LaughaLaughi
ভারতের একমাত্র বাংলা মিডিয়া সংস্থা
যারা ফেক নিউজ ছড়ায় না
LaughaLaughi is a registered trademark of LaughaLaughi Private Limited.
10/07/2026
আসামের শ্রীভূমি জেলায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনায় আজ স্তব্ধ গোটা সমাজ। গত ৮-ই জুলাই, ২০২৬ -এ মদনমোহন এলাকায় মাত্র আট বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকন্যাকে নৃশংসভাবে পাশবিক অত্যাচার ও শ্বাসরোধ করে খু*ন করা হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত জাকির আলম তালুকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর ধৃত যুবকের যে আচরণ সামনে এসেছে, তা সভ্য সমাজকে লজ্জিত করে।
শিশুটি নিখোঁজ থাকাকালীন সে নিজে কোনো কিছু না জানার ভান করে আক্রান্ত বাবার মোটরসাইকেলের পেছনে বসে খোঁজাখুঁজির নাটক করছিল। বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে পুলিশ আউটপোস্ট থাকা সত্ত্বেও কেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, এই অভিযোগে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ। কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে ইতিমধ্যেই একজন পুলিশ আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে দোষীর কঠোরতম শাস্তির দাবি জানাচ্ছে আপামর জনসাধারণ।
----
আসামের শ্রীভূমি জেলার মদনমোহন এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস ঘটনা আজ পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মাত্র ৮ বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকন্যাকে যেভাবে পাশবিক অত্যাচার ও শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। গত ৮-ই জুলাই, ২০২৬ -এ ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটির পর থেকে গোটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ আর হাহাকার।
তুমি হয়তো ভাবতেও পারবে না যে, যে সমাজকে আমরা নিরাপদ মনে করি, সেখানেই কীভাবে একটা শিশুর জীবন এভাবে মাঝপথে কেড়ে নেওয়া হলো। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন, যার জেরে ইতিমধ্যেই একজন পুলিশ আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই দিন? গত বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ মেয়েটি নিজের বাড়ির সামনেই খেলাধুলো করছিল। কিন্তু হঠাৎই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। বেশ কিছু সময় কেটে যাওয়ার পর বাড়ির লোক খোঁজাখুঁজি শুরু করে। অবশেষে, বিকেল ৩টে নাগাদ বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে একটি পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, শিশুটিকে প্রথমে হাত দিয়ে এবং পরে তার নিজের ফ্রক দিয়েই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই ধর্ষণের ধারাগুলি আইনত নিশ্চিত করা হবে, তবে প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো (POCSO) আইনের ৬ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করেছে।
এই ঘটনার পেছনে যে অপরাধীর নাম সামনে এসেছে, সে হলো জাকির আলম তালুকদার। ঘটনার ঠিক পরেই তার যে আচরণ দেখা গেছে, তা যেকোনো মানুষের রক্ত হিম করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। শিশুটি যখন নিখোঁজ ছিল, তখন এই জাকির নিজে কোনো কিছু না জানার ভান করে এলাকায় ঘুরছিল।
এমনকি মেয়েটির অসহায় বাবা যখন ব্যাকুল হয়ে নিজের সন্তানকে খুঁজছিলেন, তখন জাকির তাঁর মোটরসাইকেলের পেছনে বসে খোঁজাখুঁজির নাটক করছিল। পরে গ্রামবাসীদের সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশের জেরা করার সময় সে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে, মেয়েটির বাবার সঙ্গে তার পুরোনো কোনো শত্রুতার প্রতিশোধ নিতেই সে এই চরম পথ বেছে নিয়েছে।
তবে এই মামলার আইনি প্রক্রিয়াকে ঘিরে একটি নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় মানুষের দাবি অনুযায়ী জাকিরের বয়স ১৯ থেকে ২২ বছরের মধ্যে হলেও, আদালতে সে নিজেকে নাবালক বলে দাবি করেছে। গত বৃহস্পতিবার শ্রীভূমি সদর আদালতে তাকে পেশ করা হলে, পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এখন তার সঠিক বয়স নির্ধারণের জন্য ডাক্তারি পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি সে নাবালক প্রমাণিত হয়, তবে মামলাটি জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পাঠানো হবে, আর যদি সে প্রাপ্তবয়স্ক প্রমাণিত হয়, তবে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে কঠোরতম শাস্তির মুখে পড়বে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে রাস্তায়। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখান থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরেই একটি পুলিশ আউটপোস্ট ছিল। তা সত্ত্বেও পুলিশ কেন দ্রুত ব্যবস্থা নিল না, এই অভিযোগে জনতা চোরগোলা-হাইলাকান্দি সংযোগকারী রাস্তা সম্পূর্ণ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে পুলিশকে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল।
অবশেষে জেলা পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা এসে দোষীর ফাঁসি ও দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর পথ অবরোধ ওঠে। এই ছোট্ট মেয়েটির বিচার যাতে দ্রুত হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন তৎপর।
10/07/2026
একটি স্কুল শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়, একটি গ্রামের ভবিষ্যৎ, অসংখ্য স্বপ্ন আর নতুন প্রজন্মের ভিত্তি। অথচ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের ইউডাইস প্লাস ২০২৫–২৬ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগের ছবি। মাত্র এক শিক্ষাবর্ষে সারা দেশে বন্ধ হয়ে গেছে ৪,৭৯১টি স্কুল, অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩টি করে। সবচেয়ে বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে মধ্যপ্রদেশে, তবে পশ্চিমবঙ্গেও বন্ধ হয়েছে শতাধিক স্কুল।
আরও অবাক করা তথ্য, পশ্চিমবঙ্গে ৪,১৩৩টি স্কুলে একজনও শিক্ষার্থী নেই, অথচ সেখানে কর্মরত রয়েছেন হাজার হাজার শিক্ষক। একই সময়ে কমেছে সরকারি স্কুলের সংখ্যা, বেড়েছে বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা এবং বদলেছে শিক্ষার্থীদের ভর্তির ছবিও। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের নেপথ্যে কী কারণ? ইউডাইস প্লাসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য ও পরিসংখ্যান নিয়ে দেখো আজকের প্রতিবেদন।
----
মাত্র এক বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন একটি পরিবর্তন ঘটেছে, যা শুধু পরিসংখ্যান নয়, বহু পরিবারের বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত ইউডাইস প্লাস ২০২৫–২৬ প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশে মোট ৪,৭৯১টি স্কুল বন্ধ হয়েছে। অর্থাৎ, গড় হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ১৩টি স্কুলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, স্কুলের উপস্থিতি এবং সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের এই চিত্র এখন নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরে সেখানে ২,৪২৬টি স্কুল বন্ধ হয়েছে, যা দেশের মোট বন্ধ হওয়া স্কুলের অর্ধেকেরও বেশি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তেলঙ্গানা, যেখানে ১,৩৯২টি স্কুল বন্ধ হয়েছে। এরপর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে ৫৬৮টি, অন্ধ্রপ্রদেশে ৪৭৪টি, তামিলনাড়ুতে ৩৬৯টি, কর্নাটকে ২৮১টি এবং হিমাচল প্রদেশে ২৬৬টি স্কুল। অন্যদিকে, সব রাজ্যে একই চিত্র দেখা যায়নি। বিহারে ৯৪৬টি, ছত্তীসগঢ়ে ২৩৪টি এবং দিল্লিতে ৮৭টি নতুন স্কুল যুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন আরও জানাচ্ছে, দেশের সরকারি স্কুলের সংখ্যা এক বছরে ১০,১৩,৩২২ থেকে কমে ১০,০৫,২৪৫-এ নেমে এসেছে। অর্থাৎ, সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমেছে ৮,০৭৭টি। ঠিক তার বিপরীতে, একই সময়ে বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা বেড়েছে ১০,৫৮১টি। এই পরিবর্তন দেখাচ্ছে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির ভারসাম্য ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।
এই প্রতিবেদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে। রাজ্যে বর্তমানে ৪,১৩৩টি এমন স্কুল রয়েছে, যেখানে একজনও শিক্ষার্থী ভর্তি নেই। অথচ সেই স্কুলগুলিতেই কর্মরত রয়েছেন ১৯,৫০২ জন শিক্ষক। এই পরিসংখ্যান শুধু প্রশাসনিক পরিকল্পনার প্রশ্নই তোলে না, পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রও সামনে নিয়ে আসে। যদিও সারা দেশে শূন্য ছাত্রভর্তি স্কুলের সংখ্যা ৭,৯৯৩ থেকে কমে ৫,৬৬৩-এ নেমে এসেছে, তবুও পশ্চিমবঙ্গের এই সংখ্যা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
শুধু স্কুলের সংখ্যাই নয়, শিক্ষার্থীদের ভর্তির ছবিতেও বড় পরিবর্তন ধরা পড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক বছরে সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা প্রায় ৮৬ লক্ষ কমেছে। একই সময়ে বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৮৮ লক্ষেরও বেশি। যদিও দেশের মোট বিদ্যালয়ত্যাগের হার আগের তুলনায় কমেছে এবং শিক্ষকের মোট সংখ্যা ১ কোটিরও বেশি হয়েছে, তবুও সরকারি স্কুলে কমতে থাকা শিক্ষার্থী এবং একের পর এক স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই পরিসংখ্যান দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তিত বাস্তবতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
10/07/2026
মহাকাশ গবেষণায় ভারত আরও এক বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। এক সময় যে স্বপ্ন শুধুই কয়েকটি শক্তিধর দেশের ছিল, সেই পথেই এবার এগোচ্ছে ভারত। নিজের মহাকাশ স্টেশন তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করেছে ইসরো। ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন বা বিএএস নামে এই প্রকল্পের প্রথম মডিউল ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ধাপে ধাপে মোট ৫টি মডিউল নিয়ে গড়ে উঠবে ভারতের নিজস্ব কক্ষপথ গবেষণাকেন্দ্র, যেখানে মহাকাশচারীরা ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত অবস্থান করে নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাতে পারবেন।
ওষুধ, জীববিজ্ঞান, নতুন উপাদান এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষার পাশাপাশি এই প্রকল্প ভারতের চন্দ্র অভিযানের প্রস্তুতিকেও আরও শক্তিশালী করবে। ২০২৩ সালের ঘোষণার পর এখন সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। মহাকাশে ভারতের এই নতুন অধ্যায় শুধু প্রযুক্তির অগ্রগতি নয়, দেশের আত্মনির্ভরতারও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
----
একটা সময় মহাকাশে নিজেদের স্থায়ী গবেষণাকেন্দ্র তৈরি করা ছিল শুধু আমেরিকা, রাশিয়া কিংবা চিনের মতো শক্তিধর দেশগুলোর স্বপ্ন। কিন্তু সেই তালিকায় এবার নিজের নাম লেখাতে চলেছে ভারতও। অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় প্রবাসীদের উদ্দেশে ২০২৩ সালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথম জানিয়েছিলেন, গগনযান অভিযানের সাফল্যের পর ভারত নিজের মহাকাশ স্টেশন তৈরির পথে এগোবে। সেই ঘোষণার কয়েক বছরের মধ্যেই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো বাস্তব কাজ শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন বা বিএএস প্রকল্পের, যা আগামী দিনে দেশের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রকল্পের প্রথম ধাপ হিসেবে তৈরি হচ্ছে বিএএস-০১ নামে পরিচিত বেস মডিউল। প্রায় ১০ টন ওজনের এই মডিউলকে ২০২৮ সালের মধ্যে এলভিএম-৩ উৎক্ষেপণযানের সাহায্যে পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে ইসরো। এই মডিউলেই থাকবে মহাকাশচারীদের থাকার ব্যবস্থা, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতের অন্য মডিউল যুক্ত করার জন্য ডকিং ব্যবস্থা। এখান থেকেই শুরু হবে ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশনের যাত্রা।
২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পের প্রথম ধাপের অনুমোদন দেয়। এরপর ইসরো শুধু নকশা তৈরিতেই থেমে থাকেনি, বরং দীর্ঘ সময় মানুষের মহাকাশে বসবাসের উপযোগী প্রযুক্তি, উন্নত জীবনধারণ ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় ডকিং প্রযুক্তি, রোবোটিক সহায়তা এবং নিরাপদ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নানা ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজও শুরু করেছে। এই প্রযুক্তিগুলোর বড় অংশই গগনযান কর্মসূচি থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আরও উন্নত করা হচ্ছে।
সম্পূর্ণ ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন তৈরি হবে মোট ৫টি মডিউল নিয়ে। এর মধ্যে থাকবে বিএএস-০১ বেস মডিউল, কোর মডিউল, বিজ্ঞান গবেষণা মডিউল, পরীক্ষাগার মডিউল এবং কমন বার্থিং মডিউল। সব কটি মডিউল ধাপে ধাপে উৎক্ষেপণ করে মহাকাশে একত্রিত করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে ২০৩৫ সালের মধ্যে। তখন এই মহাকাশ স্টেশন ভারতের নিজস্ব স্থায়ী কক্ষপথ গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
এই স্টেশনে একসঙ্গে মহাকাশচারীরা প্রায় ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। সেখানে মাধ্যাকর্ষণ প্রায় অনুপস্থিত এমন পরিবেশে ওষুধ তৈরির গবেষণা, জীববিজ্ঞান, নতুন উপাদান তৈরির পরীক্ষা, মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং দীর্ঘ সময় মহাকাশে মানুষের বসবাসের নানা দিক নিয়ে গবেষণা করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে চন্দ্র অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি যাচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করবে এই কেন্দ্র।
ভারতের স্পেস ভিশন ২০৪৭ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন। বহু বছর ধরে অন্য দেশের মহাকাশ স্টেশনের উপর নির্ভর করে গবেষণার সুযোগ সীমিত ছিল। এবার নিজের প্রযুক্তি, নিজের উৎক্ষেপণযান এবং নিজের মহাকাশচারীদের জন্য তৈরি হতে চলেছে সম্পূর্ণ দেশীয় একটি কক্ষপথ গবেষণাকেন্দ্র। ২০২৩ সালের ঘোষণার পর ২০২৪ সালের অনুমোদন, ২০২৬ সালে প্রকল্পের বাস্তব কাজের সূচনা এবং ২০২৮ সালে প্রথম মডিউল উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি—এই ধারাবাহিক অগ্রগতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, মহাকাশে ভারতের উপস্থিতি আর শুধু অভিযানে সীমাবদ্ধ থাকছে না, ধীরে ধীরে সেখানে তৈরি হচ্ছে দেশের নিজস্ব স্থায়ী ঠিকানা।
10/07/2026
অযোধ্যার রাম মন্দিরের দান আত্মসাতের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এসআইটির দাবি, দানের অর্থের একটি অংশ শুধু আত্মসাৎই করা হয়নি, তা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ এবং সুদে ধার দেওয়ার কাজেও ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অর্থের উৎস গোপন রাখতে আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠদের একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই ৩০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে নগদ টাকা, সোনার গয়না, গাড়ি ও জমি কেনার নথি।
এখনও পর্যন্ত এই মামলায় ৮ জন গ্রেফতার হয়েছে। তবে মনে রাখা জরুরি, এগুলি তদন্তকারী সংস্থার দাবি এবং মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনও চলছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত বলে ধরা যায় না। এই ঘটনার প্রতিটি নতুন তথ্য দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
----
১০ জুলাই ২০২৬-এ অযোধ্যার রাম মন্দিরের দান আত্মসাতের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। উত্তর প্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটির দাবি, দানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ধৃত কয়েক জন শুধু সেই টাকা নিজেদের কাছে রাখেনি, তার একটি অংশ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছে এবং আরও একটি অংশ সুদে ধার দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেছে। তদন্তকারীদের মতে, দানের অর্থের আসল উৎস গোপন রাখতে বহু লেনদেন অভিযুক্তদের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ পরিচিতদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘোরানো হয়েছে। এই সমস্ত তথ্য এখনও তদন্তের অংশ, আদালতে তার সত্যতা প্রমাণ হওয়া বাকি।
তদন্তে উঠে এসেছে, দানের অর্থের লেনদেন খতিয়ে দেখতে এসআইটি ইতিমধ্যেই মোট ৩০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। এই অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে অভিযুক্তদের পাশাপাশি তাঁদের আত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টও রয়েছে। পুলিশের দাবি, অনেক অ্যাকাউন্টেই এমন লেনদেনের খোঁজ মিলেছে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে মিলছে না। এখন প্রতিটি লেনদেনের উৎস, অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং পরে কোথায় গিয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাব মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত অনুকল্প মিশ্র এবং অবিনাশ শুক্ল নামে দুই অভিযুক্তের কাছ থেকে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সূত্র মিলেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। সেই কারণেই তাঁদের ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট, শেয়ার লেনদেনের নথি, মোবাইলের আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, দানের অর্থ থেকে কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল, সেই বিনিয়োগ থেকে কোনও লাভ হয়েছে কি না এবং সেই লাভের অর্থ আবার কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে কি না।
এসআইটির দাবি, আত্মসাতের অভিযোগে থাকা অর্থের একটি অংশ সাধারণ মানুষের কাছে সুদে ধারও দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, এর মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করার চেষ্টা চলছিল। একই সঙ্গে অভিযোগ, আত্মীয়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রথমে টাকা পাঠিয়ে পরে আবার সেই অর্থ নিজেদের অ্যাকাউন্টে ফিরিয়ে আনা হতো, যাতে অর্থের আসল উৎস খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই আর্থিক পথ অনুসরণ করেই এখন তদন্ত আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
তল্লাশির সময় তদন্তকারীরা নগদ টাকা, সোনার গয়না, একটি গাড়ি, একাধিক আর্থিক নথি এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্র উদ্ধার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে অনুকল্প মিশ্রের নামে প্রায় ১ একর জমি কেনার কাগজও রয়েছে। ওই জমিটি প্রায় ৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই জমি কেনার জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎসও এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মামলায় এখনও পর্যন্ত দান গণনার কাজের সঙ্গে যুক্ত মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে জাল দানের রসিদের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, দানের প্রতিটি টাকার গতিপথ খুঁজে বের করার পাশাপাশি কারা এই অর্থ আত্মসাতে যুক্ত ছিল এবং কারা সেই অর্থ লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে, সেই সমস্ত দিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলেছে। আদালতে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ তদন্তাধীন বলেই গণ্য হবে।
10/07/2026
গভীর রাতের অন্ধকারে ঘটে গেল এমন একটি ঘটনা, যা বহু ভক্তের মনে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গুয়াহাটির বেটকুচিতে অবস্থিত পূর্ব তিরুপতি শ্রী বালাজি মন্দিরে দুষ্কৃতীরা ঢুকে তিনটি দানবাক্স ভেঙে নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার আগে কয়েক ঘণ্টার জন্য সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা অচল ছিল, যদিও সেটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
শ্রী বালাজি মন্দির, দুর্গা মন্দির এবং পদ্মাবতী মন্দিরের দানবাক্স ভাঙার এই ঘটনায় এখনও ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক জানা যায়নি। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব তিরুপতি শ্রী বালাজি মন্দিরে এটিই প্রথম চুরির ঘটনা বলে জানিয়েছে পরিচালনা কমিটি। কীভাবে ঘটল এই চুরি, কী কী তথ্য সামনে এসেছে এবং তদন্ত এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেই সমস্ত তথ্যই রয়েছে আজকের প্রতিবেদনে।
----
গুয়াহাটির বেটকুচিতে জাতীয় সড়ক ২৭-এর ধারে অবস্থিত পূর্ব তিরুপতি শ্রী বালাজি মন্দিরে ৯ জুলাই, ২০২৬ সকালে এমন এক ঘটনার খবর সামনে আসে, যা বহু ভক্তকে বিস্মিত করেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ৮ জুলাই গভীর রাত থেকে ৯ জুলাই ভোরের মধ্যেই একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি মন্দির চত্বরে ঢুকে তিনটি দানবাক্স ভেঙে নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি সামনে আসতেই উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকেরা মন্দিরে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, চুরির আগে কয়েক ঘণ্টার জন্য মন্দিরের সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা অচল হয়ে গিয়েছিল। তবে সেটি পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, নাকি অন্য কোনও প্রযুক্তিগত কারণে কাজ করেনি, সেই বিষয়টি এখনও পুলিশ নিশ্চিত করেনি এবং তদন্ত চলছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, একই প্রাঙ্গণের মধ্যে থাকা শ্রী বালাজি মন্দির, দুর্গা মন্দির এবং পদ্মাবতী মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। দানবাক্সগুলিতে প্রতিদিন বহু ভক্ত তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দান করেন। তাই ঠিক কত টাকা চুরি হয়েছে, তা ঘটনাস্থলেই জানানো সম্ভব হয়নি। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দানবাক্সের হিসাব ও মূল্যায়নের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না। সেই কারণে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার পর পুলিশ দানবাক্স, মন্দির চত্বর এবং সিসিটিভি ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা কীভাবে দুষ্কৃতীরা মন্দিরে প্রবেশ করেছিল, তারা কতজন ছিল এবং কোনও প্রমাণ রেখে গিয়েছে কি না, সেই বিষয়েও অনুসন্ধান করছেন। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়নি। পাশাপাশি, সিসিটিভির ত্রুটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
পূর্ব তিরুপতি শ্রী বালাজি মন্দিরের ইতিহাসও এই ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। মন্দিরটির প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৮ সালে। মন্দিরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের শান্তি, কল্যাণ এবং সমৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েই এই মন্দির গড়ে তোলা হয়েছিল। দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই উপাসনাস্থলে সারা বছর বহু ভক্তের সমাগম হয়। সেই কারণেই মন্দির পরিচালনা কমিটির দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম এমন চুরির ঘটনা ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের বিশ্বাস ও দানের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই পবিত্র স্থানে এমন একটি ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতির প্রশ্নই তুলছে না, মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Address
Behala