Aranyamon Prokashoni
অরণ্যমন প্রকাশনী
পুস্তক প্রকাশক
12/07/2026
#বইতরণী
নভেম্বর রেইন
কৌশিক সামন্ত
প্রকাশনী: অরণ্যমন প্রকাশনী
মূল্য: ২২৫/-
“Nothing lasts forever, even cold November rain.”
কিছু কিছু বই থাকে, যেগুলো আমরা শুধু পড়ি না—আমরা তাদের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাই। “নভেম্বর রেইন” আমার কাছে ঠিক তেমনই এক অভিজ্ঞতা। এই বইটা নিয়ে লিখতে বসে মনে হচ্ছে আমি আসলে কোনো রিভিউ লিখছি না, বরং নিজের ভেতরের একটা দীর্ঘ সময়কে ছুঁয়ে দেখছি।
গত কয়েক মাস যেন আমার জীবনের একটা নিঃশব্দ ঋতু ছিল। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক লাগলেও, ভেতরে কোথাও যেন একটা অবিরাম ক্লান্তি, এক ধরনের অকারণ শূন্যতা কাজ করছিল। রাতগুলো দীর্ঘ হয়ে উঠছিল, ঘুম আসছিল না, আর দিনের আলোতেও যেন কোনো উজ্জ্বলতা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এই সময়টায় সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম, সেটা হলো বই। যে বই একসময় আমার আশ্রয় ছিল, আমার একান্ত ব্যক্তিগত জায়গা ছিল, সেটাকেই যেন আমি ছুঁতে পারছিলাম না।
ঠিক তখনই, একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে, আবার বইয়ের দিকে ফিরতে ইচ্ছে করল। কোনো বিশেষ কারণ ছিল না—শুধু একটা টান। আর সেই টানেই হাতে তুলে নেওয়া “নভেম্বর রেইন”। এই বইটার সাথে একটা আলাদা স্মৃতি জড়িয়ে আছে—অনেকদিন ধরে খুঁজেও না পাওয়া, আর তারপর হঠাৎ একদিন, এক বিশেষ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এক নিঃশব্দ উপহার। তাই বইটা খোলার আগেই এর ভেতরে একটা ব্যক্তিগত অনুভূতি জমে উঠেছিল।
প্রথম কয়েকটা পাতা পড়তেই বুঝতে পারলাম, এই বইটা শুধু একটা গল্প বলতে আসেনি—এটা একটা আবহ তৈরি করতে এসেছে। পাহাড়ের সেই নির্জনতা, কুয়াশায় ঢাকা সকাল, আর টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ—সবকিছু মিলিয়ে এমন একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেটা শব্দের থেকেও বেশি অনুভূতির। মনে হচ্ছিল আমি পড়ছি না, বরং কোনো দৃশ্যের ভেতর দিয়ে হাঁটছি। দূরে কোথাও মেঘ নামছে, ভেজা হাওয়া গায়ে লাগছে, আর সেই নীরবতার মধ্যে আমি নিজেই ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছি।
গল্পটা খুব সাধারণ কিছু মুহূর্ত দিয়ে শুরু হয়—কলেজ, বন্ধু, আড্ডা, হোস্টেলের দিন, ছোটখাটো অশান্তি, হাসি আর সেই পরিচিত নির্ভার সময়। কিন্তু এই সাধারণতার মধ্যেই খুব নিঃশব্দে জন্ম নেয় এক অনুভূতি, যার কোনো বড় ঘোষণা নেই। একতরফা ভালোবাসা—যেটা কখনো নিজের অস্তিত্ব নিয়ে চিৎকার করে না, বরং চুপচাপ একটা জায়গা দখল করে বসে থাকে। এই ভালোবাসাটা খুব ধীরে বড় হয়, খুব নিঃশব্দে গভীর হয়, আর ঠিক সেই কারণেই এটা এতটা সত্যি লাগে।
সায়নের অনুভূতিগুলো পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে, এই গল্পটা শুধু তার নয়। এটা আমাদের সবার জীবনের কোনো না কোনো সময়ের প্রতিফলন। সেই না বলা কথা, সেই অপ্রকাশিত অনুভূতি, সেই একবার হলেও ফিরে তাকানোর ইচ্ছে—সবকিছুই ভীষণ চেনা।
লেখক খুব অদ্ভুত সুন্দরভাবে গল্পটার আবেগকে ধরে রেখেছেন। কোথাও হালকা হাসি, কোথাও মজার খুনসুটি, আবার হঠাৎই এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যেগুলো নিঃশব্দে বুকের ভেতর একটা চাপা ব্যথা তৈরি করে। এই ওঠা-নামার মধ্যেই গল্পটা একেবারে জীবন্ত হয়ে ওঠে। মনে হয়, এটা কোনো বানানো গল্প নয়—এটা কোথাও না কোথাও সত্যি।
মাঝে মাঝে কিছু গানের লাইন এসে গল্পটার আবেগকে আরও গভীর করে দেয়। মনে হয়, শব্দগুলো শুধু পড়া যাচ্ছে না—ওগুলো যেন শোনা যাচ্ছে। একটা দৃশ্য, একটা সুর, একটা অনুভূতি—সব একসাথে মিশে যাচ্ছে।
গল্পটা এগোতে এগোতে একটা জায়গায় এসে দাঁড়ায়, যেখানে বাস্তব আর কল্পনার সীমারেখাটা একটু ঝাপসা হয়ে যায়। মনে একটা প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে—যদি সত্যিই কোনোদিন অতীত বদলানোর সুযোগ আসে, আমরা কী করব? আমরা কি সেই পুরনো ভুলগুলো ঠিক করতে চাইব? নাকি সেই ভুলগুলোকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকব, কারণ সেগুলোই তো আমাদের আজকের আমি করে তুলেছে?
এই প্রশ্নের কোনো সহজ উত্তর নেই। আর ঠিক এই কারণেই গল্পটা এতটা প্রভাব ফেলে।
শেষটা যখন আসে, সেটা খুব নীরবে আসে। কোনো বড় নাটকীয়তা নেই, কোনো চমক নেই—শুধু একটা থেমে যাওয়া। অনেকের কাছে হয়তো এই শেষটা অপূর্ণ লাগতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, এই অপূর্ণতাই আসলে গল্পটার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য। কারণ বাস্তব জীবনে তো সবকিছু সম্পূর্ণ হয় না। কিছু কথা না বলাই থেকে যায়, কিছু অনুভূতি শেষ পর্যন্ত নাম পায় না, কিছু সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট পরিণতি ছাড়াই থেমে যায়।
“নভেম্বর রেইন” ঠিক সেই থেমে যাওয়া মুহূর্তগুলোর গল্প।
এই বইটা আমার কাছে শুধু প্রেমের গল্প নয়। এটা একাকীত্বের গল্প, স্মৃতির গল্প, নিজেকে হারিয়ে ফেলার গল্প, আর ধীরে ধীরে আবার নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প। এটা এমন একটা অনুভূতি, যা পড়া শেষ হয়ে গেলেও শেষ হয় না। বরং একটা নরম বৃষ্টির মতো থেকে যায়—যার শব্দ হয়তো থেমে গেছে, কিন্তু তার গন্ধটা এখনো ভেসে বেড়ায়।
এই বই পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে, আমরা আসলে সবাই নিজের নিজের ভেতরে একটা “নভেম্বর” বয়ে নিয়ে চলি। যেখানে কিছু স্মৃতি আছে, কিছু না বলা কথা আছে, কিছু অপূর্ণতা আছে—আর আছে এক অদ্ভুত নীরবতা।
হয়তো কোনো এক মেঘলা বিকেলে, জানলার ধারে বসে, হাতে এক কাপ গরম চা নিয়ে এই বইটা পড়া উচিত। কারণ কিছু গল্প শুধু পড়ার জন্য নয়—অনুভব করার জন্য হয়। আর কিছু বৃষ্টি, থেমে যাওয়ার পরেও, অনেকটা সময় ধরে ভেতরে ভিজিয়ে রাখে।
************************************************
এই অসাধারণ পাঠ-অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ । ভালোবাসা রইল। 🌿📖
Kousik Samanta
11/07/2026
আমাদের বই পৌঁছে যাচ্ছে পাঠকের কাছে, আর এভাবেই পূর্ণতা পায় আমাদের পরিশ্রম। অনেক শুভেচ্ছা ও শুভপাঠ। 🌿
Swapnil Chakraborty 💚
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Block 2, Stall 20, Surya Sen Street
Kolkata
700012