PhotoGen
Centre for Visual Arts
20/12/2025
প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী মৌলবাদী হামলায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক 'ছায়ানট' ভবন ধ্বংসের ঘটনার প্রতিবাদ করে সারা বাংলা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি সম্মিলনীর অন্যতম সমন্বয়ক শ্রী রাজেশ রোশন হাসমী আজ এক বিবৃতিতে বলেন:
বাংলাদেশের ছায়ানট ভবন আক্রান্তের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। গত কয়েক মাস ধরেই প্রতিবেশী বাংলাদেশের সামাজিক সাংস্কৃতিক অবস্থা স্পর্শকাতর হয়ে আছে। তার ধারাবাহিকতাতেই ঢাকার ধানমন্ডিতে ছায়ানটের সাত তলা ভবনের প্রায় প্রতিটি তলার প্রত্যেকটি ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। লাগানো হয়েছে আগুনও। ছায়ানটের অসংখ্য বাদ্যযন্ত্র ও শিল্পকর্ম তছনছ করা হয়েছে, ভাঙ্গা হয়েছে ছায়ানটের প্রাণপুরুষ সানজিদা খাতুনের ছবি, ছুরি দিয়ে ফালাফালা করা হয়েছে সানজিদার পোট্রেটও। বাদ যায়নি রবীন্দ্রনাথ - নজরুল - লালন ফকিরের ছবি।
আমরা সারা বাংলা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি সম্মিলনীর পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। ছায়ানট এর প্রাক্তনীরা সেই ভস্মীভূত ভবনের সামনে গান গেয়ে প্রতিবাদ করেছেন। আমরা এই নাগরিক প্রতিবাদকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানাই। ছায়ানটের উপর বাংলাদেশের মুসলিম মৌলবাদী শক্তির এই আঘাত শুধুমাত্র কোন প্রতিষ্ঠানের উপর আঘাত নয়, এই আঘাত বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের বিরুদ্ধে আঘাত। এমনকি বাংলাদেশে মৌলবাদী অপশক্তি তার কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে যে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে, তা অত্যন্ত গর্হিত অপরাধের শামিল। কিন্তু এই ঘটনা সমূহকে দেখিয়ে যারা বাংলাদেশে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া যে ঐতিহাসিক "জুলাই গণঅভ্যুত্থান", তাকে ভুল প্রমাণ করতে চাইছেন, তারও আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা জানাই।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মহীয়ান বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সানজিদা খাতুনের এই ছায়ানট ভবনে ছিল দুই বাংলার সংস্কৃতির বহু নিদর্শন। মূলত সংগীত-সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সমাজ গড়তে প্রয়াসী এই ছায়ানট। সেই ছায়ানটের উপর আক্রমণ সমস্ত সংস্কৃতিবান মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মধ্য দিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বাংলাদেশের সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি ছায়ানট ধ্বংস হলেও, এর সংস্কৃতি অটুট থাকবে; রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-লালন ফকিরের চেতনা সে দেশের সংস্কৃতিকে আরোও মজবুত করে তুলবে। সেই চেতনাই বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর সমস্ত দেশের মৌলবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কণ্ঠকে সোচ্চার করবে।
সংবাদদাতা
হেমন্ত মালিক
গৌরব ঘোষ
15/12/2025
"পৃথিবীর সব শিল্পই সামাজিক শিল্প। কোনো শিল্পই শুধু নিজের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। চলচ্চিত্রকে একটা শিল্প বলা হয়। কাজেই, আমি যদি চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে গ্রহণ করি, তা হলে আমাদেরকে ধরে নিতেই হবে যে ছবির একটা সামাজিক দায়িত্ব আছে।" - ঋত্বিক ঘটক
আবার কেন! আমরা বলি, প্রয়োজন নেই।
বছর আসে, বছর যায়, এখন আবার জন্মশতবর্ষ। এখন তো আরো বেশি করে পাতার পর পাতা লেখা হবে। সেমিনার হবে, কনফারেন্সে হবে, তত্ত্ব আলোচনা হবে, বিতর্ক হবে.... কি দরকার এসবের? প্রতি বছর তাঁকে নিয়ে তো চর্চা কম হয় না। কিন্তু কোথাও গিয়ে আমরা একটা জিনিষ দুর্ভাগ্যজনক ভাবে হলেও মানতে বাধ্য যে এই চর্চার বেশিরভাগ সময়ই ক্রিয়াহীন জ্ঞানে আবদ্ধ হয়ে থাকে। মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তির, সীমিত কিছু পরিসরের মধ্যে আবদ্ধ ঋত্বিক ঘটক। উপরন্তু তাঁর শিল্পদর্শন ও জীবনদর্শনকে হৃদয়ঙ্গম করার ব্যাপারটা এসবের ভিড়ে কোথাও যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। একথা ঠিক যে একটি ব্যক্তি, তাঁর চিন্তা চেতনা যেমন বিবেচ্য হবে তাঁর সময়কালের প্রেক্ষিতে, তেমনই একথাও অনস্বীকার্য যে যেকোনো চিন্তাধারা সময়ের সাথে সাথে আরো সমৃদ্ধ হয় - ইতিহাসের পথেই তার গুরুত্ব নির্ধারিত হয়; বহু দর্শন যেমন সময়ের সাথে প্রাসঙ্গিকতা হারায়, তেমন আবার বহু দর্শন সময়ের সাথে সাথে আরো বেশি সমৃদ্ধ হয় ওঠে, আরো শাণিত হয়। কিন্তু সে কখনোই শুধু কথা দিয়ে সম্ভব নয়। তাই আমরা বলি, ঋত্বিক চর্চা বন্ধ হোক। ক্রিয়হীনতার বিলাসিতায় ঋত্বিককে আবদ্ধ রাখলে তাঁর রাজনৈতিক সামাজিক চেতনার মূল লক্ষ্যটাই তাসের প্রাসাদের মত ভেঙে পড়ে। তাই যে প্রশ্নটা নিয়ে আমরা কথা বলতে উদ্যোগী সেটা হলো, ঋত্বিক চর্চার ভাষ্য, তার প্রক্রিয়া, তাকে বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিক করে তোলবার প্রক্রিয়াটা ঠিক কেমন হতে পারে? সেটা কি শুধুই ঋত্বিক ঘটকের মধ্যেই আবদ্ধ থাকবে? নাকি তাঁকে সাথে নিয়েই আমাদের আরো বৃহত্তর পরিসরের কথা ভাবা প্রয়োজন? এই উদ্দেশ্যই ফটোজেন ও শোহরতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি।
সাথে থাকবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী: হোমবাউন্ড। সুবর্ণরেখা নয়, মেঘে ঢাকা তারাও নয়, তিতাসও নয়। কিন্তু কেন হোমবাউন্ড? উত্তর টা আলোচনার পরিসরেই উঠে আসবে। ১৯ তারিখ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কে.পি.বসু হলে। প্রবেশ অবাধ।
05/10/2025
এক বছর আগে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম চা বাগানের চা শ্রমিকদের বহু প্রতিকূলতায় ভরা জীবনের দৃশ্য। আজ, যখন প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় ভাসছে উত্তরবঙ্গ, প্রাণ হারাচ্ছেন বহু মানুষ, সেই প্লাবনে বাদ পড়েনি ওখানকার চা বাগানও। ভাসছে ডায়ানা, বানারহাট, ভাসছে ডুয়ার্স-তরাইয়ের চা বাগানগুলো। বানের জলে ভেসে যাচ্ছে চা শ্রমিকদের ঘরবাড়ি, প্রবল দুর্যোগের সম্মুখীর তারা।
আমাদের Tea Garden Students' Forum (TGSF)-এর বন্ধুদের উদ্যোগে ভলান্টিয়াররা এগিয়ে এসেছে তাদের পাশে দাঁড়াতে। এমন দুর্যোগের সময়, আমরা সকলের কাছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন রাখছি।
পোস্টের ছবি/ভিডিওতে ডায়ানা, বানারহাট, এবং নাগরাকাটার দৃশ্য।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Kolkata