Treeveni

Treeveni

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Treeveni, Digital creator, KOLKATA.

12/03/2025

Watch it!

26/08/2024

শুভ জন্মাষ্টমী

06/08/2024

বয়স যত বাড়তে থাকে, বেশিরভাগ মানুষের ক্রমশ নিজের শিকড়ের প্রতি টান বাড়তে থাকে।

কিছুদিন আগে সকালবেলা অফিস যাচ্ছি, পাড়ার একটি ছেলে এগিয়ে আসে আমার দিকে। আমাকে জিজ্ঞেস করে, "দাদা কেমন আছো? হিমালয় নিয়ে লেখা তোমার বইটা কিনতে চাই। কোথা থেকে কিনব?" আমি খানিক অবাক হই। ওকে আমি ছোট থেকেই চিনি। ওকে খুব একটা পড়ুয়া বলে জানতাম না। মানে, বইপত্র পড়াশোনার প্রতি ওর আগ্রহ রয়েছে, এমনটা শুনিনি কখনও। ও আমার বই পড়তে চাইছে, এতে আমি যুগপৎ অবাক এবং আনন্দিত হই। আমার বইটির অনলাইন লিংক পাঠাই হোয়াটসঅ্যাপে। ও লিংকটি পেয়ে আমায় বলে, "জানো আমার আজকাল বই পড়তে খুব ভালো লাগে। গল্পের বই, গবেষণার বই। বই পড়লে কত কিছু জানা যায়। আগে বুঝতাম না। কিন্তু ছোট থেকেই আমার বাবাকে খুব বই পড়তে দেখেছি। বাবা একটু সময় পেলেই বই নিয়ে বসে পড়ত।" আমি বলি, "কাকু বই পড়েন এটা শুনেছিলাম।" ও বলে, "হ্যাঁ গো। খুব বই পড়ে। এখন তো রিটায়ার হয়ে গেছে। শরীরটাও সব সময় ঠিক থাকে না। তবু বই পড়ে।" তারপর খানিক চুপ করে থেকে আমাকে বলে, "বই পড়ার হ্যাবিটটা আমি আমার বাবার থেকে পেয়েছি।" এটা বলার সময় ওর চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আমি অনুভব করি, এই যে বাবার থেকে একটা স্বভাব কিংবা গুণ ওর মধ্যে এসেছে, এতে ও খুবই আনন্দিত এবং গর্বিত। তাকাই ওর দিকে। ছোটবেলার সেই দুর্দান্ত দুরন্ত বাচ্চাটা, যে সারাক্ষণ 'বদমাইশি' করতে ভালোবাসত, পড়াশোনা বিশেষ করতে চাইত না, সে কেমন শান্ত হয়ে গেছে ভেতরে ভেতরে। বয়স বাড়ার এটাই গুণ। ছেলেটা শিকড়কে আপন করে নিয়েছে। বাবা-মায়ের চেয়ে বড় শিকড় আর কীইবা হতে পারে! সেই শিকড়কে স্বীকার করে নেওয়া মানুষকে শান্ত করে দেয়। অন্তরতল থেকে।

২০২০ থেকে ২০২১... এই দু'বছরের লকডাউন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমার বয়স অনেকটা বাড়িয়েছে। তার ছাপও পড়েছে। থুতনির কাছে দাড়ি পেকেছে অনেক। মাথার চুলও উঠে গেছে অনেকটা। যে ভয়ংকর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ভেতর দিয়ে আমি গিয়েছি, তার প্রভাব পড়েছে আমার স্বাস্থ্যেও। এখন আমায় অনেক বেশি ওষুধ খেতে হয়, সুস্থ থাকার জন্য। লকডাউনের দু'বছর আমার সহকর্মীরা রাগে-হতাশায়-বিষাদে যখন উন্মাদ হয়ে গিয়েছিল, আমি তখনও শান্ত থাকার চেষ্টা করেছি। পরিস্থিতিকে মেনে নিতে চেষ্টা করেছি। মনে মনে রবি ঠাকুরের সেই লাইন আউড়েছি, "মনে রে আজ কহ যে/ ভালো মন্দ যাহাই আসুক/ সত্যেরে লও সহজে।" মেনে নিতে এবং মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেছি যত, মূল্য দিতে হয়েছে তত। মূল্য দিতে হয়েছে যত, শিকড়ের কাছে যেতে ইচ্ছে হয়েছে তত। সেই শিকড় হল আমার বাবার শিখিয়ে যাওয়া কিছু কথা। লকডাউনের সময়ে প্রচুর মানুষের চাকরি চলে গিয়েছিল। তাঁরা অনেকেই সবজির দোকান নিয়ে বসতেন তখন। তাই আমাদের এলাকায় সবজির দোকান হয়ে গিয়েছিল প্রচুর। স্যালারি যতই অনিয়মিত থাকুক, আমার অন্তত চাকরি বজায় ছিল। বাজার করতে যেতাম যখন, বাবার কথা মনে পড়ত। বাবা বলত, "সবজি, মাছ কিংবা গেরস্থালির অন্যান্য জিনিস যখন কিনবি, একটা দোকান থেকে সবটা কিনবি না কখনও। ধর কোনও দোকান থেকে আলু আর পেঁয়াজ কিনলি। শাক আর পটল কিনবি অন্য দোকান থেকে। টম্যাটো, লেবু আর অন্যান্য সবজি কিনবি আরেকটা দোকান থেকে। দু'রকম মাছ কিনলে চেষ্টা করবি, দুটো দোকান থেকে কেনার। অল্প করে হলেও সবার বিক্রি হোক, সবার রোজগার হোক তোর হাত ধরে।" কী সুন্দর শিক্ষা, তাই না? এরকম আরও উদাহরণ আছে। বাবার জীবদ্দশায় ততটা মেনে চলিনি। ২০১৭ সালে বাবা চলে যাওয়ার পর সেইসব শিক্ষা আরও বেশি করে বুঝতে শুরু করি। আর লকডাউনের পর থেকে আরও অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা শুরু করি।

১৯৪৬ সালে পূর্ববঙ্গের গ্রাম থেকে মার খেয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসতে হয়েছিল আমার ঠাকুরদার পরিবারকে। ১৯৪৮ সালে ঠাকুরদাদা চলে যাওয়ার পর বাবা, কাকা, পিসি আর ঠাকুমার জীবন কেটেছিল রিফিউজি ক্যাম্পে। সেই কারণেই বোধহয় আমার বাবার মনে হয়েছিল, বাজারে সবার বিক্রি আর রোজগারে অংশগ্রহণ করা উচিত সাধ্যমতো। সেই শিক্ষার জোরেই আমি বেশি দাম পড়ছে জেনেও রাস্তার পাশে বসে থাকা বৃদ্ধা ফলওয়ালির কাছ থেকে ফল কিনি। দামি দোকানের বদলে মিষ্টি কিনি দূর গ্রাম থেকে শহরে বিক্রি করতে আসা মানুষটার কাছ থেকে। এই যে সবার জন্য প্রয়াস, এতে অংশগ্রহণ করার জন্য আমার মনে যেন কোনও অহংকার না আসে, সেটাও শিখিয়েছিল বাবা। আমিও তাই নির্লিপ্ত থাকার চেষ্টা করি। এইগুলিই তো আমার শিকড়। প্রত্যেকের এরকম শিকড় থাকে। কৈশোর ও সদ্য তারুণ্যের উষ্ণ রক্ত শিকড়কে অগ্রাহ্য করতে শেখায়। তখন সেটাকেই মনে হয় স্মার্টনেস, বিপ্লব। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুল ভাঙতে শুরু করে। বয়স বাড়াকে আমাদের সমাজ, সাহিত্য, সংগীত সবেতেই নেতিবাচক ভঙ্গিতে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বারংবার। সেটি কিন্তু সর্বার্থে ঠিক নয়।

পুরনো অচলায়তন ভাঙতে তারুণ্যের স্পর্ধা যতটা প্রয়োজন, ঠিক ততটাই প্রয়োজন শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখানোর পরিপক্কতা। তবেই সমাজ ও জীবনে ভারসাম্য বজায় থাকে।

***

লেখায়- দেবব্রত কর বিশ্বাস

Want your business to be the top-listed Media Company in KOLKATA?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Culinary Team

Attire

Telephone

Website

Address


Kolkata