Ratibati Colliery
about Ratibati ,kashinathpur ,chapui area. in between Asansol & Raniganj! Buss stop Chanda More!
পুরোনো কোয়ার্টারগুলো আজো সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে... শুধু চেনা মানুষগুলো নেই। 🏠 পুব দিকের সেই সোনালী রোদ আর উড়িয়াদের মেসের সেই গমগম করা আওয়াজ—সবই আজ স্মৃতি।
আমাদের শৈশবের সেই "রতিবাটি কলিয়ারী"। 🖤
এখন তো যান্ত্রিক জীবনে মুখোশের ভিড়ে আমরা সবাই ক্লান্ত। কিন্তু মন আজও পড়ে থাকে সেই কয়লা খাদানের ধুলোমাখা পথে, সেই নয়-দশের সোনালী দিনগুলোতে। যেখানে সুখ ছিল খুব অল্পে, আর আপনজন ছিল প্রতিটা ঘরে।
আপনারও কি মনে পড়ে সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা? সেই পুরোনো অফিস, মেঠো পথ আর এক চিলতে হারানো সুখ?
নিচে আমার লেখা একটি গান ও কবিতা শেয়ার করলাম। ভালো লাগলে শেয়ার করবেন, হয়তো কোনো হারানো বন্ধু এই পোস্টের মাধ্যমেই আবার খুঁজে পাবে তার শৈশবকে। 👇
#কলিয়ারীরস্মৃতি #রতিবাটি ゚
হারানো সেই বিয়েবাড়ির গপ্পো 📜✨
পরদিন সকালের রোদটা যখন আধখোলা প্যান্ডেলের বাঁশ আর ত্রিপলের খাঁজে এসে আলসেমি করে পড়ে, তখন মনটা কেন জানি হু হু করে ওঠে। চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা বাসি রজনীগন্ধার ডাঁটা, তরকারি-হলুদ মাখা এঁটো শালপাতা আর মাটির ভাঁড়ের স্তূপ এরা যেন এক একটা গত হওয়া উৎসবের কঙ্কাল। 🥀
আমাদের কোলিয়ারির কোয়ার্টারে ৮০/৯০ দশকের সেই দিনগুলো ছিল একদম অকৃত্রিম। আজকালকার এসি 'ব্যাঙ্কোয়েট হল'-এ আভিজাত্য আছে, কিন্তু সেই মাসি-পিসি-দিদিমাদের প্রাণের ছোঁয়া নেই। মনে পড়ে, বিয়ের তিনদিন আগে ছোটো মাসি আর দিদিমা যখন ব্যাগপত্র নিয়ে রিক্সা থেকে নামতেন, মনে হতো বাড়িতে এক বিজয়িনী বাহিনী নামল! তারা এসেই আঁচলটা কোমরে জড়িয়ে সোজা ঢুকে পড়তেন হেঁসেলে। কার হাতে ক্ষীর ভালো হবে কে হবে ক্ষীর রাঁধুনী, কে হেঁসেল সামলাবে সবই ছিল তাঁদের নখদর্পণে। 👵❤️
আয়োজনের সেই মহাযজ্ঞ: পাড়ার মোড়ে সানাইয়ের সুর আর শাঁখের আওয়াজেই বোঝা যেত বিয়ের ফুল ফুটেছে। গায়েহলুদের সেই শিল-নোড়ায় বাটা টাটকা হলুদের গন্ধ আজও নাকে লেগে আছে। আর ছিল "শুকচিড়ে" খাওয়ানোর সেই ভোরবেলার হুল্লোড়! ভোর পাঁচটায় থালা বাজিয়ে মা-কাকিমাদের ঘুম ভাঙানো আর সবাই মিলে গোল হয়ে বসে দই-চিঁড়ে খাওয়ার সেই স্বাদ কি আজকের ফাইভ স্টার ব্রেকফাস্টে পাওয়া সম্ভব? 🥣☀️
ভিয়েন আর সেই গামছাধারী সেনাপতিরা: ক্যাটারিং প্রথা তখনো আসেনি, আসানসোলের 'নাগ সুইটস' আর রানিগঞ্জের বাজার নিয়ে চলত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠক। দেবুকাকু, রহিতদা বা খোকনদারা কোমরে গামছা বেঁধে যখন মাঠে নামতেন, ওই গামছাটাই ছিল তাঁদের ‘ভলান্টিয়ার ব্যাজ’।
পাশে 'গুলি মাটির ঘর' বা মেসে বসত ভিয়েনের আসর। কয়লার আঁচে তৈরি লেডিকেনি আর বোঁদের গন্ধে ম ম করত আকাশ। আর সম্রাট হয়ে ফোল্ডিং চেয়ারে বসে থাকতেন সেই রান্নার তদারককারী বৃদ্ধ মাছের পিস ছোট করা থেকে খাস অনুচরদের মাংসের চর্বির বড়া বিলি করা, সবটাই ছিল তাঁর ইশারা। 🍖🔥
কলাপাতা আর মাটির গেলাসের মহোৎসব: রাতের ভোজ মানেই কাঠের টেবিল আর কলাপাতার কোণে নুন-লেবু-শাক ভাজা। পরিবেশন শুরু হতেই চারিদিকে রব উঠত “গেলো গেলো!” ফুটো মাটির গেলাস দিয়ে জল গড়িয়ে কারোর ধুতি বা শাড়ি ভিজে একসা! এর মাঝেই আসত সেই রাজকীয় কচি পাঁঠার মাংস আর বাসন্তী পোলাও। রসগোল্লার রস আর মাংসের ঝোলের সেই অদ্ভুত মিলনমেলার স্বাদ আজও জিভে লেগে আছে। খাওয়া শেষে লবঙ্গ গাঁথা পান মুখে দিতে দিতে কর্তার সেই চিরচেনা প্রশ্ন “ঠিক করে খেয়েছেন তো?” 🥘🍃
বিদায়ের সেই সুর: সারারাত বাসর জাগিয়ে যখন ভোরের আলো ফুটত, তখন শুরু হতো 'কুসুমডিঙ্গা' আর যজ্ঞের আগুনে ভাই-বোনের ভালোবাসার সেই শেষ অর্ঘ্য আগুনের সামনে বর-কনের সেই ধ্রুপদী মুহূর্তটি এক অদ্ভুত আবেগময় কনে কুলা হাতে যজ্ঞের আগুনের সামনে দাঁড়ায় আর ভাই সেই কূলোয় খৈ দেয় বর তার পেছনে থেকে কনের হাত ধরে খৈ যজ্ঞের আগুনে অর্পণ করেন
আর তার পরেই শুরু হতো বিচ্ছেদের করুণ সুর। কনের সেই ডুকরে কান্না আর বাবার আড়ালে গিয়ে চোখ মোছা কোলিয়ারির সেই শক্ত পাথুরে মাটিও যেন সেদিন ভিজে যেত। 🌸💧
আজকাল বিয়ের নিমন্ত্রণে গেলে নিজেকে কয়েদি মনে হয়। কাঁচের ভারী প্লেট নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যেন রেশন দোকানের সারি। রোবটের মতো ড্রেস পরা পরিবেশনকারীদের মুখে হাসি নেই, আন্তরিকতা নেই। খাবার হয়তো গরম থাকে, কিন্তু মানুষের মনটা থাকে হিমশীতল। ❄️
অবুঝ মন আজও খুঁজে বেড়ায় সেই স্যান্ডো গেঞ্জি পরা এক ঝাঁক তরুণকে, যারা জোর করে পাতে আরও দুটো রসগোল্লা ফেলে দিয়ে বলবে “আরে একটা খান না কাকু, কিচ্ছু হবে না!” কোলিয়ারির সেই ধুলোমাখা রাস্তায় আজ আর কেউ দাঁড়িয়ে থাকে না জিজ্ঞাসু মুখে “ঠিক করে খেয়েছেন তো?” 💔
© নরকিচাক্ষ
#নস্টালজিয়া #কোলিয়ারি_স্মৃতি #পুরানো_সেই_দিনের_কথা #বিয়েবাড়ি #আশির_দশক #আবেগ #স্মৃতিচারণ
゚
"সরস্বতী বানান বল তো দেখি?"—কাকু বললেই হলো? আমাদের লক্ষ্য তো তখন প্যান্ডেল আর রাত জেগে রঙিন কাগজ কাটা! ✂️
কয়লার আগুন, আদা-চা আর সেই গোপন বিড়ির অভিযান... কোলিয়ারির কোয়ার্টারে কাটানো সেই কৈশোরের দিনগুলো কি ফিরে পাওয়া যাবে না আর? রতিবাটীর তিন নম্বরের সেই ‘বালক সংঘ’ আজও আমাদের হৃদয়ে আদি ও অকৃত্রিম।
কার কার ছোটবেলায় এমন ‘গোপন অভিযান’ চলত? কমেন্টে জানান!
#বন্ধুত্ব #সরস্বতীপূজা #স্মৃতিচারণ
゚
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Chanda To Ratibati
Asansol