Democratic Students' Front - DSF
A Leftist Independent students' front of the students of Faculty of Engineering & Technology, JU
25/04/2026
নাগপুর - কালীঘাট - আলিমুদ্দিনকে আশু তিমিরের যাদবপুর ভয় পায় না!
সাথী,
আমরা দেখেছি দেশজুড়ে জেএনইউ (JNU), জামিয়া এবং যাদবপুরের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ক্রমাগত রাষ্ট্রীয় আক্রমণ নেমে এসেছে। সাম্রাজ্যবাদ- কর্পোরেটের হাত ধরে শিক্ষাক্ষেত্রকে বেসরকারিকরণ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের আখড়া পরিণত করার যে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে , এই ধরণের প্রগতিশীল ক্যাম্পাসগুলি হলো তার 'অ্যাকিলিস গোড়ালি' র মতো। বাবুল থেকে ব্রাত্য, CAA-NRC-SIR সবকিছুতেই রুখে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে যাদবপুর।
তাই স্বয়ং এই ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের প্রধান নরেন্দ্র মোদীকে বাধ্য হতে হলো সরাসরি যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের 'দেশবিরোধী 'বলতে।
এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য যে কুমিরের কান্না তা ছাত্রছাত্রীদের কাছে খুবই পরিষ্কার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা প্রদান করে না এই সরকার, ফলে অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন ও ছাত্রছাত্রীদের মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণ হয় না। যে তৃণমূল সরকার আজ নিজেদের ছাত্রদরদী সাজানোর চেষ্টা করছে, তাদের শিক্ষামন্ত্রীই ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে সরব হওয়া প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিয়ে চলে গেছিলেন এই ক্যাম্পাসেই একবছর আগে। তাই তৃণমূল আর বিজেপি যে একই কয়েনের দুটো দিক, তা সারা দেশের কাছে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।
আমরা, গনতান্ত্রিক শিক্ষার্থী ফ্রন্টের তরফে স্পষ্ট বলতে চাই যে, শাসকশ্রেণী যেন ভুলে না যায়, এটা আশু-তিমিরের যাদবপুর, এটা কলরবের যাদবপুর। আলিমুদ্দিন থেকে শুরু করে কালীঘাট, যাদবপুর কাউকেই রেয়াত করেনি, আর নাগপুরের ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদকেও রেয়াত করবে না।
আমরা এও বলতে চাই যে এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি দেওয়াল রোহিত ভেমুলার খুন , নাজীবের গুম হওয়া আফরাজুল-আসিফা-অভয়াদের খুনের বদ্লার , ফিলিস্তিনের মুক্তির দাবিতে, কৃষক - শ্রমিক - আদিবাসী - সংখ্যালঘুর পক্ষে সর্বদা সোচ্চার থাকবে।
ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক! রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৈরিকীকরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও!
ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক ঐক্য জিন্দাবাদ!
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!
22/04/2026
আজকের এই চরম ফ্যাসিবাদী আক্রমণের সময়ে যখন SIR-এর মতো কালা কানুনের মাধ্যমে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে রাতারাতি বেনাগরিক করে দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, যখন সাধারণ মানুষের হাতে বেঁচে থাকার ন্যূনতম সম্বলটুকুও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, , যখন শোষিত মানুষের পিঠ একেবারে দেওয়ালে ঠেকে গেছে ঠিক এরকম সময়েই পশ্চিমবঙ্গে চলছে ' বিধানসভা নির্বাচন' নামের এক আশ্চর্য সার্কাস। লক্ষ লক্ষ আধাসামরিক বাহিনী নামিয়ে, বন্দুকের নলের ডগায় সাধারণ জনজীবনকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিয়ে এই সার্কাস চালানো হচ্ছে। আর অত্যন্ত লজ্জার বিষয় হলো, ভারতের তথাকথিত সংসদীয় "বাম" এরাও শাসক শ্রেণির তৈরি করা এই সার্কাসে নির্লজ্জের নাচ নেচে চলেছে।
কমরেড লেনিন 'রাষ্ট্র ও বিপ্লব'-এর প্রথম দিকে লিখেছিলেন -
"শোষিত শ্রেণির মুক্তি সংগ্রামের যাঁরা অবিসংবাদিত নেতা, তাঁদের জীবদ্দশায় শোষক রাষ্ট্রযন্ত্র তাঁদের ওপর লাগাতার নিষ্ঠুর নিপীড়ন চালায়, তাঁদের কুৎসা ও অপবাদে ভরিয়ে দেয়;কিন্তু মৃত্যুর পর সেই রাষ্ট্রই তাঁদের নিরীহ, শ্রেণিনিরপেক্ষ ‘মহাপুরুষে পরিণত করার চেষ্টা করে।"
আজকের এই পার্লামেন্টের মোহজালে আটকে পড়া "বাম" রা লেনিনের বিপ্লবী তত্ত্বের ঠিক এইভাবেই বিকৃতি ঘটাচ্ছে। বলশেভিকদের বিশেষ ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে "ডুমা" "নির্বাচনে লড়ার কৌশলকে’ তার বাস্তবিক ভিত্তি থেকে সরিয়ে এনে এরা একেই একমাত্র ‘নীতি’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে এসেছে।
কমরেড লেনিনের বলশেভিক পার্টি মূলত একটি আপোষহীন ও বৈপ্লবিক দল ছিল যারা নির্বাচনকে শুধুমাত্র একটা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিল খেটে খাওয়া মানুষের হাতে হাতে বিপ্লবের দর্শন ও হাতিয়ার তুলে দেওয়ার জন্য। তারা এই সংসদীয় সার্কাসে বিক্রি হয়ে যায়নি, বরং গোটা রুশ সাম্রাজ্য জুড়ে শ্বেত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে, নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই গড়ে তুলেছিল।
আজ যখন ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র আমাদের গলা টিপে ধরছে, তখন এই ব্যাবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ খুঁজতে আমাদের কমরেড লেনিনের দিকেই তার জন্মের একশত বছর পরও বারবার ফিরে যেতে হয়।
দুর্ভেদ্য জঙ্গল থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্র, সবখানেই মানুষকে পিষে মারার নীলনকশা তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নেমে আসছে, চলছে গৈরিকীকরণের চেষ্টাও। বিগত কয়েক মাসেই SIR ও Transgender Persons Act-এর মাধ্যমে প্রান্তিক, খেটে খাওয়া মানুষের উপর চূড়ান্ত আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। নয়া শিক্ষানীতির (NEP) মাধ্যমে শিক্ষাকে কর্পোরেটের হাতে তুলে দিয়ে প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীদের বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, জল-জঙ্গল-জমির অধিকার কেড়ে নিয়ে আদিবাসীদের উপর বুলেট বর্ষণ করছে এই রাষ্ট্র।
তাই আজ এই পরিস্থিতি তে কমরেড লেনিনের নাম আর বিশ্বজুড়ে সমস্ত লড়াকু, শোষিত ও মেহনতি মানুষের সমস্ত প্রতিরোধের সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছে।
আজকের ভারতের এই নানা রঙের শ্বেত সন্ত্রাসের সময়ে বসে লেনিন পড়ুন, কিন্তু ময়দানে নেমে লেনিনকে উপলব্ধি করুন। আমাদের প্রতিটি ক্যাম্পাসে, প্রতিটি বস্তিতে, প্রতিটি কারখানায় অসংখ্য বলশেভিক দরকার। দরকার লেনিনবাদী ইস্পাতকঠিন শৃঙ্খলার, দরকার এক আপসহীন বিপ্লবী চেতনার।
তাই কমরেড লেনিনের জন্ম বার্ষিকী তে, গনতান্ত্রিক শিক্ষার্থী ফ্রন্টের আহবান, আসুন শপথ করি, কমরেড লেনিনের দেখানো পথে শ্রেণিহীন, শোষণমুক্ত এক নতুন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে!
সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক!
ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদ ধ্বংস হোক!
শ্রমিক-কৃষক - ছাত্র ঐক্য জিন্দাবাদ!
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Jadavpur University
Kolkata