Al Azhar Academy

Al Azhar Academy

Share

অনলাইনে ওয়ান টু ওয়ান পদ্ধতিতে শুদ্ধ কুরআন পাঠ, হিফজ, সহীহ দ্বীন, বেসিক মাসআলা, প্রয়োজনীয় দুআ, ও আরবি ভাষা শিক্ষার অনন্য প্ল্যাটফর্ম।

16/11/2024

কুরআন থেকে উপকৃত হওয়ার উপায়।

মহিমান্বিত গ্রন্থ আল-কোরআন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ, যা মানুষকে হিদায়াতের পথ দেখায়। আলোকিত করে মানব হৃদয়। অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যায় এই কিতাব। তাই বান্দার জন্য শ্রেষ্ঠ তোহফা আল-কোরআন।

আল্লাহর বান্দারা এই কিতাব থেকে উপদেশ গ্রহণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

> كِتَٰبٌ أَنزَلۡنَٰهُ إِلَيۡكَ مُبَٰرَكٞ لِّيَدَّبَّرُوٓاْ ءَايَٰتِهِۦ وَلِيَتَذَكَّرَ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ ٢٩
"এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতের মধ্যে চিন্তা করে এবং যাতে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপদেশ গ্রহণ করে।"
(সুরা সাদ, আয়াত: ২৯)

প্রশ্ন হচ্ছে, আমি এই কোরআন থেকে কিভাবে উপদেশ গ্রহণ করব। এবং কেনই বা আমরা কোরআন থেকে উপকৃত হতে পারছি না।

এ ক্ষেত্রে জানার বিষয় কোরআন থেকে উপকৃত হতে না পারার কারণ হলো—

প্রথমত, নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত না করা। যারা কোরআন তিলাওয়াত করে না বা করলেও মাঝে মাঝে করে, তারা কোরআন থেকে উপকৃত হতে পারবে না।

দ্বিতীয়ত, অসুস্থ অন্তরের অধিকারী কোরআন থেকে উপকৃত হতে পারে না।

তৃতীয়ত, উদাসীনতা ও অহেতুক জিনিসে মত্ত থাকা।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

> وَمَا يَأۡتِيهِم مِّن ذِكۡرٖ مِّن رَّبِّهِم مُّحۡدَثٍ إِلَّا ٱسۡتَمَعُوهُ وَهُمۡ يَلۡعَبُونَ ٢
"তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে যখন কোনো নতুন উপদেশ আসে, তারা তা খেলার ছলে শ্রবণ করে।"
(সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ২)

তাই কোরআন থেকে উপকৃত হতে চাইলে প্রথমে উল্লিখিত তিনটি সমস্যা থেকে নিজেকে বের করে নিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। এর সঙ্গে আরো যেসব বিষয়ে যোগ করতে হবে তা হচ্ছে—

1/ *নিয়মিত কুরআন পাঠ করা:*
কোরআনকে নিজের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বানিয়ে নিতে হবে। এমন যেন হয় যে কোরআন শরিফ না পড়লে মনের ভেতর এক ধরনের হাহাকার কাজ করে, অশান্তি বিরাজ করে। নতুন করে ওয়াদাবদ্ধ হতে হবে যে আমি এখন থেকে শুদ্ধভাবে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করব। এই কোরআন তিলাওয়াত শুদ্ধভাবে হতে হবে। অশুদ্ধ তিলাওয়াত কখনো কার্যকর হবে না।

আল্লাহ বলেন,
> ورَتِّلِ ٱلۡقُرۡءَانَ تَرۡتِيلًا
"এবং ধীরস্থিরভাবে স্পষ্টরূপে কোরআন তিলাওয়াত করো।"
(সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত: ৪)

2/ *বিশুদ্ধভাবে কোরআন পাঠের চেষ্টা করা:*
কোরআনের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্কটা হতে হবে ভালোবাসা ও মহব্বতের। এ জন্য কোরআন পড়ার সময় তাড়াহুড়া না করে ধীরে পড়ার নীতি অবলম্বন করতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

ٱلَّذِي يَقۡرَأُ ٱلۡقُرۡءَانَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيۡهِ شَاقٌّ لَهُۥ أَجۡرَانِ
"যে ব্যক্তি কোরআন পড়ে এবং এতে কিছুটা কষ্ট অনুভব করে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে।"
(সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৯৮)

3/ *উঁচু আওয়াজে তিলাওয়াত করা:*
একেবারে মনে মনে তিলাওয়াত না করে একটু উঁচু আওয়াজে তিলাওয়াত করা। এটি মৃত হৃদয়কে জাগ্রত করতে সহযোগিতা করে।

কুরাইব (রহ.) থেকে বর্ণিত,

> كَانَ قِرَاءَةَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلًا حَتَّى لَوْ شَاءَتْ لَتَعْلَمُ مِنْهُ السَّمَاعَ
"রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে এমনভাবে তিলাওয়াত করতেন, যেন মুখস্থকারী তা শুনে মুখস্থ করতে পারত।"
(আখলাকুন্নবী, হাদিস ৫৬১)

4/ *কুরআনের মর্ম ও অর্থ বোঝার চেষ্টা করা:*
কোরআনের অর্থ বোঝা এবং তাতে চিন্তা ফিকির করা। এর দ্বারা অন্তরে আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব ও ভালোবাসা এবং পরকালের ফিকির তৈরি হবে। এ জন্য সাধারণ মানুষের উচিত কোনো আলেমের তত্ত্বাবধানে কোরআন বোঝার চেষ্টা করা।

আল্লাহ বলেন,

> كِتَٰبٌ أَنزَلۡنَٰهُ إِلَيۡكَ مُبَٰرَكٞ لِّيَدَّبَّرُوٓاْ ءَايَٰتِهِۦ وَلِيَتَذَكَّرَ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ ٢٩
"এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতের মধ্যে চিন্তা করে এবং যাতে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপদেশ গ্রহণ করে।"
(সুরা সাদ, আয়াত: ২৯)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন,

> كَانَ الرَّجُلُ مِنَّا إِذَا تَعَلَّمَ عَشْرَ آيَاتٍ لَمْ يَجَاوِزْهُنَّ حَتَّى يَعْرِفَ مَعَانِيهِنَّ وَالْعَمَلَ بِهِنَّ
অর্থ: "আমাদের মধ্যে থেকে কেউ যদি ১০ আয়াত শিখতেন তাহলে তিনি আর সামনে অগ্রসর হতেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই ১০ আয়াতের অর্থ না শিখতেন এবং সে অনুযায়ী আমল না করতেন।" (তাবারি)

5/ *কুরআন থেকে উপদেশ গ্রহণ করা:*
কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও সুরায় আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী উম্মতের ঘটনা, উপমা ইত্যাদি বর্ণনা করেছেন। এসব ঘটনা আল্লাহ তাআলা এ জন্যই বর্ণনা করেছেন, যাতে মানুষ এখান থেকে শিক্ষা লাভ করে।

আল্লাহ বলেন,

> وَيَضۡرِبُ ٱللَّهُ ٱلۡأَمۡثَٰلَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمۡ يَتَذَكَّرُونَ ٢٥
"আল্লাহ (এজাতীয়) দৃষ্টান্ত দেন, যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে।"
(সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ২৫)

6/ *নিজেকে সম্বোধন করে তিলাওয়াত করা:*
কোরআন তিলাওয়াতের সময় মনের মধ্যে এই ভাব জাগ্রত করা যে আল্লাহ তাআলা আমাকে সম্বোধন করে এই আয়াত নাজিল করেছেন। আমি যেন এই আয়াত থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারি। আমি যেন এই আয়াতের মাধ্যমে হিদায়াত লাভ করতে পারি।

আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, যখন এ আয়াত নাজিল হলো:

> يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَرۡفَعُوٓاْ أَصۡوَٰتَكُمۡ فَوۡقَ صَوۡتِ ٱلنَّبِيِّ وَلَا تَجۡهَرُواْ لَهُۥ بِٱلۡقَوۡلِ كَجَهۡرِ بَعۡضِكُمۡ لِبَعۡضٍ أَن تَحۡبَطَ أَعۡمَٰلُكُمۡ وَأَنتُمۡ لَا تَشۡعُرُونَ ٢
অর্থ: "হে মুমিনগণ! তোমরা নবী (সা.)-এর সম্মুখে তোমাদের আওয়াজ উঁচু করো না এবং তার সঙ্গে যেমন তোমরা একে অপরের সঙ্গে জোরে কথা বলো, তেমনভাবে জোরে কথা বলো না, যাতে তোমাদের আমলগুলো বিনষ্ট হয়ে যায় এবং তোমরা টেরও না পাও।"
(সুরা হুজুরাত, আয়াত : ২)

এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর থেকে হজরত আবু বকর (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে আমার আওয়াজ আর কখনো উঁচু করি না। আর আমার ভয় হয় যেন আল্লাহ আমার কোনো নেক আমল বিনষ্ট করে দেন।’

তবে এখানেই শেষ নয়, বরং কোরআন থেকে হিদায়াত লাভের জন্য আরো বিষয় রয়েছে, যা আমার-আপনার জীবনে অপরিহার্য।

মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দিন যেন আমরা কোরআনকে সঠিকভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারি এবং এর আলোকে জীবন গঠন করতে পারি।

12/09/2024

📌 রিমাইন্ডার
– দরুদ পড়তেছেন তো ⁉️

জুম'আর দিনে এবং রাতে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করুন। রাসূল (ﷺ) বলেন,
তোমাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুম'আর দিন।
এই দিনে তোমরা আমার প্রতি দরুদ পাঠ কর। যেহেতু তোমাদের দরুদ আমার উপর পেশ করা হয়ে থাকে।

— [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং - ১৫৩১]

08/09/2024

❑ কুফু(كُفُو) ❑

বিয়ের ক্ষেত্রে “কুফু” একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«قال رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَخَيَّرُوا لِنُطَفِكُمْ وَانْكِحُوا الْأَكْفَاءَ وَأَنْكِحُوا إِلَيْهِمْ»
“তোমরা ভবিষ্যত বংশধরদের স্বার্থে উত্তম নারী গ্রহণ করো এবং 'কুফু' বিবেচনায় বিবাহ করো, আর বিবাহ দিতেও 'কুফুর' প্রতি লক্ষ্য রাখো।” [১]

●এখন 'কুফু'-র অর্থ কি?
“কুফু”(كُفُو) একটি আরবী শব্দ; যার অর্থ সমান,সমতুল্য,সমতা,সমকক্ষ[২]।
ইসলামী পরিভাষায় বর-কনের দ্বীন-দুনিয়ার যাবতীয় কিছুতে সমান সমান বা কাছাকাছি হওয়াকে “কুফু” বলে।
অথবা বিয়ের ক্ষেত্রে বর-কনের রুচি, চাহিদা, বংশ, যোগ্যতা সব কিছু সমান সমান বা কাছাকাছি হওয়াকে ইসলামী পরিভাষায় কুফু বলে। অতএব, একে একটি সম্ভাব্য স্বামী এবং তার সম্ভাব্য স্ত্রীর মধ্যে সামঞ্জস্য বা সমতা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যা মেনে চলতে হবে। এই সামঞ্জস্য ধর্ম, সামাজিক মর্যাদা, নৈতিকতা, ধার্মিকতা, সম্পদ, বংশ বা রীতিনীতির অন্তর্ভুক্ত একাধিক কারণের উপর নির্ভরশীল। সাধারণত ধর্মীয় নৈতিকতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হলেও আলেমগণ কনের তুলনায় বরের সার্বিক অবস্থানকে কাছাকাছি কিন্তু তুলনামুলক উত্তম হওয়া সুবিধাজনক বলে পরামর্শ দেন, এবং বরের অবস্থান যেন কনের অবস্থান থেকে নীচু না হয় সে ব্যাপারে লক্ষ রাখতে বলেন।

●বিয়ের ক্ষেত্রে “কুফু” কেন গুরুত্বপূর্ণ আসুন একটি উদাহরণ দেখি:
মনে করুন, A একটি দ্বীনদার মেয়ে এবং B একটি বেদ্বীন ছেলে। একজন দ্বীনদার,অপরজন বেদ্বীন; দুজনের মধ্যে কুফু নেই। তারপরেও দুজনের বিয়ে হলো, মেয়েটি যেহেতু দ্বীনদার তাই সে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার দ্বীনকে টেনে আনে, চায় প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্বীনের ছাপ থাকুক। অপরপক্ষে বেদ্বীন ছেলেটি চাইবে দুনিয়ার স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে, চাইবে সবকিছুই হোক দ্বীনের বাঁধনমুক্ত। ফলস্বরূপ অশান্তি। শেষ পরিণতি 'তালাক'।

এবার আরেকটি উদাহরণ দেখি:
মনে করুন, আপনার মাসিক আয় দশ হাজার টাকা। আর আপনি এমন কাউকে বিয়ে করলেন যার বাবার মাসিক আয় ছিল পঞ্চাশ হাজার টাকা। অর্থনৈতিক অবস্থানে 'কুফু' নেই। কি মনে হয় সুখে থাকবেন? নাহ।
হাতি-ওয়ালার সাথে বন্ধুত্ব করলে হাতি রাখার মত ঘর নিজেকে বানাতে হবে। নতুবা ‘বড়র পিরীতি বালির বাঁধ, ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণে চাঁদ।’ বুঝলেন?
অতএব, আপনার রোজগার দশ হাজার টাকা হলে আপনার বিয়ে করা উচিত এমন কাউকে যে এরমধ্যেই মানিয়ে চলতে পারবে। নয়তো বিয়ের পর শুনতে হতে পারে, ‘ভুল করেছি তোমায় বিয়ে করে, দাও এবার আমার হাতটি ছেড়ে ’।

তাই সর্বদিক দিয়ে নিজের চলাফেরা, পোশাক আশাক, বাড়িঘর, থাকা খাওয়ার মান যেমন, ঠিক সেই সমমানের পাত্রী পছন্দ করা উচিৎ। এতে কেউ কারোর উপর গর্ব প্রকাশ করবেনা, খোঁটা দেবেনা; ভালোবাসার গতিও বাধাগ্রস্ত হবেনা। এককথায় প্রায় সব বিষয়ে 'কুফু' বিবেচনা করেই বিয়ের পিঁড়িতে বসা উচিত। নচেৎ পরবর্তী সময়ে 'ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালাতে পারে'।

যদি সবকিছুতেই 'কুফু' মিলে যায় তবে তো সোনায় সোহাগা এবং এমন দাম্পত্য হবে চিরসুখের। পক্ষান্তরে কিছু না পেলেও যদি শুধুই দুজনের মধ্যেই দ্বীনদারী থাকে তবে সুখের জন্য এটাই যথেষ্ট। দ্বীনদারদের তো সবকিছুই আশ্চর্যের; তারা সর্বাবস্থায় সুখ শান্তি খুঁজে নিতে পারে। আলহামদুলিল্লাহ আলা কুল্লি হাল।

◆শেষ কথা: অনেকে বলতে পারেন কোনো ব্যাপার না বিয়ে করে মেয়েকে দ্বীনদার বানিয়ে নেব। ভাই, এটা স্রেফ একটি শয়তানের ধোকা, উল্টোও তো হতে পারে দেখা গেল দ্বীনদার বানাতে গিয়ে আপনিই বেদ্বীন হয়ে গেলেন। কি দরকার এত রিস্ক নেওয়ার? যেখানে এই জীবন একটি পরীক্ষাকেন্দ্র, পাশ করার সুযোগও একটিই। তারপরেও রিস্ক?
বরং একটি কাজ করা যেতে পারে বিয়েতে দ্বীনকে কন্সট্যান্ট রেখে [এখানে কোন ডিসকাউন্ট নেই দুঃখিত] অন্যান্য দুনিয়াবি বিষয়গুলি সামান্য হেরফের করে এডজাস্ট করা যেতেই পারে। আসলে সবকিছুই নির্ভর করছে দ্বীনদার কেমন তার ওপরে, যত বেশি দ্বীনদারী থাকবে ততোই বাকিগুলোর গুরুত্ব কমবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«ليَتَّخذَ أحَدُكُمْ قَلْباً شَاكِراً وَلِسَاناً ذَاكراً وَزَوْجَةً صَالِحَةً تُعينُهُ عَلَى أَمرِ الآخِرَة».

‘‘তোমাদের প্রত্যেকের কৃতজ্ঞ অন্তর ও যিকিরকরি জিহ্বা হওয়া উচিৎ। আর এমন মুমিনা স্ত্রী গ্রহণ করা উচিৎ; যে তার আখেরাতের কাজে সহায়তা করবে।’’ [৩]

আখিরাতের কাজে সহযোগিতা করার জন্য স্বামী-স্ত্রীর কুফু থাকতে হবে। স্ত্রীকে অবশ্যই দ্বীনদারিতে স্বামীর বরাবর বা কাছাকাছি হতেই হবে নচেৎ সে আখিরাতের কাজে সহায়তার থেকে বাধা বেশি দেবে এবং অনেকক্ষেত্রে শরীয়ত বিরোধী কাজ করে আপনাকে জাহান্নামের পথেও টানবে। স্ত্রী যদি বেশি দ্বীনদার হয় তবে স্বামীর ক্ষেত্রেও একই।

« رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَاماً».

__________________
[১] সুনান ইবনু মাজাহ : ১৯৬৮ ; সহীহ
[২] আল-ওয়াফি ডিকশনারি
[৩] ইবনে মাজাহ: ১৮৫৬, আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ :২১৭৬

12/07/2024

কুরআন ও সহীহ দ্বীন শিখার সুবর্ণ সুযোগ!
মিশর আল আযহার ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট কর্তৃক পরিচালিত "আল আযহার একাডেমী"তে আপনি/আপনার সন্তান সহীহ শুদ্ধভাবে কুরআনুল কারীম ও ফরয পরিমাণ দ্বীনের ইলম অর্জন করতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ!

🏷️ ছোট বড় সকল বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।
🏷️ ষ্টুডেন্টেরর সুবিধা মত সময়ে ক্লাস করার সুযোগ।
🏷️ছেলেদের জন্য ছেলে শিক্ষক এবং মেয়েদের জন্য মেয়ে শিক্ষিকা দিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা।
🏷️ রেজিষ্ট্রেশন বা এডমিশন ফি নেই।

🏷️ক্লাস মাধ্যম:
Microsoft teams apps/
WhatsApp call/
অথবা স্টুডেন্টের সুবিধা অনুযায়ী যে কোন মাধ্যম।

🏷️যা যা শিখতে পারব ইনশাআল্লাহ!
-----------------------------
📖 নুরানী কায়দা বেসিক লেভেল থেকে।
📖 তাজবিদ ও মাখরাজ (হরফের সঠিক উচ্চারণ)
📖 সহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত চর্চা।
📖 ২০টি সূরা মুখস্ত।
📖 কুরআন হিফজ।

📖 পরিপূর্ণ নামাজ শিক্ষা।
📖 দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় মাসআলা মাসায়েল।
📖 চল্লিশ হাদীস মুখস্থ।
📖 ইসলামী আকায়েদ।
📖 সিরাতুন্নবী পাঠ।

📚 আপনি প্রথমে একটি ফ্রী ট্রায়াল ক্লাস নিয়ে টিউটর ও একাডেমির পাঠদান পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আজই আপনার ফ্রি টায়াল ক্লাস বুক করতে আমাদের ফেসবুকে অথবা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করুন। জাযাকুমুল্লাহ!
যোগাযোগ : +201222 958 256 (WhatsApp)

14/06/2024

কুরবানি করার আগেই কিছু বিষয় জেনে নেই।

(১) পশুর সাতটি অংশ খাওয়া জায়েয নেই। শরীরের ভেতর প্রবাহিত রক্ত, পুরুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ, স্ত্রীলিঙ্গ বা যোনি, গ্ল্যান্ড বা জমাটবদ্ধ মাংস, মূত্রথলি এবং পিত্ত।

(২) শরিকানা কুরবানি দিলে গোশত হাড্ডি ইত্যাদি সবকিছু দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করে সমানভাবে ভাগ করতে হবে; অনুমান করে বণ্টন করা যাবে না। [ইমাম ইবনু আবিদিন, রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩১৭]

(৩) কুরবানির গোশত তিন ভাগের এক ভাগ গরিবদের দান করা, এক ভাগ আত্মীয়দের দেওয়া এবং একভাগ নিজেরা খাওয়া মুস্তাহাব (উত্তম), তবে বাধ্যতামূলক নয়। আত্মীয়-স্বজনের মাঝে গরিব থাকলে তাদেরকে অগ্রাধিকার দিন। একসাথে দুটো নেকি হবে: আত্মীয়তার হক আদায় এবং গরিবকে সাহায্য করা। পরিবারের লোকসংখ্যা বেশি হলে নিজেদের জন্য বেশি পরিমাণে রেখে কম পরিমাণ দান করলেও দোষের কিছু নেই। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫৫৬৯; ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৪৯৯৭ ও ৪৯৯৮; ইমাম ইবনু কুদামা, আল-মুগনি: ১৩/৩৭৯]

(৪) কুরবানির গোশত কাটার জন্য নিয়োজিত শ্রমিককে কুরবানির গোশত থেকে বিনিময় দেওয়া যাবে না। তাকে টাকা বা অন্য কোনো কিছু দিয়ে বিনিময় দিতে হবে। তবে পূর্ণ বিনিময় বা পারিশ্রমিক দেওয়ার পর চাইলে মাংস দান করতে পারবে। কাউকে দিয়ে নাড়ি-ভুড়ি পরিষ্কার করালে কুরবানির পশু থেকে বিনিময় বা পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে না। তাছাড়া, কুরবানির পশুর চর্বি বা নাড়ি-ভুড়ি বিক্রি করা যাবে না। নিজেরা খেতে না পারলে দান করে দিতে হবে। [ইমাম কাসানি, বাদায়িউস সনায়ি’: ৪/২২৫]

(৫) জবাই করার সময় শরিকদের নাম বলার প্রয়োজন নেই; জবাইকারী সবার পক্ষ থেকে জবাই করছে, এটা অন্তরে থাকলেই যথেষ্ট।

(৬) পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে, সিনা কিবলামুখী করে এবং পা পশ্চিম দিকে রেখে জবাই করা উত্তম। এর ব্যতিক্রম হলেও জবাই সহিহ হবে, তবে ইচ্ছা করে এমনটি করা উচিত নয়। [ইমাম ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি: ১০/২১; ইমাম আইনি, উমদাতুল কারি: ২১/১৫৭; মাসিক আল কাউসার]

(৭) পশুর মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার চামড়া ওঠানো যাবে না। জবাইয়ের সময় খাদ্যনালী, শ্বাসনালী কাটতে হবে এবং এ দুটোর উভয় পাশের দুটো রক্তনালী থেকে কমপক্ষে একটি কা*টতে হবে। [ইমাম সারাখসি, আল-মাবসুত]

(৯) জবাইকারী মুসলিম হতে হবে। ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে জব|ই করতে হবে। কুরবানির পশু নিজ হাতে জবাই করা উত্তম। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে জবাই করতেন।

12/06/2024

কুরবানী কার ওপর ওয়াজিব?

* যার মালিকানায় জিলহজের ১০,১১,১২ তারিখের মধ্যে থাকবে-
১। নগদ ৬৮০০০এর বেশি টাকা।
২। ৬৮০০০ এর বেশি মূল্যের এমন জমি,বাগান বা পুকুর যেটা ছাড়াও সংসার চলবে।
** মিরাস বণ্টন না হলেও সন্তান মৃতু বাবার জমি- জমার মালিক হয়ে যায়।
৩। ৬৮০০০ এর বেশি মূল্যের অতিরিক্ত মোবাইল, ফ্রিজ- আসবাবপত্র, এমন পোশাক পরিচ্ছদ যা ছাড়াও চলে।
৪। কিছু স্বর্ণ+ কিছু রুপার মূল্য মিলে ৬৮০০০ এর বেশি হয়।
৫। রুপার মূল্য+ নগদ টাকা মিলে ৬৮০০০/- এর বেশি হয়।
৬। স্বর্ণ+ রুপা+ নগদ টাকা মিলে ৬৮০০০/- এর বেশি হয়। (২/৪ টাকা এমনকি ঈদ বোনাস থাকলেও হিসেব করতে হবে)
৭। অতিরিক্ত গাড়ি, বাড়িসহ বিলাসি পণ্য যদি ৬৮০০০/- এর বেশি দামের হয়।
* ৬৮০০০ এর বেশি হয় এমন ব্যবসায়িক পণ্য থাকলে।
* কুরবানীর পশু বিক্রি করে ৬৮০০০ এর বেশি টাকা হাতে আসলে।
* মুসলিম, বালেগ, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন লোক।
* মুসাফির নয় এমন লোক।
** ঋণ বাদ দিয়ে যদি এই শর্তগুলো পাওয়া যায়। তাহলে কুরবানী করা ওয়াজিব হবে।
* হাতে নগদ টাকা না থাকলে ঋণ করে হলেও কুরবানী করতে হবে।
** এখানে রুপার মূল্য ১৩০০ করে ধরে হিসাব করা হয়েছে।

09/06/2024

জিলহজ মাস করনীয়- ১০

09/06/2024

জিলহজ মাস করনীয়-৯

09/06/2024

জিলহজ মাস করনীয়-৮

09/06/2024

জিলহজ মাস করনীয়-৭

09/06/2024

জিলহজ মাস করনীয়-৬

09/06/2024

জিলহজ মাস করনীয়-৫

Want your school to be the top-listed School/college in Cairo?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Website

Address


Al-Darb Al-Ahmar, Cairo Governorate
Cairo