PostBardhaman
Bengali news website
শক্তিগড়ে কিশোরীর শ্লীলতাহানি, মুির্শদাবাদ থেকে যুবক ধৃত
নিজস্ব সংবাদদাতা: কিশোরীর শ্লীলতাহানি ও তাঁর আপত্তিকর ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে শক্তিগড় থানার পুলিশ। ধৃতের নাম রাহুল মল্লিক। মুির্শদাবাদের শক্তিপুর থানার বালিহরপাড়ায় তার বাড়ি। রবিবার ভোররাতে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর ব্যবহৃত ডিভাইস উদ্ধারের চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু, তা সফল হয়নি। ধৃতকে এদিনই বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতের মেডিকেল পরীক্ষা করানোর জন্য আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক স্টেট মেডিসিনের প্রধানকে নিের্দশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম। বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে ধৃতকে সোমবার পকসো আদালতে পেশের নিের্দশ দিয়েছেন বিচারক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শক্তিগড় থানা এলাকায় বছর ১৬–র ওই কিশোরীর বাড়ি। বছর খানেক আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কিশোরীর সঙ্গে রাহুলের পরিচয় হয়। ক্রমে দু’জনের মধ্যে ভাব–ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এবছরের ২১ জানুয়ারি রাহুল কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে শক্তিগড়ে আসে। কিশোরীকে তারই ঠাকুমার বাড়িতে নিয়ে যায় অভিযুক্ত। সেখানে কিশোরীর আপত্তিকর ছবি তার মোবাইলে তোলে সে। কিশোরী তার সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে অস্বীকার করলে অভিযুক্ত তাকে ভয় দেখায়। সমাজমাধ্যমে তার আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে তা ছড়িয়েও দেয় সে। এরপর কিশোরীর পরিবারের তরফে ঘটনার কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অধ্যাপিকা খুনের মোটিভ নিয়ে ধন্দে দিল্লি পুলিশ
নিজস্ব সংবাদদাতা: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে খুনের ঘটনায় বর্ধমান শহরের বাদামতলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাসকে। কিন্তু, খুনের মোটিভ এখনও পরিষ্কার নয় পুলিশের কাছে। দেবস্মিতার দাদুর বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকে রামপ্রসাদ। বর্ধমান থেকে এত দূরে অধ্যাপিকাকে কেন খুন করতে গেল সে? এর পিছনে কি শুধুই দেবস্মিতার দাদুর কয়েক কোটি টাকার বাড়ি হাতানোর পরিকল্পনাই ছিল? নাকি, অধ্যাপিকা খুনের পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। দেবস্মিতার বোন ও দাদা রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই দেবস্মিতাকে খুন করতে পারলেই যে কয়েক কোটি টাকার বাড়ি হাতানো যাবে তা কিন্তু নয়। সেকারণে সম্পত্তি হাতানোর পরিকল্পনার বিষয়টি তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণাও এলেও অধ্যাপিকাকে খুনের পিছনে অন্য কী কারণ থাকতে পারে তা ভাবনার মধ্যে রয়েছে পুলিশের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাল্যকাল অভাবের মধ্যে কেটেছে রামপ্রসাদের। তার বাবা অরবিন্দ স্টেডিয়ামে গাের্ডর কাজ করেন। অভাবের মধ্যে বড় হওয়া রামপ্রসাদ চিরকালই ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখত। প্রথমে সে গাড়ির ব্যবসা শুরু করে। দু’–তিনটি গাড়ি কেনে সে। একটি গাড়ি সে নিজে চালাত। বাকি দু’টি গাড়ি ভাড়ায় খাটাত সে। গাড়ি ব্যবসায় তার লোকসান হয়। তবে, বিনয়ী আচরণের হলেও রামপ্রসাদ বরাবরই কিছুটা বেপরোয়া। গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের সুবাধে তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসারের পরিচয় ছিল। গাড়ির ব্যবসায় সেই প্রভাব খাটাত সে। গাড়িতে পুলিশের বোর্ড ঝুলিয়ে ভাড়া নিয়ে যেত রামপ্রসাদ। গাড়ি ব্যবসায় লোকসানের পর সে ইলেক্ট্রনিক্সের ব্যবসায় নামে। শহরের তিনকোনিয়া এলাকায় পুরসভার অফিসের পাশে ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান খোলে সে। সেই ব্যবসাতেও তার লোকসান হয়। বাধ্য হয়ে সে ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান বিক্রি করে দেয়। দোকান বিক্রিতেও তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজনের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়ে তাদের সে দোকান বিক্রি করেনি। দোকান বন্ধ হওয়ার পর দিল্লি থেকে পুরাতন মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক্সের সরঞ্জাম এনে বিক্রি শুরু করে। সেই ব্যবসাও কিছুদিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, সংসারে কিছুটা অভাব দেখা দেয়।
মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক্সের ব্যবসার সুবাধে মাঝে মধেই সে দিল্লি যেত। সেখান থেকে মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক্স সরঞ্জাম কিনে এনে বিক্রি করত সে। দিল্লিতে হামেশাই যাতায়াতের সুবাধে সেখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি এবং পথঘাট তার অনেকটাই চেনা। দিল্লিতে যাওয়ার সময় সে দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে আগে গিয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। তবে, যেভাবে অপারেশন সেরে দিল্লি থেকে সে পালিয়ে এসেছে তা থেকে পুলিশ নিশ্চিত, পরিকল্পনা করে সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিচিত হওয়ায় অধ্যাপিকা তাকে আবাসনের দরজা খুলে দিয়েছিলেন বলে অনুমান তদন্তকারীদের। বাড়ি হাতানোর পাশাপাশি ঘটনার পিছনে অর্থ এবং সোনার গয়না আত্মসাতের বিষয়টি রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Burdwan
713104