Jamea Rashidia - Online
জামেয়া রশীদিয়া ফেনী এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অনলাইনভিত্তিক দ্বীনী শিক্ষাকেন্দ্র
18/02/2025
আপনার কোর্সটি নির্বাচন করে ফেলুন। জাযাকাল্লাহ
১৪৪৬ হিজরী রমজানুল মোবারকে জামেয়া রশীদিয়ার বিশেষ কোর্সসমূহ।
#আমাদেরÑপ্রত্যক্ষÑওÑপরোক্ষÑখেয়ানত আল্লামা মুফতী শহীদুল্লাহ দাবা.
#প্রত্যক্ষÑখিয়ানত
গুনাহের মধ্যে সবচাইতে মারাত্মক একটি গুনাহ হচ্ছে অন্যের মালের খিয়ানত করা। প্রত্যক্ষ খিয়ানত অথবা পরোক্ষ খিয়ানত।
প্রত্যক্ষ খিয়ানত যেমন- কারো টাকা-পয়সা বা সম্পদ আত্মসাৎ করা অথবা এদিক সেদিক করে নিজের পকেটে ঢুকানোর চেষ্টা
করা। এগুলো প্রত্যক্ষ বা সরাসরি খিয়ানত।
#পরোক্ষÑখিয়ানত
আরেকটি হচ্ছে পরোক্ষভাবে খিয়ানত। মাদরাসা বা প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত দায়িত্বের খিয়ানত। যেমন-
* আমি খেয়াল করিনি, আমার অসতর্কতায় কারো পঞ্চাশ টাকা আমার পকেটে চলে এসেছে। এটা খিয়ানত।
* আমি যদি খুব ভালো করে হিসাব করে চলতাম তাহলে মাদরাসা ফান্ডের দশ টাকা কম খরচ হতো। আমি কিছুটা বেখেয়াল থাকাতে দশ টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে। এটা খিয়ানত।
* প্রতিষ্ঠানের কোন কাজে আমি সিএনজিতে করেও যেতে পারি, বাসে করেও যেতে পারি। এমন কোন তাড়া নেই যে আমাকে খুব দ্রুত পৌঁছুতে হবে। বাসে ভাড়া কম, সিএনজিতে ভাড়া একটু বেশি। নিজের কাজে, নিজের খরচায় যদি যাওয়া হতো তাহলে আমি বাসে করেই যেতাম। মাদরাসার কাজে যাচ্ছি বলে আমি সিএনজি করে যাচ্ছি। এটা খিয়ানত।
*আমি নিজের কাজে গেলে বাড়িতে এসে খানা খেতাম। মাদরাসার কাজে গিয়েছি বলে দেরি করলাম। সেখানে কোন হোটেলে খানা খেলাম। মাদরাসার নামে বিল করলাম। এটাও খিয়ানত।
* আমার নিজের কাজে গেলে দেরি হলেও আমি বাড়ি এসে ভাত খেতাম। কারণ এখানে টাকা খরচ হবে আমার নিজের। আর আমি সেখানে খরচ করলাম মাদরাসার টাকা। কাজে অযথা দেরি হচ্ছে কি না তা আমি চিন্তা করলাম না। এদিকে মাদরাসায় আমার খানা নষ্ট হচ্ছে। আর আমি সেখানে মাদরাসার টাকায় খানা খেলাম। এটাও খিয়ানত।
* আমি নিজের টাকা দিয়ে খেলে ডাল, সবজি বা সাধারণ মাছ-গোশত খেতাম। আর এখন যখন মাদরাসার টাকা দিয়ে খাচ্ছি তো সেখানে আমি কবুতর নিচ্ছি, মুরগীর রোস্ট নিচ্ছি। অথবা বড় মাছের মাথা নিচ্ছি। এই যে বিষয়গুলো আছে এগুলো সবই খিয়ানত।
* অথবা আমার শহরে কাজ ছিল সকাল দশটায় । কিন্তু আমি আটটায় রওয়ানা হয়ে গেলাম। শহরে গিয়ে নাস্তা সারলাম। তারপর সেই নাস্তার পয়সা উঠিয়ে দিলাম মাদরাসার ভাউচারে।
ভাবলাম- ‘আমি মাদরাসার কাজে শহরে গিয়েছি। তাই মাদরাসার ভাউচারে নাস্তার টাকা উঠিয়ে দিচ্ছি।’ এভাবে পাঁচ টাকা খরচ করলেও সেটা খিয়ানত।
খুব সতর্ক থাকবেন- নিজের টাকা পয়সার চাইতে আমাদের বেশি গুরুত্ব দিতে হবে মাদরাসার টাকা-পয়সাকে, ওয়াকফের টাকা-পয়সাকে। তাহলে আমরা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবো।
এই যে সতর্কতার অভাব! এর কারণে পরোক্ষভাবে খিয়ানত হয়ে যায়। বেখেয়ালি হয়ে যায়। যদি তৎপরতা থাকে- কি করছে? কি না করছে? তাহলে দায়িত্বের খিয়ানত হবে না, তালিমের খিয়ানত হবে না, তরবিয়াতের খিয়ানত হবে না, আরো যে সমস্ত বিষয়গুলো আছে-মুআমালা, মুআশারা এসবের খিয়ানত হবে না।
এখানে তো বহু মুআল্লিমিন হযরত আছেন। আমি আপনাদের খেদমতে অনুরোধ করবো- আমাদের প্রত্যক্ষ খিয়ানত থেকে তো অবশ্যই বাঁচা দরকার। পরোক্ষ খিয়ানত থেকেও বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা থাকা দরকার।
বহু সরল, দ্বীনদার, আমানতদার মানুষ থেকেও সতর্কতার অভাবে, বেখেয়ালির কারণে পরোক্ষভাবে খিয়ানত হয়ে যায়।
সমালোচনা নয় সুপরামর্শ
দ্বিতীয় নম্বর কথা হলো, আমরা বহু সময় আলেম ওলামাদের নিয়ে, মসজিদ-মাদরাসা নিয়ে, তালিবে ইলমদের নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা করে ফেলি এবং শুনি। কখনো এটা সমালোচনার পর্যায়ে চলে যায়। এই ধরনের সমালোচনা করতে যদিও ভালো লাগে, শুনতে ভালো লাগে। এটা কিন্তু আমার জন্য ভালো নয়। এটা কখনো ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।
যাদের থেকে আমি ঈমান পেয়েছি, ঈমানী বিষয়গুলো পাচ্ছি, যারা আল্লাহ তাআলার মেহেরবানিতে ঈমানী বিষয়গুলো উম্মতের মাঝে সঠিকভাবে প্রচার-প্রসার করছেন, তাদের সাথে দূরত্ব, তাদের ব্যাপারে সমালোচনা, এটা আমার ঈমানের জন্য, আমার আমলের জন্য, আমার আখিরাতের জন্য কখনো ভালো বিষয় নয় এবং হতে পারে না।
তবে একটি প্রশ্ন অবশ্য আসে যে, যদি অপ্রীতিকর কোন বিষয় চোখে দেখি, কানে পড়ে, দিলে আসে তবে আমরা কি করবো?
এহেন পরিস্থিতিতে সমীচীন হলো, প্রথমত দেখতে হবে বিষয়টি আমার বিষয় কিনা? অর্থাৎ আমার দায়িত্বের অধীন কিনা? যদি আমার বিষয় না হয়, তবে আমি তা এড়িয়ে যাবো। সংযমিত হবো। নিজেও এ নিয়ে আলোচনা করবো না। অপরের আলোচনাও শুনবো না।
মুরব্বিরা লিখেছেন, আমার দায়িত্বে পড়ে না এমন বিষয় নিয়ে যদি আমি সমালোচনায় লিপ্ত থাকি, তবে এটা একথাই প্রমাণ করে যে, আল্লাহ পাক আমার উপর নারাজ। নাউযুবিল্লাহ।
আর যদি তা আমার আওতাধীন বিষয় হয়, তবে আন্তরিকতার সাথে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবো। সরাসরি আলোচনা না করে পেছনে আলোচনা করলে তা হবে গীবত।
রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
الغيبة أشد من الزنا
অর্থ: গীবত যেনা-ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক [ ]
অপরদিকে সামনাসামনি আলোচনা করলে হবে সুপরামর্শ ও শুদ্ধির পরামর্শ। একটি ভালো পরামর্শ সমুদ্র পরিমাণ সওয়াব হতেও উত্তম হতে পারে। আমি কাউকে একটি পরামর্শ দিলাম। এই পরামর্শ হয়তো আল্লাহ তাআলার মেহেরবানিতে কল্যাণ বয়ে এনেছে। তাহলে সেটা আমার জন্য সমুদ্র পরিমাণ সাওয়াব বয়ে আনবে। সেটা আমার জন্য সদকায়ে জারিয়া হবে। ইনশাআল্লাহু তাআলা।
তাহলে পেছনে আলোচনা করাকে সমালোচনা বলে, গীবত বলে। সামনে আলোচনা করাকে সুপরামর্শ বলে, আলোচনা বলে। পর্যালোচনা বলে। আলোচনা-পরামর্শ সুন্নত। গীবত-শেকায়েত হারাম।
এ কারণে আমরা যারা মাদরাসার আশেপাশে আছি, মাদরাসার সাথে সম্পৃক্ত আছি মাদরাসাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে নিবো। কোন কিছু দিলে-দেমাগে, মন-মানসিকতায় আসলে বা কোন কিছু কানে পড়লে এই ব্যাপারে আমি সুপরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করবো।
খুব লক্ষ রাখবেন। বর্তমানে আমরা যথেষ্ট উন্নয়নশীল জাতি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে পুরো পৃথিবী আমাদের হাতের মুঠোয়। যে কোন খবর মুহূর্তের মধ্যে আমাদের কাছে চলে আসে। আর আমাদের অবস্থাও এমন যে, কারো ব্যাপারে কোন কিছু দেখলে বা শুনলে, কারো ব্যাপারে সামান্য কিছু কানে পড়লে সত্য-অসত্য যাচাই করার আগেই বিশ্বাস করে বসে থাকি। যে বলেছে তার কথা সত্য মনে করি। আর যার ব্যাপারে কথা আসছে তাকে অভিযুক্ত মনে করি। তিলকে তাল মনে করি। অবাস্তবকে বাস্তব মনে করি। আলোচনা-সমালোচনা শুরু করে দেই। রঙচঙ মাখিয়ে অপরের সামনে পরিবেশন করি। আসলে বিষয়টি কি এমন হওয়া উচিত? না! কখনো এমন হওয়া উচিত নয়।
আল্লামা মুফতী শহীদুল্লাহ সাহেব দা.বা.
জামেয়া রশীদিয়া ফেনী
ইসতিগনা: ৪র্থ দৃষ্টান্ত
হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত শাহ আশরাফ আলী থানভী রহ. এর খেদমতে এক লোক মোটা অঙ্কের হাদিয়া পাঠান আর সাথে একটি চিঠিতে লেখেন, হযরত! এই হাদিয়া শুধু আপনার জন্য। আমার জন্য একটু দোয়া করবেন। হযরত তার হাদিয়া ফেরত পাঠালেন এবং চিঠির উত্তরে লিখেন,
بھائی یہاں دعا بکی نہیں جاتی۔ دعا مفت میں کرتا ہوں۔ ہدیہ واپس
অর্থ: ভাই! এখানে দোয়া বিক্রি হয়না। দোয়া আমি বিনা-পয়সায় করি। তোমার হাদিয়া ফেরত দেয়া হলো।
ঐ ব্যক্তি হতভম্ব হয়ে যায়। এমন লোকও কি জগতে আছে? যিনি দোয়ার শর্তেও হাদিয়া ফেরত দেন। এমন কেউ কি কোথাও আছে? যে পাঁচশত ও হাজার টাকার নোট দেখার পরও তার মধ্যে লোভ আসে না, মনে কোন পরিবর্তন আসে না। সে বড় আশ্চর্য হলো যে, এমনও কেউ আছে এ যুগে?!
ভাই! আমাদেরও এ ধরনের ইসতেগনা অর্জন করার চেষ্টা করা উচিত। কেননা আমরা তো ঐ সকল বীর পুরুষদেরই সন্তান।
কবি বলেন,
أُولَئِكَ آبَائى فَجِئني بِمِثْلِهِمْ
إذَا جَمَعَتْنَا يَا جَرِيرُ المـجَامِعُ
অর্থ:এরাই মোদের পূর্বসূরী, যাদের নিয়ে গর্ব করি।
কীসের লাগি করছ বড়াই, লওতো দেখি তাদের জুড়ি।
ইসতিগনা: ৩য় দৃষ্টান্ত
এর কিছুদিন পর মাদরাসায় উন্নয়ন কমিটির সদস্যদের বার্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অনেক হিতাকাঙ্ক্ষী ভাই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমার নিকট প্রস্তাব পেশ করলেন যে, উন্নয়ন সদস্যদের মাসিক অনুদানের হার বাড়ানোর চিন্তা করা হোক। অর্থাৎ যারা মাসিক অনুদান একশত টাকা দেন তারা আগামীতে দুইশত টাকা করে দান করবেন। এভাবে যারা পারে প্রত্যেকেই পূর্বের প্রতিশ্রুতিকে বৃদ্ধি করবে, এমন একটা প্রস্তাব সকল সদস্যদের সামনে পেশ করার জন্য তারা চিন্তা-ভাবনা করছেন।
আমি বললাম; 'না' এধরনের কোন প্রস্তাব পেশ করা যাবে না। কোন প্রয়োজন নেই। বরং এভাবে প্রস্তাব পেশ করুন যে, আমরা যারা এখনো সদস্য হয়ে শরীক হতে পারিনি, দশ টাকা, বিশ টাকা করেও শরীক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর যারা আলহামদুলিল্লাহ শরীক হয়েছি মাসে মাসে আদায় করতে পারিনি, এখন বকেয়া আদায় করতেও কষ্ট হবে, তারা পূর্বের হিসাব বাদ দিয়ে যে যা পারি নতুন করে দিতে শুরু করি।
আর যারা পূর্বে বেশি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, এখন দিতে কষ্ট হচ্ছে, তারা কম করে দিতে শুরু করি। আর যারা পূর্বে কম দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, এখন বেশি দিতে সক্ষম, তারা বেশি দিতে শুরু করি। অর্থাৎ কোন প্রকারের বাধ্য-বাধকতা নেই। যারা এখন দিতে পারছি না অথবা কষ্ট হচ্ছে, তারা আপাতত বন্ধ রাখি। আগামীতে আল্লাহ তাআলা তাওফীক দিলে দেয়ার ইচ্ছা করবো। পরে বকেয়াগুলো দিতে পারলে তো আলহামদুলিল্লাহ, আর না হয় নতুন করে দিতে থাকবো ইনশাআল্লাহ। না দিতে পারলেও কোন সমস্যা নেই। আপনার সদস্যপদ কখনো বাতিল ও রহিত হবে না। আপনি জামেয়া রশীদিয়ার পারিবারিক সদস্য, চিরকাল পারিবারিক সদস্যই থাকবেন। টাকা উদ্দেশ্য নয়, মাদরাসার সাথে সম্পৃক্ত থাকা এবং রাখা আমাদের উদ্দেশ্য। সুতরাং অনুদান দেয়া সম্ভব না হলেও কমপক্ষে দোয়া ও আন্তরিকতার মাধ্যমে মাদরাসার সাথে সম্পৃক্ত থাকবেন। এটা আমাদের নাজাতের উসীলা হবে ইনশাআল্লাহ।
মুফতীÑশহীদুল্লাহÑসাহেবÑফেনীÑজামেয়াÑরশীদিয়া
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Fenit