IQRA Bismi Rabbika
This is an Islamic page where you will be able to increase your knowledge of the miraculous Quran and Hadith InShaaAllah.
08/04/2025
২৫৭. যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিঁনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে।
সূরাঃ আল বাক্বারাহ।
05/19/2025
মুসলিম ২/৬৩২, হাদীস নাম্বারঃ ৯১৮
মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু মানুষের দুনিয়ায় আসার মাধ্যম হচ্ছে মা-বাবা। তাই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের পর মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁদের সঙ্গে সর্বোচ্চ শিষ্টাচার বজায় রাখতে হবে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না। তোমরা মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৬)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘অতএব তুমি আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। (মনে রেখো, তোমার) প্রত্যাবর্তন আমার কাছেই।
মা-বাবা সব মানুষের কাছে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। তাঁদের সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে এবং তাঁদের সঙ্গে নম্র-ভদ্র আচরণ করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমার রব আদেশ করেছেন যে তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো উপাসনা কোরো না এবং তোমরা মা-বাবার প্রতি সদাচরণ করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়ে যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হন, তাহলে তুমি তাদের প্রতি উহ শব্দটিও বোলো না এবং তাদের ধমক দিয়ো না।
মা-বাবা সর্বদা সন্তানের কল্যাণ কামনা করেন। সন্তান কখনো তাঁদের চোখের আড়াল হলে তাঁরা চিন্তিত থাকেন। এ জন্য সন্তানের কর্তব্য হচ্ছে কোথাও গেলে তাঁদের জানিয়ে এবং তাঁদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে যাওয়া। এ মর্মে একটি হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর কাছে এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করল। তখন তিনি বলেন, তোমার মা-বাবা জীবিত আছেন কি? সে বলল, হ্যাঁ। নবী করিম (সা.) বলেন, তবে (তাদের খেদমতের মাধ্যমে) তাদের মধ্যে জিহাদের চেষ্টা করো।’ (বুখারি, হাদিস : ৩০০৪)
মা-বাবার সঙ্গে শালীনতা বজায় রাখার অন্যতম দিক হচ্ছে, তাঁদের সঙ্গে রাগান্বিত হয়ে কখনো কথা না বলা। কেননা এতে তাঁরা কষ্ট পান। আর মনঃকষ্টের কারণে তাঁরা সন্তানের বিরুদ্ধে কোনো বদদোয়া করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়—১. মা-বাবার দোয়া, ২. মুসাফিরের দোয়া, ৩. মজলুমের দোয়া। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯০৫)
মা-বাবার জীবদ্দশায় তাঁদের সঙ্গে যেমন সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, তেমনি তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের মুসলিম বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রাখতে হবে। এ মর্মে হাদিসে এসেছে, ‘সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার হলো কোনো ব্যক্তির পিতার মৃত্যুর পর তার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সদ্ভাব রাখা।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৫২)
মা-বাবা মৃত্যুবরণ করলেও তাঁদের প্রতি সন্তানের কর্তব্য শেষ হয়ে যায় না। বরং তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের জন্য দোয়া করা সন্তানের অন্যতম কর্তব্য। আল্লাহর শেখানো দোয়া পবিত্র কোরআনে এসেছে—‘বলো, হে আমার রব! তুমি তাদের প্রতি দয়া করো যেমন তারা আমাকে ছোটকালে দয়াবশে প্রতিপালন করেছিলেন।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৪)
মা-বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের কবর জিয়ারত করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর মায়ের কবর জিয়ারত করেন। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.) একবার নিজের মায়ের কবরে গেলেন। সেখানে তিনি নিজেও কাঁদলেন এবং তাঁর আশপাশের লোকদেরও কাঁদালেন। তারপর বলেন, ‘আমি আমার মায়ের জন্য মাগফিরাত কামনা করতে আল্লাহর কাছে অনুমতি চাইলাম। কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো না। তারপর আমি আমার মায়ের কবরের কাছে যাওয়ার অনুমতি চাইলাম। আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো। তাই তোমরা কবরের কাছে যাবে। কারণ কবর মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩২৩৪)
মা-বাবা অপমানিত হয়—এমন কোনো কাজ করা এবং যেসব কাজের কারণে তাঁদের গালি দেওয়া হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। এ মর্মে হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘কবিরা গুনাহসমূহের অন্যতম হলো নিজের মা-বাবাকে গালি দেওয়া। তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! নিজের মা-বাবাকে কোনো মানুষ কিভাবে গালি দিতে পারে? তিনি বলেন, সে অন্যের পিতাকে গালি দেয়, তখন সে তার পিতাকে গালি দেয় এবং সে অন্যের মাকে গালি দেয়, তখন সে তার মাকে গালি দেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৩)
মহান আল্লাহ আমাদের মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করার তাওফিক দান করুন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the place of worship
Telephone
Address
1710 Hodgson Place NW, Edmonton AB. T6R 3R6
Edmonton, AB
EDMONTON AB. T6R 3R6