Nabab Bhattacharya Direct

Nabab Bhattacharya Direct

Share

An entrepreneur, sports administrator and a Social Worker by heart

আমাকে মন্দিরে মসজিদে পাবে না

16/06/2026

গোটা টুর্নামেন্টে প্রদ্যুৎ বর্মন অসাধারণ খেললেও এশিয়ায় গেমসের হাইভোল্টেজ ফাইনালে কোচ রহিম সাহেব ছয় ফুট চার ইঞ্চির থঙ্গরাজের উপর ভরসা রাখলেন । জাকার্তায় প্রচণ্ড লড়াই হবে জেনে থঙ্গরাজ অনুশীলনের সময় বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সেই সময়ে ঘটে মজার এক ঘটনা । আসব সেই কাহিনিতে।

অনেকেই বিশ্বাস করছিলেন ৬২'এর জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ফুটবলে ভারত সোনা পাবে। কারণ দলটিতে খেলছেন চুনী গোস্বামী,পিকে ব্যানার্জি, জার্নাল সিংহের মত এশিয় মানের সেরা সব ফুটবলার। গোলে থাকবেন ছয় ফুট চার ইঞ্চির দীর্ঘদেহী পিটার থঙ্গরাজ। রোম অলিম্পিকে থঙ্গরাজের অসাধারণ গোলকিপিং দেখে চমকে গিয়েছিলেন ফুটবল বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞ। সার্ভিসেসের হয়ে খেলার সময় থেকে তিনি ভারতশ্রেষ্ঠ। বাংলার মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জার্সি পরেছেন। '১৯৬২' এর জাকার্তা এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ী ভারতীয় দলের হয়ে ফাইনালে দেশের গোলের সামনে অতন্দ্র প্রহরীর মত দায়িত্ব পালন করেছেন।

কলকাতার প্রায় সব বাটা কোম্পানির দোকানে খোঁজা শেষ, কোথাও ওই বিশাল মাপের কেডস জুতো মিলল না। চুনী গোস্বামী,পিকে ব্যানার্জি সঙ্গে আছেন। হতাশ হয়ে শেষ পর্যন্ত ওরা চায়না বাজারে একটি দোকানে গেলেন। শোকেসের দিকে নজর গেলে জানা গেল বিশাল সাইজের ওই কেডসটা বিক্রি হয় না দীর্ঘদিন ধরে দোকানে ক্রেতার অভাবে পড়েই আছে। কেডস জোড়া নামিয়ে পরতেই একদম পায়ে ফিট। লাফিয়ে উঠলেন থঙ্গরাজ,কারণ জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ফুটবল দলের তিনি এক নম্বর গোলরক্ষক

মন্দভাগ্য থঙ্গরাজের ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে উঠলেন। হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। ওদিকে গোটা টুর্নামেন্টে ভারতের হয়ে দুরন্ত খেললেন গোলরক্ষক প্রদ্যুৎ বর্মন। ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত, সামনে দক্ষিণ কোরিয়া। থঙ্গরাজ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন কিন্তু যথেষ্ট দূর্বল ম্যাচ ফিট নন। ফাইনালে কিন্তু তিনি ভারতের হয়ে মাঠে নামলেন । দর্শক ঠাসা বিশাল স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হয়েছিল ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৬২৷ খেলার ১৭মিনিটের মাথায় বলরামের থেকে বল পেয়ে অধিনায়ক চুনী গোস্বামী দেহের দোলায় দক্ষিন কোরিয়ার মার্কার কে এড়িয়ে বল দিলেন পি কে ব্যানার্জি কে। মুহুর্তেই পি কে'র গোলার মত শট,বলের নাগাল পেলেন না কোরিয়ার গোলকিপার৷ তিন মিনিট পরে ফ্রাঙ্কোর ফ্রি কিক থেকে বল জার্নেল সিংহের পায়ে পড়তে পরপর দুজন কে ধোঁকা দিয়ে বাঁপায়ের জোরালো শটে কোরিয়ার গোলরক্ষক কে পরাস্ত করলেন৷ খেলার ফল ২-০৷ অবশ্য দক্ষিন কোরিয়া খেলা থেকে হারিয়ে যায় নি,তারা ম্যাচে ফিরে আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিল৷ খেলা শেষের পাঁচ মিনিট আগে একটি গোল শোধ করে৷ শেষ পর্যন্ত জয়ে হাসি হাসে ভারত৷ দক্ষিন কোরিয়াকে ২-১গোলের ব্যবধানে হারিয়ে জিতে নেয় ফুটবলের সোনা

থঙ্গরাজ কিন্তু লম্বা সময় সার্ভিসেসের হয়ে খেলে ভারতশ্রেষ্ঠ। রোম অলিম্পিকে তাঁর খেলা দেখে চমকে গিয়েছিলেন ফুটবল বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞ। জাকার্তার মত সেখানেও সেই চুনী,পিকে,বলরাম,জার্নেল সবশেষে ভারতের গোলের সামনে প্রায় সাড়ে ছয় ফুটের দীর্ঘ এক গোলরক্ষক। অনেকেই হয়ত অবগত নন রোম অলিম্পিকে দীর্ঘ সময় পিকে ব্যানার্জির গোলে ভারত জিদান,এমবাপের দেশ ফ্রান্সের বিপক্ষে এগিয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা ড্র হয়। সেই সময়ে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা দেশ হাঙ্গেরির অ্যালবার্ট চিটি ও ফ্যাবিয়ানোর মত দুর্ধর্ষ ফরোয়ার্ডদের বিরুদ্ধে পিটার থঙ্গরাজের নিপুণ গোলরক্ষা ভারতীয় ফুটবলের সোনালী ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে।১৯৫৫ সালে সার্ভিসেসের হয়ে খেলতে খেলতে থঙ্গরাজ ভারতীয় দলে সুযোগ পেলেন। রহিম সাহেবের হাতে পড়ে পিটার নিজেকে আরও পরিমার্জিত করে তোলেন। পিটার থঙ্গরাজের সাথে সেরাদের তুলনায় আসতে পারেন সনৎ শেঠ। আর থঙ্গরাজের আদর্শ ছিলেন সনৎ শেঠ। তাঁর গ্ৰিপিং, পাখির মত উড়ে বল ধরা কিংবা ফিস্ট করে বল উড়িয়ে দেওয়ার ভঙ্গিমায় পিটার ছিলেন মন্ত্রমুগ্ধ।কয়েক বছর আগেও ভারতের সব সেরা ফুটবলার মনে করতেন কলকাতায় না খেললে জীবন বৃথা, থঙ্গরাজও ব্যতিক্রম নন। রোম অলিম্পিকে অসাধারণ খেলার পরে তাঁর মনে হল এবার কলকাতায় খেলতে হবে। তবে প্রথম বছর মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গল নয় থঙ্গরাজ পরলেন সাদা- কালো জার্সি। সামনেই জাকার্তা এশিয়ান গেমস। কোচ রহিম সাহেব নতুন প্রতিভার সন্ধান করছেন। মোহনবাগানের সনৎ শেঠ তো আছেন, ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দারুণ খেলছেন অবনী বোস। প্রদ্যুৎ বর্মন চমৎকার খেলে সবার মন জয় করেছেন। ক্যাম্পে এসে থঙ্গরাজ বুঝতে পারলেন গোলরক্ষক নিয়ে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা আছে। তবে রহিম সাহেব পারেন নি পিটারকে বাদ দিতে। ১৯৬৩ ও ৬৪ থঙ্গরাজ মোহনবাগানের হয়ে খেললেন। এরপরে জ্যোতিষ গুহ উদ্যোগ নিয়ে পিটারকে ইস্টবেঙ্গলে আনলেন। তখন বয়স ৩০ কিন্তু ইস্টবেঙ্গলে এসে তিনি প্রবল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।




,








গ্রন্থঋণ,কৃতজ্ঞতা স্বীকার আজকাল শারদীয় খেলা ১৪২২, স্বপন চক্রবর্তীর নিবন্ধ বিশ্বস্ততার প্রতীক পিটার থঙ্গরাজ,খেলতে,খেলতে,চুনী গোস্বামী

"ধ্রুবতারাদের খোঁজে" পেজ থেকে লেখা টা সংগ্রহ করলাম। শুধু ভেবে দেখুন 1962 সাল থেকে 2026, কীভাবে অপদার্থ প্রশাসক দের পাল্লায় পড়ে ডুবেছে ভারতীয় ফুটবল। দেখলে কষ্ট হওয়া ছাড়া আর উপায় কী !!!

14/06/2026

উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার স্বপ্নের প্রজেক্ট "গতি" পেয়ে গেছে

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Shyamnagar?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


Feeder Road
Shyamnagar
743127