Travel Now
Travel Tour & More
WISH ALL OF YOU A VERY HAPPY & COLOURFUL HOLY
27/11/2016
BEAUTIFUL BARANTI
গেলেই হয়— বাংরিপোশি
হাতে দু’দিন সময় থাকলে বেড়িয়ে আসুন পড়শি রাজ্য থেকে। ওড়িশার বাংরিপোশি কলকাতা থেকে মাত্র ২৩০ কিলোমিটার দূরে।
বুদ্ধদেব গুহের ‘বাংরিপোশির দু’রাত্তির’ যদি পড়ে থাকেন, এখানে যেতে মন চাইবেই। আর যদি জঙ্গল ভালবাসেন, তাহলে তো কথাই নেই। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জের ঠাকুরানি পাহাড়ের কোলে ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম বাংরিপোশি। শহরের ধুলো ঝেড়ে দু’দিনের জন্য হারিয়ে যাওয়ার আদর্শ ঠিকানা।
পাহাড়ঘেরা গ্রাম। পাশেই তিরতির করে বয়ে চলেছে বুড়িবালাম। ঠিক ধরেছেন, বাঘাযতীন যে নদীকে ইতিহাসের পাতায় জায়গা দিয়েছিলেন। লোধা, সাঁওতাল, ভিল, মুণ্ডাদের এই গ্রামে গেলে প্রাণে ঠান্ডা বাতাস লাগতে বাধ্য। শাল-মহুয়ায় মোড়া বাংরিপোশির সৌন্দর্য সবচেয়ে ভাল উপভোগ করা যায় বর্ষায় গেলে। পাহাড়ের মাথায় কনকদুর্গা বা বনবিবির মন্দির নাকি খুব জাগ্রত। পায়ে হেঁটে কিংবা ট্রেকারে ঘুরতে পারেন আশপাশের জায়গা। খরকাই নদীর উপর সুলাইপাত বাঁধ কিংবা অদূরে কুলিয়ানা গ্রামের ডোকরা শিল্পের কাজ দেখে আসুন। ওখান থেকে হাতে গড়া ডোকরার মূর্তি কিনতেও পারেন বাড়ি সাজানোর জন্য। পথে নানা রকমের পাখি আর প্রজাপতি চোখ জুড়িয়ে দেবে। ক্যামেরা নিয়ে তৈরি থাকতে হবে কিন্তু। উত্সবের মরসুমে গেলে আদিবাসী নাচ দেখতে পাবেন। বুড়িবালামে চাইলে নৌকা নিয়ে ভেসে আসতে পারেন খানিকদূর। ট্রেকিংয়ের অভ্যেস থাকলে চলে যান ঠাকুরানি পাহাড়ের দিকে। অর্ধেশ্বর, বুড়াবুড়ি, বিদ্যাভাণ্ডার— অজস্র পাহাড়চুড়ো রয়েছে ট্রেক করার জন্য। কাছেই বিষয়ী গ্রাম। সেখানকার হাটে ঢুঁ মারলে মোরগের লড়াই দেখতে পেয়ে যাবেন। ছোট ছোট বাঁশের জিনিসও কিনতে পাওয়া যায় হাটে। তাজা মধু কিনতে পারেন। চেখে দেখতে পারেন হাঁড়িয়াও!
বাংরিপোশি থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে সিমলিপাল ন্যাশনাল পার্ক। তবে সেখান থেকে ঘুরে আসতে গেলে হাতে আরেকটু সময় চাই। বারিপাদা কিংবা জোশীপুর থেকে পারমিট করাতে হয়। একসময় পুরো এলাকাটা মাওবাদী-অধ্যুষিত ছিল। তবে এখন তেমন ভয়ের কিছু নেই।
কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে কেওনঝড় বা সিমলিপাল যাওয়ার বাসে উঠে পড়ুন। বাবুঘাট থেকে ওটিডিসি’র বাস ধরতে পারেন। কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে ছাড়ে বারিপাদা যাওয়ার বাস। কোলাঘাট, খড়্গপুর ছাড়িয়ে ছ’নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে যেতে যেতেই পথে পড়বে সুবর্ণরেখা নদী, লোধাশুলির জঙ্গল। ওড়িশার বর্ডারে জামশোলা চেকপোস্ট পেরিয়ে নামতে হবে বম্বে চৌকি বা ঝারপোখারিয়ার মোড়ে। সেখান থেকে ট্রেকার, শেয়ার জিপ কিংবা অটোয় বাংরিপোশি চেকপোস্ট। ট্রেনে যেতে চাইলে হাওড়া থেকে ভোরবেলা ধৌলি এক্সপ্রেস ধরে বালাসোরে নামতে হবে। সেখান থেকে কানেক্টিং লোকাল ট্রেনে বাংরিপোশি পৌঁছতে পারেন। একটাই ট্রেন আছে। অথবা বালাসোর থেকে ট্রেকারে বাকি পথটা পাড়ি দিতে হবে।
কোথায় থাকবেন
হোটেল বাংরিপোশি এখানকার সবচেয়ে পরিচিত থাকার জায়গা। বুদ্ধদেব বসু নাকি এখানে বসেই লিখেছিলেন বাংরিপোশিকে নিয়ে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস। এখানে কেয়ারটেকার বুধুয়া আর তার স্ত্রীও বেশ পরিচিত আতিথেয়তার জন্য। হোটেলের ওয়েবসাইটে গিয়ে বুকিং করতে পারবেন। এছাড়া ওড়িশা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের পান্থশালায় থাকতে পারেন। লেনিন সরণির ‘উত্কল ভবন’ থেকে বুকিং করতে পারবেন। অদূরে রয়েছে সিমলিপাল রিসর্ট। ওটিডিসি’র রিসর্ট এখন নাম পাল্টে খৈরি রিসর্ট হয়েছে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Howrah
711409