StepsForward
This is spiritual & motivational page,
Trainer: Aparna Das Biswas Come to know our hindu relegation
14/12/2025
যেদিন পঞ্চতপা করব, সেদিন আমার বুক ধরফর করতে লাগল, খালি ভয় হতে লাগলো। কি করে আগুনের ভেতর সেঁধুব!!
পঞ্চতপা সাধনারতা সারদা। পঞ্চাগ্নির মধ্যে উদয়াস্ত বসে সাধনা অতি প্রাচীন। ভাগবতে, মনুসংহিতা ও কুমারসম্ভবকাব্যে পঞ্চতপা সাধনার উল্লেখ আছে। পার্বতী মহাদেবকে স্বামিরূপে পাওয়ার জন্য পঞ্চতপা করেছিলেন। শ্রীশ্রীমায়ের পঞ্চতপা অনুষ্ঠানের আমরা দুটি কারণ জেনেছি। প্রথম, ঠাকুরের দেহত্যাগের পর মায়ের মনে তীব্র বৈরাগ্য এল। তিনি জগৎ ছেড়ে চলে যেতে চাইছিলেন। তাঁর মনের অবস্থা দেখে এক নেপালি সন্ন্যাসিনী কাশীতে পরামর্শ দেন, "মাঈ, পঞ্চতপা করো।" তিনি ভাবলেন, এই বাইরের আগুন ভিতরের আগুনকে প্রশমিত করবে। দ্বিতীয় কারণ মা নিজেই বলেছিলেন, "এসব করা লোকের জন্য। নইলে লোকে বলবে, 'কই সাধারণের মতো খায় দায় আছে।” পঞ্চতপা ব্ৰতানুষ্ঠান প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীমায়ের শ্রীমুখনিঃসৃত দুটি বিবরণ পাওয়া যায়।
প্রথম বিবরণ:
কি দিনই সব গেছে-কি বলব তোমাদের! তারপর পূর্ণিমার রাত্রিতে যখন ঠাকুরকে গঙ্গায় মিশে যেতে দেখলুম, সেই থেকে শরীর রাখব ঠিক করলুম। ঠাকুরের কথা অমনি মনে পড়ে গেল-তিনি বলেছেন— 'তোমার মরা হবে না-তোমায় থাকতে হবে-আমি আর কজনকে দেখিছি? তোমার কাছে ঢের আসবে-তাদের ভার তোমার ওপর'-এই সব মনে হতে লাগলো, আর সারা রাত ঘুম হলো না। সকালে মেয়ে যোগেনকে (যোগীন মা-ঠাকুর ও মায়ের স্ত্রীভক্ত) পঞ্চতপার উদ্যোগ করতে বললুম। গোলাপ আর মেয়ে যোগেন বেলুড়ে নীলাম্বরবাবুর বাড়ীর ছাতের উপরে মাটি ফেলে খুঁটে যোগাড় করলে।
তারপর যেদিন পঞ্চতপা করবো, সে দিন যখন এলো, আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগল-খালি ভয় হতে লাগল, কি করে আগুনের ভেতর সেধুব। বুঝে দেখ কি ব্যাপার। পাঁচ হাত অন্তর অন্তর করে চারটে খুঁটের আগুনের বেড় মোটা করে গোল করে রাখা হয়েছে-দাউ দাউ করে জ্বলছে, আর মাথার ওপর ঠিক দুপুরের সূর্যি দারুণ গরমকাল-গঙ্গায় নেয়ে এসে কি করে আগুনের ভেতর ঢুকব, তা-ই ভাবছি-মেয়ে যোগেন সাহস দিয়ে বললে-'মা, ঢুকে পড়-ভয় কি?' তার সাহস পেয়ে ঠাকুরকে স্মরণ করে ঢুকলুম-মাঝখানে গিয়ে বসলুম-সন্ধ্যে পর্য্যন্ত রইলুম-এই পাঁচ পাঁচ দিন করলুম। শরীরটা পোড়া কাঠ হয়ে গেল, তবে গিয়ে মনের আগুন নিবল।
দ্বিতীয় বিবরণ:
একদিন মা বলিলেন, "ঠাকুর চলে যাবার কিছুকাল পর থেকে প্রায়ই দেখতুম দাড়িটাড়িওয়ালা এক সন্ন্যাসী আমাকে পঞ্চতপা করবার কথা বলতেন। প্রথম প্রথম আমি তেমন খেয়াল করিনি। পঞ্চতপা কি, তাও তত জানতুম না। তিনি ক্রমেই পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন। তারপর যোগেনকে (যোগেন-মা) পঞ্চতপার কথা জিজ্ঞাসা করায় যোগেন বললে, 'বেশ তো, মা, আমিও করব।' পরে পঞ্চতপার যোগাড় করা হলো। তখন বেলুড়ে নীলাম্বরবাবুর বাড়িতে। চারিদিকে ঘুঁটের আগুন, উপরে সূর্যের প্রখর তেজ। প্রাতে স্নান করে কাছে গিয়ে দেখি আগুন গমগম করে জ্বলছে। প্রাণে বড়ই ভয় হলো, কি করে ওর ভিতর যাব, আর সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে বসে থাকব। পরে ঠাকুরের নাম করে ঢুকে দেখি, আগুনের কোন তেজ নেই। এভাবে সাতদিন' কাজ করি। কিন্তু বাবা, শরীরের বর্ণ যেন কালো ছাই হয়ে গিছল। এর পর আর সে সন্ন্যাসীকে দেখি নাই।"
🙏জয় মা🙏
।। সংগৃহীত ।।
24/11/2025
স্বামী বিবেকানন্দ শ্রী রামকৃষ্ণের অবতারতত্ত্বের ও উদ্দেশ্য খুব সংক্ষেপে ও গভীর অর্থপূর্ণ একটি শ্লোকে ব্যক্ত করেছেন। এই শ্লোকটি হচ্ছে -
"ওঁ স্হাপকায় চ ধর্মস্য, সর্বধর্ম স্বরূপিনে।
অবতার বরিষ্ঠায় রামকৃষ্ণায় তে নমঃ॥"
"যিনি ধর্মের স্থাপক, সর্ব ধর্মের স্বরূপ ও অবতারবরিষ্ঠ সেই 'রামকৃষ্ণ' কে আমি নমস্কার করি।"
কামারপুকুরের গদাই রূপে জন্ম থেকে দক্ষিনেশ্বরের পরমহংস শ্রী রামকৃষ্ণ পর্যন্ত ধর্ম কে পুনঃ সুদৃঢ় ভিত্তিতে স্হাপন করা।
ব্রহ্ম, ঈশ্বর, আত্মা সব সত্য জগতের শরীর, মন, বুদ্ধি অহঙ্কার গুলো এই ব্রহ্মশক্তিতে কাজ করছে, তবে ক্ষনস্হায়ী ইত্যাদি পুনঃ প্রতিষ্ঠা করাটাই হচ্ছে ধর্মের স্হাপনা।
এখন রামকৃষ্ণ অবতার ১৮৩৬ সালে জন্মেছিলেন আর ১৮৮৬ সালে মাত্র পঞ্চাশ বৎসর বয়সে শরীর ত্যাগ করলেন। তাতে তাঁর সব লীলা ফুরিয়ে গেল - ভাবলে ভুল হবে। কেন না অবতার রা দীর্ঘ কাল কয়েকশত বৎসরের জন্য মুল তত্ত্ব গুলো সুদৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠা করে যান। এ তত্ত্ব গুলি তিনি পুনরায় না আসা পর্যন্ত যাতে ভালভাবে থাকে সেভাবে পাকা ব্যাবস্থা করে যান। তার জন্য তিনি তাঁরই ভিন্ন ভিন্ন অংশ অন্তরঙ্গ শিষ্য দের সঙ্গে আনেন। তাদের মধ্যে সর্ব প্রধান মূল ভিত্তি আর তাঁর মতের বাহক রূপে নরেন্দ্রনাথ কে আনলেন।
ঠাকুরের নিজের কথায় - "মন নির্বিকল্প সমাধি তে লীন হতে হতে সব দেব দেবী কে ছাড়িয়ে অখন্ড সত্তায় চলে গেল। এই অখন্ড সত্তা একটি ছোট শিশুর রূপ ধরে আবার নেমে আসতে আসতে সাতটি ঋষি নির্বিকল্পতে লীন হয়ে বসেছিলেন দেখতে পেলেন। তার মধ্যে একজনকে গলা ধরে এই দেব শিশু টি বলল "আমি যাচ্ছি তোমাকেও আসতে হবে।" সেই ঋষি একটু খুলে মৌনভাবে সন্মতি জানাল। সেই সপ্ত ঋষির একজন, সাক্ষাৎ নর নারায়ন ই - কোলকাতার সিমলা পল্লীতে বিশ্বনাথ দত্ত ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ছেলে "নরেন্দ্র" হয়ে জন্মেছে। ও আমার কাজের জন্য, মা কালীর কাজের আজ এসেছে। ওর এই পৃথিবী তে যে কাজের জন্য এসেছে সেটা ফুৃরিয়ে গেলে আবার সেই সপ্ত ঋষি মন্ডলেই চলে গিয়ে ধ্যানে লীন থাকবে।" - এই হচ্ছে শ্রী রামকৃষ্ণের আর একটা অংশ স্বামী বিবেকানন্দের সারতত্ত্ব।
ঐ শিশু ই হচ্ছে সচ্চিদানন্দ ব্রহ্ম - এ যুগের উপযোগী হয়ে এসেছেন। তবে এবার অত্যন্ত বিশুদ্ধ সত্ত্ব প্রধান হয়ে এসেছেন। অর্থাৎ এবার অস্ত্র, শস্ত্র, যুদ্ধ্, বিগ্রহ এসব করবেন না। এবার ধর্মস্হাপন করাবেন তাঁর ঐ প্রধান অস্ত্র বা যন্ত্র স্বামী বিবেকানন্দ কে দিয়ে।
তথ্য - শ্রী রামকৃষ্ণ ও তাঁর অবতারলীলা - স্বামী সৎপ্রভানন্দ।
(সংগৃহীত)
17/11/2025
"সাধুনাং দর্শনং পুণ্যাং তীর্থভূতা হি সাধবঃ ৷তীর্থং ফলতি কালেন সদ্যঃ সাধু সমাগমঃ ৷"
——— সাধু দর্শনের ফল পুণ্যাত্মক ৷ তীর্থদর্শনের ফল বিলম্বে ফলে কিন্তু সাধুসঙ্গের ফল সদ্য সদ্য ফলে ৷
"সন্ন্যাসী মানেই সাধু নয়, সংসারী লোকও সাধু হতে পারে । যে ঈশ্বরের চিন্তা করে, সৎ জীবন যাপন করে সেই সাধু । কিন্তু বিধিপূর্বক যে সন্ন্যাস গ্রহণ করে সে সন্ন্যাসী । তাই বলেছেন সন্ন্যাসীরও সাধুসঙ্গ দরকার ৷"
— স্বামী ভূতেশানন্দ, প্রণামিকা বিশেষ সংখ্যা,
পৃ, ১৩৮
🌸🌸🙏🙏🙏🌸🌸
10/11/2025
বেলুড় মঠের সূচনা থেকেই শ্রীশ্রীমা এখানে লীলারতা। শ্রীশ্রীঠাকুরের উদ্দেশ্যে তাঁর মর্মস্পর্শী আকুল প্রার্থনা ও অন্তরে-মথিত ফলশ্রুতি এই বেলুড় মঠ।
তাঁর নিজের কথায়: "আহা !এর জন্যে ঠাকুরের কাছে কত প্রার্থনা করেছি। তবে তো আজ তাঁর কৃপায় মঠ-টঠ যাকিছু। ঠাকুরের শরীর যাবার পর ছেলেরা সংসার ত্যাগ করে কয়েকদিন একটা আশ্রয় করে সব একসঙ্গে জুটল। তারপর একে একে স্বাধীনভাবে বেরিয়ে পড়ে এখানে ওখানে ঘুরতে থাকে। আমার মনে তখন খুব দুঃখ হলো। ঠাকুরের কাছে এই প্রার্থনা করতে লাগলুম, 'ঠাকুর, তুমি এলে, এই কয়েকজনকে নিয়ে লীলা করে আনন্দ করে চলে গেলে, আর অমনি সব শেষ হয়ে গেল?
তাহলে আর এত কষ্ট করে আসার কী দরকার ছিল? কাশী বৃন্দাবনে দেখেছি, অনেক সাধু ভিক্ষা করে খায়, আর গাছ তলায় ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। সেরকম সাধুর তো অভাব নেই। তোমার নাম করে সব ছেড়ে বেরিয়ে আমার ছেলেরা যে দুটি অন্নের জন্য ঘুরে ঘুরে বেড়াবে, তা আমি দেখতে পারব না। আমার প্রার্থনা, তোমার নামে যারা বেরুবে তাদের মোটা ভাত -কাপড়ের অভাব যেন না হয়। ওরা সব তোমাকে আর তোমার সব ভাব ,উপদেশ নিয়ে একত্রে থাকবে।
আর এই সংসারতাপদগ্ধ লোকেরা তাদের কাছে এসে তোমার কথা শুনে শান্তি পাবে। এজন্যই তো তোমার আসা। ওদের ঘুরে ঘুরে বেড়ানো দেখে আমার প্রাণ আকুল হয়ে ওঠে।' তারপর থেকে নরেন ধীরে ধীরে এইসব করল।
জয় ঠাকুর জয় জয় মা🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
।। সংগৃহীত ।।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Karimpur