Atanu Das Gupta
Atanu Das Gupta is a writer, poet lives in Nova Scotia, Canada
08/13/2025
এনআরবি টিভি Weekly Bangla Mail ✍️🍁
কানাডীয় বাঙালি সাহিত্য উৎসব ২০২৪ - প্রবন্ধসাহিত্য পর্ব ৪
(মূল ভিডিও কমেন্টে)
২০২৪ সালের জুলাই মাস। ক্যালেন্ডারের পাতায় ২০ তারিখ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আভাস তখনও কতজন ঠাহর করতে পেরেছিলেন তা বলা কঠিন। পৃথিবীর অপর প্রান্তে একই সময়ে কানাডার টরেন্টোতে আমরা সম্মিলিত হয়েছিলাম সাহিত্য উৎসবে। বহুমুখী গুণের অধিকারী, শিক্ষক, লেখক, সাহিত্যিক, সমালোচক, উপস্থাপক সুব্রত কুমার দাসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আমার মত আরও কবি, লেখক এবং সাহিত্যিকগণ একত্রিত হয়েছিলেন। বলাবাহুল্য আমি ছিলাম কনিষ্ঠদের একজন। বাকি সকলেই শুধু বয়োজ্যেষ্ঠই নন, অভিজ্ঞতা এবং সাহিত্যের ভুবনে তাঁরা এক একজন মহারথী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডার তিনজন পয়েট লরিয়েট - অ্যান মাইকেলস, এ এফ জে মরিৎস এবং জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক। সকলকে এত কাছাকাছি দেখে, তাদের কথা শুনতে পেয়ে আমি সত্যিই ধন্য হয়েছিলাম।
অনুষ্ঠানের মূল পর্ব ছিল তিনটি - কথাসাহিত্য, প্রবন্ধসাহিত্য এবং কাব্যসাহিত্য। আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম প্রবন্ধসাহিত্য পর্বে।
সঙ্গে ছিলেন ড. ঝর্ণা চ্যাটার্জি, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ ইকবাল এবং সুধীর সাহা।
আমাদের প্রবন্ধসাহিত্য পর্বের শেষ বক্তা লেখক ও শিল্পী সৈয়দ ইকবাল।
আকবর হোসেন - আমরা এতক্ষণ কবি হাসান মাহমুদের কথায় বুঝলাম লেখক সমাজ পরিবর্তনে কি কাজ করেন। এরপর আমরা সৈয়দ ইকবালের কথা শুনবো। তবে তার কাছে যাওয়ার আগে আমি দুই একটি উদাহরণ দিয়ে সকলকে বলবো কবি কি করেন? আপনারা যারা উর্দু কবিতা পড়েছেন বা পড়েন নি তারা নিশ্চয়ই এটা জানেন যে ভাষার সঙ্গে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে যখন রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানো হয় তখন তিনি একটা কবিতা লিখলেন। এর কয়েকটি পঙক্তি বলছি,
" Lagta Nahi Hai Ji Mera Ujde Dayar Me
Kiski Bani Hai Aalam-E-Naapaydar Me...."
"....এ ভাঙা ঘরে আমার হ্রদয়, মন আর টিকছে না।
এই যে জীবন যা ধরহীন, পায়াহীন, এটা বানালো কে? ...."
এই পর্যায়ে আমরা শুনবো সৈয়দ ইকবালকে।
সৈয়দ ইকবাল - ধন্যবাদ আকবর ভাই। আপনার প্রশ্নের উত্তর আজ আমি দিতে পারবো না। আজকে উত্তর দিতে দিয়ে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আমি নানান দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছি। আমার এখানে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছে ছিল না। আসলেও দেখতেই পাচ্ছেন আগাগোড়া কালো জামাকাপড় পরিধান করেছি। খুব ভারাক্রান্ত মনে এসেছি। আমার খুবই দুঃখ হচ্ছে। সেই সাথে মাথায় কিছু প্রশ্ন ঘুরছে। আমাদের জাতির জনকের কন্যা কিভাবে এত বড় ভুল করলেন? খুবই দুঃখজনক! বঙ্গবন্ধুর কন্যা কিভাবে এই কাজ করলেন? তার আশেপাশে যারা পরামর্শক ছিলেন তারা কি তাকে বোঝাতে পারলেন না? এই যে শিশু, কিশোর, যাদের বয়স ২০ থেকে ২৫, তাদেরকে এমন পাখির মতো নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা? এটা কি করে সম্ভব? আমি বাকরূদ্ধ।
আর আমাকে করা প্রশ্নটা যেন কি ছিল? লেখা সংক্রান্ত সম্ভবত? আমি আকবর ভাইকে প্রশ্নটা আরেকবার করবো।
আকবর হোসেন - জীবনানন্দ দাশের একটা কবিতায় আছে, "জলের ভেতর অগ্নি অথবা বরফে নিহিত অগ্নি।" এরা তো পরস্পরবিরোধী।
সৈয়দ ইকবাল - হ্যাঁ, অনেকটা ছবির ভাষার মত মনে হয়।
আকবর - এটা কবির দৃষ্টিতে একটা অবস্থা।
সৈয়দ ইকবাল - আমি তো কবি নই।
আকবর - না, আমি এটা বলছি যে লেখকের প্রকাশের মাধ্যম কি বিচিত্র ধারায় প্রকাশিত হয় যা জীবনকে, দর্শনকে সদা মথিত করে। আপনি একজন লেখক হিসেবে আপনার জীবন দর্শনকে কিভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরবেন এটা সমবেত সকলের উদ্দেশ্যে বলুন।
ইকবাল - আসলে প্রকাশের ব্যাপারটা হচ্ছে আমি চাইলে নিজের মতো প্রকাশ করলাম যা সকলের জন্য না-ও হতে পারে। আমি আসলে বোধ হয় সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারিনি। যা বলতে চেয়েছি তা হয়তো বোধগম্য নয়। আমার কিশোর কাল থেকে আঁকাআকির চেষ্টা করতাম। নিজের সমাজকে, আমার আশেপাশের মানুষেরা, বন্ধুদের নিয়ে কিছু কাজ করেছি। আঁকা বেশিরভাগ ছবিগুলো সিরিজ আকারে হয়েছে। আর লেখালেখি তো আপনারা দেখছেন। আমি মূলত বিষয়ভিত্তিক লেখক। যাপিত জীবনের অনুভূতি নিয়ে লিখি ও ছবি আঁকি। শেষের চল্লিশটা বইয়ের মধ্যে প্রায় দশখানা বই লিখেছি প্রবাসীদের নিয়ে। তাদের সুখ দুঃখ, প্রেম, হতাশা, ভালবাসা - এসব নিয়ে। এই যে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে প্রকাশের মাধ্যম। আমি এখন প্রায়ই বাংলাদেশে থাকি তখন আমাকে দেখে অনেকেই মনে করেন আমি দালাল গোছের কিছু একটা। আমার সাথে কারও যোগাযোগ হলে অনুরোধ করতে থাকে, এই কাজটা করে দেন। টাকার প্রস্তাব নিয়ে আসে। আরও লোভনীয় অফারও আসে। তবে এসব আমার কাজ নয়। সবাই হয়তো আমায় ভুল বুঝেই অমন করে বলেন। আমি তো এসবের মানুষ নই। অন্য জগতের বাসিন্দা। ছবি আকাঁ আর লেখালেখি নিয়ে থাকতে ভালবাসি। আর অন্য এক ভাই (হাসান মাহমুদ) কত সুন্দর করে বললেন। উনার মত বাচনভঙ্গি থাকলে হয়তো আরও সুন্দর ভাবে বলতে পারতাম। আজ এইটুকুই।
আকবর - হ্যাঁ, আমরা বুঝতে পারছি। বাংলাদেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি তা সকলের জন্য বেদনাদায়ক। এখানকার বাঙালিরা ঘটনাবলী নিয়ে যথেষ্ট উদ্ভিগ্ন। যা হওয়ার নয় ঠিক সেটাই হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষ কোন বক্তব্য আমি রাখতে চাই না। কারণ রাজনীতির জটিল রাস্তায় আমি কখনো চলিনি। অনেক ধন্যবাদ সকলকে। আপনার মূল্যবান সময়ের মাঝেও আজ এখানে উপস্থিত হয়েছেন এবং সময়োপযোগী মন্তব্য সকলের কাছে তুলে ধরেছেন। প্রতিটি লেখকের একটি নির্দিষ্ট বলয় থাকে। যেখানে বসে সে জগত ও জীবনকে প্রত্যক্ষ করে আর লিখে তা প্রকাশ করে। এই দেখা ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় হলেও এর ভেতরে একটি ঐক্য আছে। আমরা কেউ শেকসপিয়ার, ভলতেয়ার, রবীন্দ্রনাথ অথবা জীবনানন্দ দাশ নই। তবুও তাদের লেখায় আমাদের ভাবনা ও চিন্তার সাগরের ঢেউ উঠে। জীবনের সব প্রকাশের মাঝেও একটা লোকায়িত সাদৃশ্য থাকে বলে সৃষ্টি এত মধুর। তাদের প্রত্যেকের লেখার ভেতরে চিন্তার যে স্রোতধারা হয় সেটা সমান্তরাল না হলেও চিন্তাগুলো সব এক জায়গায় গিয়েই মিলিত হয়।
আয়োজনের প্রসঙ্গ এখানেই আমি ইতি টানছি। তবে একটা কথা বলে শেষ করি - আজকের অনুষ্ঠানের মূল রূপকার সুব্রত দাস মহাশয়কে অনেক ধন্যবাদ দিতে হয়। উনি একা কিন্তু দশ বাহু নিয়ে কাজ করেন এমনটাই বোধ হয়। যার মাথায় এত বুদ্ধি, এত কর্ম, এত প্রাবল্য। কোথা থেকে আসে? কিভাবে এত মানুষের সাথে যোগাযোগ স্হাপন করেন? তার ভাবনা দিয়ে আমাদেরকে একত্রিত করার চেষ্টা করেন। আমাদেরকে উদ্বেলিত করেন। এটা একটা বিস্ময়কর ব্যাপার! এমন কিছু এই শহরে আমার মনে হয় কেউ করেননি। আর কেউ করতে পারবেন কি না জানি না। আজকের সভায় সভাপতিত্ব করতে পেরে নিজে আনন্দিত এবং সম্মানিত বোধ করছি। যারা আমার সাথে এখানে বসে কথোপকথন করেছেন তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে আলোকিত মানুষ।
সকলের প্রতি আবারও শুভকামনা রইলো।
ধন্যবাদ। (ক্রমশ)
03/09/2025
হ্যালিফ্যাক্স শহর ✍️🍁
Prothom Alo
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Website
Address
Halifax, NS
B0J,B3A TO B4G