Partha Samanta
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Partha Samanta, Public Figure, Ketera, Tarakeswar.
07/09/2025
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস: ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার আলো
প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়। ইউনেস্কো ১৯৬৭ সালে এই দিবস প্রতিষ্ঠা করে, যার লক্ষ্য সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এটিকে মানবাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। সাক্ষরতা কেবল পড়তে-লিখতে শেখা নয়, এটি ব্যক্তির জীবনমান উন্নত করতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং সমাজে সমতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে, যেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিদ্যমান, সাক্ষরতা এখনও একটি চ্যালেঞ্জ। এই লেখায় আমরা ভারতের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সাক্ষরতার তথ্য, পশ্চিমবঙ্গের জেলাভিত্তিক তথ্য এবং সাক্ষরতার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
ভারতের সাক্ষরতার চিত্র:
ভারতের সাক্ষরতার হার গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। ২০১১ সালের জনগণনায় জাতীয় সাক্ষরতার হার ছিল ৭৪.০৪%, যা ২০২৪ সালের PLFS রিপোর্টে বেড়ে ৮০.৯% হয়েছে। নিম্নে ভারতের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সাক্ষরতার হার (২০১১ এবং ২০২৪/২০২৫ প্রাক্কলিত তথ্য) দেওয়া হলো:
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ: ২০১১-এ ৮৬.৬৩%, ২০২৪-এ ৯১.১%
- অন্ধ্র প্রদেশ: ২০১১-এ ৬৭.০২%, ২০২৪-এ ৭৪.৮%
- অরুণাচল প্রদেশ: ২০১১-এ ৬৫.৩৮%, ২০২৪-এ ৭৩.৬%
- আসাম: ২০১১-এ ৭২.১৯%, ২০২৪-এ ৭৮.৫%
- বিহার: ২০১১-এ ৬১.৮০%, ২০২৪-এ ৭৪.৩%
- চণ্ডীগড়: ২০১১-এ ৮৬.০৫%, ২০২৪-এ ৯০.২%
- ছত্তিশগড়: ২০১১-এ ৭০.২৮%, ২০২৪-এ ৭৬.৪%
- দাদরা ও নগর হাভেলি: ২০১১-এ ৭৬.২৪%, ২০২৪-এ ৮২.১%
- দমন ও দিউ: ২০১১-এ ৮৭.১০%, ২০২৪-এ ৯১.৫%
- দিল্লি: ২০১১-এ ৮৬.২১%, ২০২৪-এ ৯০.৮%
- গোয়া: ২০১১-এ ৮৮.৭০%, ২০২৪-এ ৯২.১%
- গুজরাট: ২০১১-এ ৭৮.০৩%, ২০২৪-এ ৮৩.৫%
- হরিয়ানা: ২০১১-এ ৭৫.৫৫%, ২০২৪-এ ৮০.২%
- হিমাচল প্রদেশ: ২০১১-এ ৮২.৮০%, ২০২৪-এ ৮৭.৩%
- জম্মু ও কাশ্মীর: ২০১১-এ ৬৭.১৬%, ২০২৪-এ ৭৫.১%
- ঝাড়খণ্ড: ২০১১-এ ৬৬.৪১%, ২০২৪-এ ৭৫.২%
- কর্ণাটক: ২০১১-এ ৭৫.৩৬%, ২০২৪-এ ৮০.৭%
- কেরল: ২০১১-এ ৯৪.০০%, ২০২৪-এ ৯৬.২%
- লাক্ষাদ্বীপ: ২০১১-এ ৯১.৮৫%, ২০২৪-এ ৯৫.০%
- মধ্য প্রদেশ: ২০১১-এ ৬৯.৩২%, ২০২৪-এ ৭৬.৮%
- মহারাষ্ট্র: ২০১১-এ ৮২.৩৪%, ২০২৪-এ ৮৭.০%
- মণিপুর: ২০১১-এ ৭৬.৯৪%, ২০২৪-এ ৮২.৩%
- মেঘালয়: ২০১১-এ ৭৪.৪৩%, ২০২৪-এ ৭৯.৮%
- মিজোরাম: ২০১১-এ ৯১.৩৩%, ২০২৪-এ ৯৩.৪%
- নাগাল্যান্ড: ২০১১-এ ৭৯.৫৫%, ২০২৪-এ ৮৪.৬%
- ওড়িশা: ২০১১-এ ৭২.৮৭%, ২০২৪-এ ৭৮.৯%
- পুদুচেরি: ২০১১-এ ৮৫.৮৫%, ২০২৪-এ ৯০.০%
- পাঞ্জাব: ২০১১-এ ৭৫.৮৪%, ২০২৪-এ ৮১.২%
- রাজস্থান: ২০১১-এ ৬৬.১১%, ২০২৪-এ ৭৩.৭%
- সিকিম: ২০১১-এ ৮১.৪২%, ২০২৪-এ ৮৬.৫%
- তামিলনাড়ু: ২০১১-এ ৮০.০৯%, ২০২৪-এ ৮৫.৪%
- তেলেঙ্গানা: ২০১১-এ ৬৬.৫৪%, ২০২৪-এ ৭৪.১%
- ত্রিপুরা: ২০১১-এ ৮৭.২২%, ২০২৪-এ ৯১.৮%
- উত্তর প্রদেশ: ২০১১-এ ৬৭.৬৮%, ২০২৪-এ ৭৬.৩%
- উত্তরাখণ্ড: ২০১১-এ ৭৮.৮২%, ২০২৪-এ ৮৪.০%
- পশ্চিমবঙ্গ: ২০১১-এ ৭৬.২৬%, ২০২৪-এ ৮০.৫%
কেরল এবং লাক্ষাদ্বীপ সাক্ষরতায় শীর্ষে, যেখানে বিহার ও রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলি এখনও পিছিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় গড়ের উপরে থাকলেও, কিছু জেলায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের জেলাভিত্তিক সাক্ষরতা:
পশ্চিমবঙ্গের সাক্ষরতার হার ২০২৪/২০২৫ সালে প্রায় ৮০.৫%। নিম্নে জেলাভিত্তিক সাক্ষরতার হার (২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে, ২০২৫ প্রাক্কলিত) দেওয়া হলো:
- পূর্ব মেদিনীপুর: ৮৭.০২% (জনসংখ্যা ৫০.৯৬ লক্ষ, সাক্ষর ৩৯.২৩ লক্ষ)
- কলকাতা: ৮৬.৩১% (জনসংখ্যা ৪৪.৯৭ লক্ষ, সাক্ষর ৩৫.৮৮ লক্ষ)
- উত্তর চব্বিশ পরগনা: ৮৪.০৬% (জনসংখ্যা ১০০.১ লক্ষ, সাক্ষর ৭৬.০৯ লক্ষ)
- হাওড়া: ৮৩.৩১% (জনসংখ্যা ৪৮.৫০ লক্ষ, সাক্ষর ৩৬.০৫ লক্ষ)
- হুগলি: ৮১.৮০% (জনসংখ্যা ৫৫.১৯ লক্ষ, সাক্ষর ৪০.৭৮ লক্ষ)
- কালিম্পং (দার্জিলিং): ৭৯.৫৬% (জনসংখ্যা ১৮.৪৭ লক্ষ, সাক্ষর ১৩.১৬ লক্ষ)
- পশ্চিম মেদিনীপুর: ৭৮.০০% (জনসংখ্যা ৫৯.১৩ লক্ষ, সাক্ষর ৪০.৭৮ লক্ষ)
- দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: ৭৭.৫১% (জনসংখ্যা ৮১.৬২ লক্ষ, সাক্ষর ৫৫.৩২ লক্ষ)
- বর্ধমান: ৭৬.২১% (জনসংখ্যা ৭৭.১৮ লক্ষ, সাক্ষর ৫২.৪৭ লক্ষ)
- নদীয়া: ৭৪.৯৭% (জনসংখ্যা ৫১.৬৮ লক্ষ, সাক্ষর ৩৪.৮১ লক্ষ)
- কোচবিহার: ৭৪.৭৮% (জনসংখ্যা ২৮.১৯ লক্ষ, সাক্ষর ১৮.৫১ লক্ষ)
- জলপাইগুড়ি: ৭৩.২৫% (জনসংখ্যা ৩৮.৭৩ লক্ষ, সাক্ষর ২৪.৯৯ লক্ষ)
- দক্ষিণ দিনাজপুর: ৭২.৮২% (জনসংখ্যা ১৬.৭৬ লক্ষ, সাক্ষর ১০.৮৪ লক্ষ)
- বীরভূম: ৭০.৬৮% (জনসংখ্যা ৩৫.০২ লক্ষ, সাক্ষর ২১.৫৮ লক্ষ)
- বাঁকুড়া: ৭০.২৬% (জনসংখ্যা ৩৫.৯৭ লক্ষ, সাক্ষর ২২.৩৩ লক্ষ)
- মুর্শিদাবাদ: ৬৬.৫৯% (জনসংখ্যা ৭১.০৪ লক্ষ, সাক্ষর ৪০.৫৬ লক্ষ)
- পুরুলিয়া: ৬৪.৪৮% (জনসংখ্যা ২৯.৩০ লক্ষ, সাক্ষর ১৬.২৫ লক্ষ)
- মালদা: ৬১.৭৩% (জনসংখ্যা ৩৯.৮৯ লক্ষ, সাক্ষর ২০.৮৬ লক্ষ)
- উত্তর দিনাজপুর: ৫৯.০৭% (জনসংখ্যা ৩০.০৭ লক্ষ, সাক্ষর ১৪.৯০ লক্ষ)
পূর্ব মেদিনীপুর ও কলকাতা সাক্ষরতায় এগিয়ে, কিন্তু উত্তর দিনাজপুর ও মালদা জাতীয় গড়ের নীচে। গ্রামীণ-শহুরে এবং পুরুষ-নারী সাক্ষরতার ব্যবধানও এখনও বিদ্যমান।
সাক্ষরতার উন্নতির জন্য কৌশল
ভারত ও পশ্চিমবঙ্গে সাক্ষরতার হার বাড়াতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন: গ্রামীণ এলাকায় স্কুল, লাইব্রেরি, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা স্থাপন। উত্তর দিনাজপুর, মালদা ও পুরুলিয়ার মতো জেলায় শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ জোরদার করা।
২. নারী শিক্ষার প্রসার: মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা, বৃত্তি এবং সচেতনতা প্রচারণা। নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়।
৩. ডিজিটাল সাক্ষরতা: ন্যাশনাল ডিজিটাল লিটারেসি মিশনের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় ডিজিটাল শিক্ষার প্রচার। মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিক্ষা সহজলভ্য করা।
৪. প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা: গ্রামীণ ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচি চালানো।
৫. সচেতনতা প্রচারণা: স্থানীয় ভাষায় সাক্ষরতার গুরুত্ব নিয়ে প্রচারণা এবং সম্প্রদায়-ভিত্তিক কর্মশালা।
৬. সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা: NGOs-এর সঙ্গে সহযোগিতায় শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিক্ষা হলো জাতির উন্নতির মূল চাবিকাঠি। পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলা যেমন পূর্ব মেদিনীপুর ও কলকাতা উচ্চ সাক্ষরতার উদাহরণ স্থাপন করেছে, তেমনি মালদা ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে আরও মনোযোগ প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগ, সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা সাক্ষরতার এই ব্যবধান কমাতে পারি। আসুন, এই দিবসে প্রতিজ্ঞা করি যে প্রতিটি মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেব।
#শিক্ষারআলো #পশ্চিমবঙ্গ #ভারত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Culinary Team
Attire
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Ketera
Tarakeswar
712410