NCC Rampurhat

NCC Rampurhat

Share

"TRUTH IS BEAUTY"

14/06/2022

কেউ বলেন ডিজিটাল ডাক্তার, কেউ বলেন স্মার্ট, হাওড়ার এই চিকিৎসক করছেন কী!
#কথিত আছে, চিকিৎসকদের লেখা প্রেসক্রিপশন নাকি ওষুধের দোকানের কর্মী ছাড়া নাকি কেউ বুঝতে পারেন না।আবার এমনও অভিযোগ ওঠে চিকিৎসককে দ্বিতীয়বার দেখতে গেলে আগের ভিজিটের যাবতীয় তথ্য চিকিৎসকের কাছে থাকে না। এই সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং সাধারণ মানুষকে সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে হাওড়ার এক চিকিৎসক শুরু ব্যবহার করছেন স্মার্ট প্রেসক্রিপশন। কী এই স্মার্ট প্রেসক্রিপশন ? চিকিৎসক নিজের কাগজের তৈরি প্রেসক্রিপশনে লিখছেন আর সেই তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে চিকিৎসকের ট্যাবে ( TAB )। এমনকি প্রেসক্রিশনে রয়েছে কিউ আর কোড। আর চিকিৎসকের হাতে থাকা পেনটিও ডিজিটাল।

রোগীর কোনো সমস্যা হলেই শুধু চিকিৎসকের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিতে হবে কিউ আর কোডের ছবি, সেটি স্ক্যান করলেই চোখের সামনেই ভেসে উঠবে রোগীর যাবতীয় তথ্য। ওষুধ বদল থেকে যাবতীয় পরামর্শ দিয়ে দেবেন নিমেষেই। হাওড়ার ঘুসুড়ির চিকিৎসক পুষ্পেন্দু লাহিড়ির এমন কৃতিত্বে রীতিমতো অবাক রোগীরা। চিকিৎসক পুষ্পেন্দু লাহিড়ির দাবি, রোগীরা মাঝে মধ্যেই ফোন করে প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ অনেক সময় স্থানীয় দোকানে পান না, আবার কখনো কখনো রোগের সমস্যা বেড়ে যায়।

তখনই ওষুধের বদল করতে হয়। রোগীর পরিবার ঠিক মতো ওষুধের নাম বলতেও পারেন না, আবার ফোনে তার পূর্বের সমস্যা গুলিও সঠিক ভাবে পাওয়া যায় না। এই সব সমস্যার থেকে মুক্তি পেতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা এতে রোগী ও চিকিৎসকের দুজনের সমস্যা খুব দ্রুত মেটানো যায়। চিকিৎসকের এমন কীর্তি দেখে খুশি সালকিয়ার বাসিন্দা দীপান্বিতা ঘোষ।
দীপান্বিতা দেবী জানান, ''প্ৰথমে কিছু বুঝতে পারিনি, ডাক্তারবাবু যখন প্রেসক্রিপশন লিখছিলেন, দেখলাম কাগজে যা লিখছেন, তা কাগজে যেমন পেনের কালিতে ফুটে উঠছে, ঠিক হুবহু ফুটে উঠছে ডাক্তার বাবুর পাশে থাকা ট্যাব (TAB)- এর স্ক্রিনে। তারপর আরো অবাক হই যখন হাতে প্রেসক্রিপশন পাই। প্রেসক্রিপশনে দেখতে পাই কিউ আর কোড। এই সব দেখে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি আসল বিষয়টি। এই বিশেষ ব্যবস্থার জন্য চিকিৎসক পুষ্পেন্দু বাবুকে নামে সবাই না চিনলেও ঘুসুড়ি এলাকায় স্মার্ট ডাক্তার বাবুর খোঁজ করলেই আপনি পেয়ে যাবেন চিকিৎসকের খোঁজ। (news 18 )bangla)

14/06/2022

#কাতার।।

মিডল-ইষ্টের একটা ক্ষুদ্রতম দেশ হলো কাতর।। মাত্র 15/20 বছর আগে দেশটার কোনো গুরুত্বই ছিলো না।। এরপর হঠাৎ করেই ধুমকেতুর মতো উত্থান।। বিশ্ব তাদের কথা শুনতে শুরু করে দিলো,, বেড়ে গেলো কাতারের গুরুত্ব,, বিশ্বের বহু দেশ তাদের সমীহ করা শুরু করে দিলো।।

হঠাৎ করে এই গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় কারণ কি ??

তারা কি কোনো নিউক্লিয়ার বম্ব তৈরী করে ফেলেছে ?? নাকি,, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়ে গেছে ??

না,, তেমন কিছুই না,, তারা তেমন কিছু করে উঠতে পারেনি,, তবে,, একটা কাজ তারা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে করতে পেরেছে।।

কাতার বর্তমানে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মিডিয়া হাউস নির্মাণ করে ফেলেছে।। কেবলমাত্র একটা নিউজ চ্যানেল রয়েছে,, যেটা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য,, এবং,, নির্ভরযোগ্য।। গোটা বিশ্বের কোনায় কোনায় এই চ্যানেলটি পৌঁছে গেছে।। কাতার চাইলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা,, গোটা বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে পারে।।

1996 সালে "আল-জাজিরা" গঠিত হয়।।

প্রথমে একটি আরবি নিউজ চ্যানেল হিসেবে শুরু হয় পথচলা।। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে তখন একটিও স্বাধীন এবং সতন্ত্র নিউজ চ্যানেল ছিলো না।। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রীয় চ্যানেল ছিলো,, যাদের কাজ ছিলো রাত-দিন বাদশাহ অথবা রাষ্ট্রনেতার চাপলুশি করে যাওয়া।। আচ্ছে দিনের বড়াই করা,, রাষ্ট্রনেতার সমস্ত দোষত্রুটি আড়াল করে তাকে মহান হিসাবে তুলে ধরা।। নেগেটিভ খবর প্রচার না করে,, স্রেফ চেপে যাওয়া।।

আল জাজিরা মরুভূমির দেশে মরুদ্যান হয়ে ওঠে।। গোড়া থেকেই তাদের একটাই পন্থা - নিরপেক্ষ খবর পরিবেশন করা,, খবর প্রচারের ক্ষেত্রে যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখা,, নায্য বিষয়বস্তু তুলে ধরা,, ষ্টুডিওতে বসে ফেক নিউজ সম্প্রচার না করে সরাসরি গ্রাউন্ড রিপোর্ট তুলে ধরা,, কথা কম বলে খবর বেশী বেশী করে সম্প্রচার করা,, সর্বোপরি সমস্ত পক্ষকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া।।

একটি আরবি চ্যালেন হয়েও,, ইংরেজিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হতো।। তারা জানতো,, বিশ্বদরবারে সহজে পৌঁছে যাওয়ার মাধ্যম হলো ইংরেজি ভাষা।। বিশ্বের সমস্ত বড়ো মাপের এবং স্বনামধন্য সাংবাদিকদের যোগদান করানো হলো।। সাংবাদিকতার নৈতিকতাকে প্রায়রিটি দেওয়া হয়েছে সর্বদা।।

বিবিসির আদর্শে বিশ্বাস রেখে,, বিবিসি-কে ছাপিয়ে যাওয়া ছিলো তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।। আল জাজিরার উদ্দেশ্য ছিলো,, বিবিসির মতোই আদর্শ এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়া।।

আফগানিস্তান,, ইরাক,, সিরিয়া,, 9/11,, আরব বসন্তের মতো ইস্যু নিয়ে গোটা দুনিয়া তোলপাড় করে দিয়েছে তারা।। বিষ্ময়কর গ্রাউন্ড রিপোর্ট,, লাইভ-ওয়ার জোন,, সাংবাদিকরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পৌঁছে গেছেন একের পর এক দুর্গম এলাকায়।। মার্জিত ভাষা,, যথাযথ রিপোর্ট,, অহেতুক ভন্ডামি অথবা অভিনয় না করে সত্যটুকু ঘটনাস্থল হতে তুলে আনা,, এগুলোর কারনে আল জাজিরা খুব অল্পদিনের মধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব-দরবারে।।

ডের ডজনেরও বেশী সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।। বেশ কয়েকজন ধরা পড়েছেন,, নিঁখোজ হয়ে গেছেন কয়েকজন সাংবাদিক,, আহত হয়েছেন অনেকেই।। তবুও ভয় পায়নি আল জাজিরা।। তারা নির্ভীক ভাবে নিজেদের সাংবাদিকতা দায়বদ্ধতা বজায় রাখার চেষ্টা করে গেছে।।

আরো একটি দিক ছিলো,, প্যালেষ্টাইন,, ইজরায়েল,, তালিবান,, আল কায়দার মতো বিশ্বের মানুষের কাছে নিন্দনীয় সংগঠনের কাছে পৌঁছে গেছে তারা।। কাউকে ভিলেন অথবা কাউকে হিরো হিসাবে তুলে ধরা হয়নি,, মিডিয়া-ট্রায়াল না করে,, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ,, সাধারণ মানুষের উপর।।

আজ বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশে পৌঁছে গেছে আল জাজিরা।। তাদের কভারেজ,, খবরের বিষয়বস্তু,, সঞ্চালকের উপস্থাপন,, কোনো কিছুতেই সাধারণ মানুষ বিশ্বাস হারান না।। মাত্র 25 বছরের মধ্যে,, আল জাজিরা নামের একটি নিউজ চ্যানেল,, একটা দেশকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করে দিয়েছে।।

দোহা এখন এশিয়ার নরওয়ে হয়ে উঠেছে।।

আমেরিকা-তালিবানের মধ্যে শান্তি চুক্তি,, ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সঙ্গে আলোচনা করে সেদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা,, আরব-ইজরায়েল বিরোধ নিয়ে আলোচনা,, গাজা ষ্ট্রিপ বিষয়ে মধ্যস্থতা,, সবকিছুই হচ্ছে কাতারের রাজধানী দোহা শহরে।।

কোনো এক সময় যে দেশের কোনো অস্তিত্ব ছিলো না,, কেবলমাত্র একটি নিউজ চ্যানেল সেই দেশকে উল্লেখযোগ্য বিশ্বশক্তিতে পরিণত করে ফেলেছে।।

আজকে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ,, কাতারকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না।। চার বছর আগে প্রতিবেশী আরব দেশগুলো একবার অবরোধ করে রেখেছিল কাতারকে।। শর্ত ছিলো,, আল জাজিরা বন্ধ করে দিতে হবে,, তবেই অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।। কারণ,, আল জাজিরা আরবের অধিকাংশ দেশের স্বৈরাচারী শাষকের চরিত্র,, তাদের দূর্নীতি প্রকাশ করে দিয়েছে বিশ্ব দরবারে।। এটা আরবের শাষক শ্রেণী মেনে নিতে পারতো না।। কিন্তু,, আল জাজিরা মাথা নত করেনি,, বরং দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে আরো নিত্যনতুন অপকর্ম তুলে ধরেছে।। বাধ্য হয়ে চুপ করে গেছূ অন্যান্য আরব দেশ।।

25 বছর আগে আমাদের দেশেও ঘটেছিল স্যাটেলাইট বিপ্লব।। বহু নিত্যনতুন চ্যানেল এসেছে,, তারা যথাযথ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে,, খবর পরিবেশন করে গেছে।। আমরা তখন সরকারি নিউজের মুখাপেক্ষী ছিলাম না।। আমরা বিশ্বাস করতাম,, বেসরকারি চ্যানেলের কোনো বাধ্যবাধকতা নাই,, তারা সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে দ্বিধাবোধ করবে না।।

যেভাবে নিউজ চ্যানেল এগিয়ে গেছে,, আমরাও ভেবেছিলাম অচিরেই আমরা বিবিসি অথবা আল-জাজীরার মতো কোনো নিউজ চ্যানেল উপহার পেতে চলেছি।। অথচ,, আজকের দিনে আমরা অত্যন্ত আশাহত।।

আমাদের দেশের নিউজ চ্যানেল আজকে আবর্জনা স্তূপে পরিণত,, নিউজ মানেই এখন সরকারি মুখপাত্র।। একপেশে খবর পরিবেশন,, ফেক নিউজ সম্প্রচার,, মদ খেয়ে এ্যাঙ্কারিং,, অভদ্র ভাষার ব্যাবহার,, অশোভন আচরণ,, গালাগালি-খিস্তি এমনকি ষ্টুডিওতে বসে হাতাহাতি,, এগুলোর কারনে বিশ্ব দরবারে আমাদের মিডিয়া সার্কাসে পরিণত।। এ্যাঙ্কার-এ্যাঙ্কারনী এক একজন জোকার,, বিনোদনের জন্য অনেক রসিক মানুষ দেখতেই পারেন,, কিন্ত,, যারা খবরের জন্য খবর দেখেন,, তারা আজকে টিভি বিমুখ।।

ফেক নিউজ এখন USP,, TRP বাড়ানোর জন্য অবিরাম হিন্দু-মুসলমান,, মন্দির-মসজিদ।। কয়েকজন ভাড়া করা মৌলভী আর অশিক্ষিত সাধুকে ষ্টুডিওতে বসিয়ে,, মোরগ লড়াই চলছে দিনের পর দিন।। কোনো সমস্যা সমাধানের আগেই,, মিডিয়া দোষী অথবা অপরাধী হিসাবে যাকে ইচ্ছে সনাক্ত করে নিচ্ছে।। আসল সমস্যা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়ে,, নন-ইস্যু গুলো নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় অপচয় করা হয়ে চলেছে।। এটাই আমাদের চাহিদা,, মিডিয়া আমাদের চাহিদা পুরণ করে চলেছে।।

অথচ,, আমাদের সামনেও সুযোগ ছিলো,, এগিয়ে যাওয়ার।। আমরা এগিয়ে যেতে পারিনি,, কারণ,, এগিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছা আমাদের ছিলো না।।

আমাদের মিডিয়া চূড়ান্ত অপরাধ করে চলেছে।। যারা দিনের পর দিন এই সমস্ত মিডিয়ার পাশে থেকে TRP দিয়ে চলেছেন,, তারাও সমান অপরাধী।। কাতারের মতো ছোট্ট একটি দেশ,, কেবলমাত্র একটি নিউজ চ্যানেলের দ্বারা বিশ্বের অন্যতম শক্তিতে পরিণত।। অথচ,, আমরা আজতক,, কালতক,, পরশুতকের মতো শত শত নিউজ চ্যানেল নিয়েও,, গোটা বিশ্বের কাছে ধিকৃত,, অপমানিত,, অবহেলিত।।

😢😢😢

Photos from NCC Rampurhat's post 14/06/2022

তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়......‌🛑🟢

মাসটা মনে নেই, সম্ভবত ১৯৭৭ সালের শেষদিকের ঘটনা। দ্বারভাঙা বিশ্ববিদ্যালয়ে M.A পরীক্ষা চলছে। ঘুরতে ঘুরতে সেখানে এলেন জেলাশাসক। হতচকিত অধ্যাপকদের সামনে দিয়ে দোতলায় উঠে দাঁড়ালেন বারান্দার একপ্রান্তে ভেতর থেকে বন্ধ একটি ঘরের সামনে। দেহরক্ষীর চেষ্টায় দরজা খুলিয়ে দেখেন ভেতরে এক তরুণী পরীক্ষার খাতা লিখছে, আর তাকে সাহায্য করছেন ওখানকারই দুই অধ্যাপক। খাতাটা টেবিল থেকে তুলে নিয়ে মেঘমন্দ্র আওয়াজে বললেন, 'এক্সাম দেনেকা ইয়ে সহি তরিকা নেহি হ্যায়। অগলে বার পুরা তৈয়ার হোকে আনা।' ঘরে উপস্থিত দুই অধ্যাপকের ততক্ষণে ধুতি হলদে হবার উপক্রম ! মেয়েটি যে খোদ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্রের কন্যা ।

বিচারপতি অভিজিত গাঙ্গুলীর থেকে কোন অংশে কম হিম্মত দেখাননি সেদিন এই বাঙালি আমলা, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া না থাকায় আম আদমির কাছে একরকম অপরিচিতই রয়ে গেছেন। অথচ সর্বভারতীয় প্রতিযোগীতায় বাঙালিরা কল্কে পায়না, এই অপবাদের মুখে নুড়ো জ্বেলে দিয়ে ১৯৬৬ সালে IAS পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন তিনি। সত্যি বলতে কি, শিক্ষা জীবনে প্রথম হওয়াটা একরকম অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন ১৯৪২-এ বিহারের পূর্ণিয়ায় জন্ম এই বঙ্গসন্তান.........আভাস কুমার চ্যাটার্জী।‌🍁

১৯৫৭ সালে বিহার স্কুল বোর্ডের ম্যাট্রিক পরীক্ষা থেকে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের IA এ BA, সবেতেই প্রথম হবার পর অর্থনীতিতে মাস্টার্স করতে গেলেন দিল্লি স্কুল অব ইকোনমিক্স এ। সেখানেও প্রথম স্থান অধিকার করে বসলেন। সহপাঠী হিসেবে পেয়েছিলেন এখানে বিখ্যাত সাংবাদিক অরুন শৌরী কে !

জেলাশাসক হয়ে কর্মজীবন শুরু তো করলেন কিন্তু প্রতি পদে পদে লাগতে লাগলো সংঘাত। আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরা বিহার প্রশাসনে তিনি মূর্তিমান ভগীরথ হয়ে অবতীর্ণ হলেন। তিতিবিরক্ত রাজ্য সরকার একসময়ে তাঁকে বিহার রাজ্য পরিবহন নিগমে (BSRTC) জেনারেল ম্যানেজার পদে বসালো। লোকসানে চলা সংস্থাটির হাল ধরে দেখলেন পদে পদে রয়েছে অনিয়ম, দুর্নীতি সেখানে জাঁকিয়ে বসেছে। বিনা টেন্ডারে যেমন মালপত্র কেনা হচ্ছে তেমনি নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও রয়েছে অস্বচ্ছতা। কড়া হাতে এসব বন্ধ করাতে দুবছরের মধ্যে লাভের মুখ দেখলো সরকারি সংস্থাটি। কিন্তু এতে বিপদে পড়ে গেলেন ঐ বাঙালি আমলা।

রমাকান্ত ঝা নামে শাসকদলের এক বিধায়ক ছিলেন সংস্থার চেয়ারম্যান এবং সমস্ত অনিয়মের নাটের গুরু। বাড়া ভাতে ছাই পড়তে লাগাতার বিক্ষোভ ও শ্রমিক অশান্তি সৃষ্টি করে নরক করে তুললো সে আভাস চ্যাটার্জীর জীবন। তাতেও অবশ্য দমানো যায়নি ঐ দাবাং আমলাকে, মিডিয়ার সামনে ফাঁস করে দিলেন চেয়ারম্যানের কীর্তিকলাপ। লিখিত অভিযোগ জানালেন রাজ্য সরকার ও Public Enterprises Bureau (PEB) এর কাছে। দুর্ভোগ তাতে আরো বাড়লো। মিডিয়ায় মুখ খোলার জন্য কৈফিয়ত তলব করে বসলেন তদানীন্তন চিফ সেক্রেটারী পি পি নায়ার। তদন্তে চেয়ারম্যান কে ক্লিনিচিট দেয়া হলে বিরক্ত মানুষটি নায়ারকে লিখেছিলেন..........'I have been increasingly disillusioned about the utterly subservient role and insignificant authority of public servants in the Government set-up of our state.'

মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্র তখন এক নতুন চাল চাললেন। বিধানসভায় আভাস চ্যাটার্জী সহ দশ আমলাকে 'সুপারটাইম' পে স্কেলে কমিশনার পদে উন্নীত করার সুপারিশ আনলেন। যে কোন সরকারি কর্তার কাছে এই স্কেল অত্যন্ত লোভনীয় যা জয়েন্ট সেক্রেটারি লেভেলের আমলারা পেয়ে থাকেন। আভাসের তখন মাত্র ১৬ বছর চাকরি হয়েছে, তা সত্ত্বেও তিনি প্রতিবাদ করে চিঠি লিখলেন, "Let me spend the rest of my service career with the Government in my present grade and earn my bread without adding to my sense of mortification."

পরিস্থিতি আরও খারাপ হলো ক্ষমতায় লালুপ্রসাদ যাদব আসার পর। যাদব কুলপতির স্বজনপোষন ও সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে হিমালয়ের মতো রুখে দাঁড়ালেন এই বাঙালি আমলা। তিনি তখন পাটনায় বিভাগীয় সচিব হিসেবে কাজ করছেন। প্রশাসনিক কাজে শাসকদলের নেতারা হস্তক্ষেপ করাতে প্রায় রোজই সংঘাত লেগে থাকতো। এর মাঝে ভূষি কেলেঙ্কারির কথা সামনে আসে। আভাস চ্যাটার্জী লালুর সাথে সাথে কয়েকজন জেলাশাসকের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা ফাঁস করে দেন। ঘরে বাইরে প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে ১৯৯২ সালের শুরুতেই হতাশ মানুষটি চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন।

তবে পদত্যাগ পত্রে সেদিন ভারতীয় রাজনীতি নিয়ে অনবদ্য ভাষায় যা লিখেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। চিঠিতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন...
“The powers that be in Indian politics are least bothered about nation building. They have little concern about what happens to this country in future, where this nation lands up in the end. Behind the smoke screen of slogans and rhetoric, what has been going on in this country is not a grand ceremony of nation building, but a macabre dance of nation destruction!"‌💥

সত্যের পথে থাকার জন্য চরম মূল্য দিতে হয়েছিল প্রতিভাবান মানুষটিকে। বিয়ে করেছিলেন 'মুন্ডা' উপজাতীয় এক আদিবাসী মহিলাকে। একমাত্র পুত্র পথিকৃৎ কলেজ থেকে এক্সকারশনে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে দামোদর নদের জলে ডুবে মারা যায়। শেষ জীবনে রাঁচির ম্যালেরিয়া অধ্যুষিত আদিবাসী এলাকায় স্বাস্থ্য সচেতনতা ও শিক্ষার প্রসার নিয়ে কাজ করতেন। নিয়তির কি নিষ্ঠুর পরিহাস, যে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে সরল প্রান্তিক মানুষদের সচেতন করায় ব্রতী ছিলেন, ২০০২ সালের ডিসেম্বরে সেই ম্যালেরিয়াই তাঁর জীবন কেড়ে নিলো। বয়স হয়েছিল মাত্র ৬০ বছর।

ভারতীয় প্রশাসনে IAS বা IPS রা একরকম স্তম্ভের মতো এবং নিঃসন্দেহে তারা এক একজন নক্ষত্র। তবে আভাস চ্যাটার্জীর মতো সোজা শিরদাঁড়ার নক্ষত্র রোজ রোজ দেখতে পাওয়া যায়না, ধূমকেতুর মতো হঠাৎই উদয় হন তাঁরা। যেখানেই থাকুন ভালো থাকবেন স্যার...... ! ‌🌹🌹
কলমে ✍🏻© স্বপন সেন 🌲
তথ্যসূত্র: Rebels with a cause, India Today,

Want your school to be the top-listed School/college in Rampur Hat?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address


Rampur Hat
731202

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm