমন একসময় আসবে যখন সরকারী চাকুরীজীবীর জন্যও এলাকায় খুঁজে বেড়াতে হবে, যেমন ১৯৯০ সালের দিকে হয়েছিল। এলাকায় বৃদ্ধ লোক থাকলে তাদের কাছ থেকে শুনতে পারবা ঐ সময় চাকরী দেওয়ার জন্য লোক খুঁজা হতো, কিন্তু চাকরী করার মত লোক পাওয়া যেত না। এমনকি যখন আর্মিতে লোক নেওয়া হতো তখন মাঠে লোকই পাওয়া যেত না।
আজকের বর্তমান অবস্থার জন্য কিন্তু আমরাই দায়ী, তার কারন, আমরা বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রী কমার্স নিয়ে লেখাপড়া করছি, অথচ চিন্তা করি কি চাকরী করবো! ব্যবসা শাখায় লেখাপড়া করে যদি চাকরী করতে হয় তাহলে আজকের অবস্থার জন্য আমরা দায়ী না তো কারা দায়ী?? আজ ছোট বা মাঝারী ব্যবসায়ীদেরকে সন্মানই দেওয়া হচ্ছে না কেন? কারন ব্যবসাশিক্ষা শাখার স্টুডেন্টরা ছোট বা মাঝারী ব্যবসা না করে অন্যের চাকরী করে দিচ্ছে। যদি আজ ছোট বা মাঝারী ব্যবসা আমরা হাতে তুলে নিতাম তাহলে এই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। যাদের চাকরী করার কথা ছিল তারা কিনা হাল ধরেছে এই ছোট এবং মাঝারী ব্যবসায়ের! দিক্ষার জানাই আমি সেই সব স্টুডেন্টদেরকে যারা ব্যবসা শাখার ছাত্র হয়ে অন্যের গোলামি করছে।
কারো মনে কষ্ট লেগে থাকলে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত! ব্যবসায়ের বিভিন্ন টিপ্স পেতে আমাদের সাথে থাকুন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Telephone
Website
Address
Tangail
1976
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 17:00 |
| Tuesday | 09:00 - 17:00 |
| Wednesday | 09:00 - 17:00 |
| Friday | 09:00 - 22:00 |
| Saturday | 09:00 - 22:00 |
| Sunday | 09:00 - 17:00 |