Amoler Rasta
Bangla Waz
৬৭৯৯. প্রশ্ন
কিছুদিন আগে ফজরের নামাযে সিজদার আয়াত পাঠ করার পর ভুলবশত সিজদা করা হয়নি।
জানার বিষয় হল, উক্ত সিজদা কি এখন আদায় করে নেওয়া যাবে?
উত্তর
না, নামাযে ছুটে যাওয়া সিজদায়ে তিলাওয়াতটি এখন আর আদায়ের সুযোগ নেই। নামাযের ভেতর নিজে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা বা ইমাম থেকে সিজদার আয়াত শোনার কারণে যে সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব হয়, তা নামাযের ভেতরই আদায় করা জরুরি। নামাযের ভেতরে আদায় না করলে পরে তা আর আদায় করার সুযোগ থাকে না।
এখন আপনার কর্তব্য হল, উক্ত ভুলের কারণে ইস্তেগফার করা। সামনে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
* >الفتاوى الهندية< ১/১৩৪ : والسجدة التي وجبت في الصلاة لا تؤدى خارج الصلاة، كذا في السراجية، وهكذا في الكافي، ويكون آثما بتركها، هكذا في البحر الرائق.
–আলমাবসূত, সারাখসী ২/৯; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ১৪; আলহাবিল কুদসী ১/২৩৩; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ২/৩০০; ফাতহুল কাদীর ১/৪৭০; আলবাহরুর রায়েক ২/১২২
(মাসিক আলকাউসার)
প্রশ্ন
মহিলাদের জন্য যিয়ারতের উদ্দেশ্যে কবরস্থানে যাওয়া জায়েয আছে কি না?
উত্তর
হাঁ, মহিলাদের জন্য কিছু শর্তসাপেক্ষে কবর যিয়ারত করা জায়েয। তবে নিয়মিত কবরস্থানে না যাওয়াই উত্তম। কেননা মহিলাদেরকে গৃহাভ্যন্তরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কখনো গেলে নিম্নোক্ত শর্তাদির প্রতি খেয়াল রাখবে।
১. কবরস্থানে গিয়ে কান্নাকাটি, বিলাপ ইত্যাদি করতে পারবে না।
২. পূর্ণ পর্দার সাথে বের হবে।
৩. যাতায়াত নিরাপদ হতে হবে। কোনো প্রকারের গুনাহে পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকলে যাবে না।
-আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; রদ্দুল মুহতার ২/২৪২; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩৪০; বযলুল মাজহুদ ১৪/২০৪
(মাসিক আলকাউসার)
৩৩৬০. প্রশ্ন
আমাদের সমাজে নারীদেরকে স্বামীর মৃত্যুর পর তার জন্য শোক প্রকাশার্থে সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকতে দেখা যায়। তাছাড়া বিধবা নারীদের সাদা কাপড় পরিধান করার প্রচলন প্রায় সব অঞ্চলেই আছে। অনেকে এটিকে শুধু একটি সামাজিক প্রথা মনে করে থাকে। আবার অনেকে এটিকে শরীয়তের বিধান মনে করলেও এ ব্যাপারে এতটা যত্নশীল নয়। তদ্রূপ অনেকে এসব বিষয়কে কুসংস্কার বলেও মন্তব্য করে থাকে।
জানার বিষয় হল, আসলে এ বিষয়ে শরীয়তের নির্দেশনা কী? স্বামীর মৃত্যুর পর একজন স্ত্রীর এ ব্যাপারে করণীয় কী?
উত্তর
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ইদ্দতকালীন সময় (অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত অন্যথায় ৪ মাস ১০ দিন) সব ধরনের সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব বিধান।
সহীহ বুখারীতে উম্মে হাবীবা রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিনদিনের বেশি সময় হিদাদ (শোক করা ও সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকা) বৈধ নয়। আর স্বামীর মৃত্যুতে ৪ মাস ১০ দিন হিদাদ পালন করবে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৩৩৪
উম্মে সালামা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে স্ত্রী লোকের স্বামী মৃত্যুবরণ করে সে যেন ইদ্দতকালীন সময়ে রঙিন এবং কারুকার্যমণ্ডিত কাপড় ও অলংকার পরিধান না করে। আর সে যেন খিযাব ও সুরমা ব্যবহার না করে।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২৯৮
আল্লামা কুরতুবী রাহ. তার বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘আলজামে লিআহকামিল কুরআন’ও ইদ্দত সংক্রান্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, হিদাদ পালনের অর্থ হল, মহিলা তার ইদ্দতকালীন সুগন্ধি, সুরমা, মেহেদি,অলঙ্কারাদিসহ পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে যাবতীয় সাজসজ্জা ত্যাগ করবে। -আল জামে’ লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ৩/১১৮
সুতরাং কোনো মহিলার স্বামী মারা যাওয়ার পর ৪ মাস ১০ দিন অথবা অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত যে কোনো ধরনের সাজসজ্জা যা উৎসবাদিতে পরা হয় এমন চাকচিক্যপূর্ণ পোশাক পরিধান করা,সুগন্ধি ও অন্যান্য সাজসজ্জার প্রসাধনী ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তদ্রƒপ মেহেদি লাগানো, সুরমা দেওয়া থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক। অবশ্য ব্যবহৃত রঙিন কাপড় যদি চাকচিক্যপূর্ণ না হয় তাহলে তা পরিধান করতে কোনো অসুবিধা নেই।
ইদ্দত অবস্থায় সাদা কাপড় পরা আবশ্যক নয়। বরং সাদা কাপড় পরিধান করাকে জরুরি মনে করা ঠিক নয়।
প্রকাশ থাকে যে, ইদ্দত অবস্থায় মহিলার জন্য সাজগোজ ত্যাগ করার বিধান একাধিক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এ ব্যাপারে হাদীসে অত্যন্ত গুরুত্ব এসেছে। এটি শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। সুতরাং একে সামাজিক প্রথা বা কুসংস্কার মনে করা অন্যায়। বরং আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী সকল মুসলমানের উচিত উক্ত বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। নারীদের কর্তব্য উক্ত বিধান পালনে যত্নশীল হওয়া।
-আলমাবসূত, সারাখসী ৬/৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩০-৫৩২; মিরকাতুল মাফাতীহ ৬/৪৫২; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/২৩১; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩৩০; ফাতহুল বারী ৯/৪০১, ৩৯৫
(মাসিক আলকাউসার)
১২০১. প্রশ্ন
মৃত ব্যক্তির কাছে কুরআন পড়ার বিধান কী এবং কখন পড়বে? বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর
মৃতকে গোসল দেওয়ার পর তার কাছে কুরআন পড়া জায়েয। গোসল দেওয়ার আগে মৃতের অতি নিকটে কুরআন পড়া নিষেধ। অবশ্য চাদর বা অন্য কিছু দিয়ে লাশের আপাদমস্তক ঢাকা থাকলে গোসলের আগেও মৃতের নিকট বসে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করা জায়েয। আর গোসলের আগে লাশ পূর্ণ ঢাকা না থাকলে কাছে তেলাওয়াত করা যাবে না, দূরে তেলাওয়াতের সুযোগ রয়েছে।
-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৭, শরহুল মুনিয়্যাহ ৫৭৭, আলবাহরুর রায়েক ২/১৭১, আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯২
(মাসিক আলকাউসার)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Barpeta