R&R Rasel
হে আল্লাহ আপনি সকল মুসলমানদের রক্ষা করুন, ইজরাইল এবং ইরানীদের হাত থেকে।
সত্য বলুন সত্যের পাশে থাকুন
19/04/2026
যে-সব ছোট আমল পূর্বের সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেয় (বিশেষ করে ছোট গুনাহ, এবং বড় গুনাহের ক্ষেত্রে তওবার সাথে)
ইসলামে আল্লাহ তা‘আলা ছোট-ছোট আমলের মাধ্যমে গুনাহ মাফ করার অসংখ্য উপায় দিয়েছেন। নিচে ৩০টি ছোট আমল সাজিয়ে লিখলাম। প্রত্যেকটির বিস্তারিত বর্ণনা ও সহীহ হাদিসের রেফারেন্স (সূত্র) সহ দেয়া হয়েছে। এগুলো মূলত মাইনর সিন্স (ছোট গুনাহ) মাফ করে, আর বড় গুনাহের জন্য তওবা জরুরি। সব আমলই সহজ, প্রতিদিন করা যায় এবং নিয়মিত করলে বিপুল সওয়াব ও গুনাহ মাফির সুযোগ।
১. ওযু ভালোভাবে করা
ওযু করার সময় শরীরের প্রত্যেক অঙ্গ থেকে গুনাহ ঝরে পড়ে (নখের নিচ থেকেও)।
রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম (উসমান ইবনে আফফান রা. থেকে)।
২. পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করা
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একে অপরের মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ করে (যদি কবীরা গুনাহ না হয়)।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী ও মুসলিম (আবু হুরায়রা রা.)।
৩. জুমার নামাজ আদায় করা
এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ হয়।
রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম।
৪. রমজানের রোজা রাখা (ঈমান ও সওয়াবের আশায়)
পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী (হাদিস ৩৮, ২০১৪) ও মুসলিম (১৮১৭)।
৫. রমজানে কিয়ামুল লাইল (তারাবীহ/তাহাজ্জুদ) আদায়
বিগত জীবনের গুনাহ মাফ।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী (৩৭, ২০০৯) ও মুসলিম (১৮১৫-১৮১৬)।
৬. লাইলাতুল কদরে (শবে কদর) নামাজ/ইবাদত করা
পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী (১৯০১, ২০১৪) ও মুসলিম (১৮১৭)।
৭. খাবার পর নির্দিষ্ট দোয়া পড়া
“আলহামদুলিল্লাহিল্লাজী আত‘আমানী হাজাল তা‘আমা ওয়া রাজাকানীহি মিন গাইরি হাওলিম মিন্নী ওয়ালা কুওয়াতিন” — পূর্বাপর গুনাহ মাফ।
রেফারেন্স: সুনান আবু দাউদ (৪০২৫)।
৮. পথ থেকে ক্ষতিকর জিনিস (কাঁটা, ডাল ইত্যাদি) সরানো
একটি ছোট আমলেও সব ছোট গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
৯. সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি ১০০ বার পড়া
সমুদ্রের ফেনার সমান গুনাহ মাফ হয়।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী (৬৪০৫) ও মুসলিম (২৬৯১)।
১০. আজান শুনে নির্দিষ্ট দোয়া পড়া
“আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু...” — গুনাহ মাফ।
রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম।
১১. জামাতে নামাজে রুকু থেকে উঠে “আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ” বলা
বিগত জীবনের সব গুনাহ মাফ।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী (৭৯৬) ও মুসলিম (৯৪০)।
১২. ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার + ১ বার কালেমা পড়া
অতীতের সব গুনাহ মাফ + জাহান্নাম থেকে মুক্তি।
রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম (১২২৮)।
১৩. দুই মুসলিম মিলিত হয়ে মুসাফাহা (হাত মেলানো) করা
বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই গুনাহ মাফ।
রেফারেন্স: সুনান আবু দাউদ।
১৪. সাদকা (দান) করা (যত ছোট হোক)
গুনাহ নিভিয়ে দেয় যেমন পানি আগুন নেভায়।
রেফারেন্স: সুনান তিরমিযী।
১৫. বাড়ি থেকে ওযু করে মসজিদে হেঁটে যাওয়া
প্রতি পদক্ষেপে একটি গুনাহ মাফ + এক ধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি।
রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম।
১৬. নিয়মিত ২ রাকাত দুহা নামাজ পড়া
সমুদ্রের ফেনার সমান গুনাহ মাফ।
রেফারেন্স: সুনান তিরমিযী।
১৭. ফজর ও আসরের নামাজ জামাতে আদায়
ফেরেশতারা গুনাহ মাফির জন্য দোয়া করেন।
রেফারেন্স: মুসনাদ আহমাদ।
১৮. নামাজের পর জায়গায় বসে থাকা
ফেরেশতারা “আল্লাহুম্মাগফিরলাহু ওয়ারহামহু” বলে দোয়া করেন।
রেফারেন্স: মুসনাদ আহমাদ।
১৯. নামাজের মাঝে অপেক্ষা করা (ওযু অটুট রেখে)
ফেরেশতারা গুনাহ মাফির দোয়া করেন।
রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম।
২০. খারাপ কাজের পর সাথে সাথে ভালো কাজ করা
ভালো কাজ খারাপকে মুছে দেয়।
রেফারেন্স: সুনান তিরমিযী (১৯৮৭, হাসান)।
২১. বাজারে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট কালেমা পড়া
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু...” — ১০ লক্ষ গুনাহ মাফ।
রেফারেন্স: সুনান তিরমিযী (৩৪২৮-২৯)।
২২. ইস্তিগফার করা (আস্তাগফিরুল্লাহ)
গুনাহ মাফ + রিজিক বৃদ্ধি।
রেফারেন্স: রিয়াদুস সালেহিন (সাধারণ ইস্তিগফারের ফজিলত)।
২৩. আয়াতুল কুরসি ফরজ নামাজের পর পড়া
মৃত্যুর পর জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ + গুনাহ মাফের মাধ্যম।
রেফারেন্স: সহীহ হাদিস সংকলনে উল্লেখিত।
২৪. রোগ-ব্যাধি, কষ্ট, দুঃখ সহ্য করা
প্রত্যেক কষ্ট (কাঁটার খোঁচা পর্যন্ত) গুনাহ মাফ করে।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী (৫৬৪১) ও মুসলিম (২৫৭৩)।
২৫. জ্বর সহ্য করা
জ্বর লোহার মরিচা দূর করার মতো গুনাহ মোচন করে।
রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম (জাবির রা.)।
২৬. অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া
৭০ হাজার ফেরেশতা গুনাহ মাফির দোয়া করেন।
রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম।
২৭. জিকিরের মজলিসে বসে শেষে নির্দিষ্ট দোয়া পড়া
“সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা...” — মজলিসের গুনাহ মাফ।
রেফারেন্স: সুনান তিরমিযী (আবু হুরায়রা রা.)।
২৮. ফজরের নামাজের পর ১০ বার নির্দিষ্ট কালেমা পড়া
সেদিনের গুনাহ থেকে সুরক্ষা + ১০ গুনাহ মাফ।
রেফারেন্স: সুনান তিরমিযী (৩৪৮৪)।
২৯. সালাম দেয়া ও হাসিমুখে মিলিত হওয়া
সালাম ও হাসি সাদকা, গুনাহ মাফের মাধ্যম।
রেফারেন্স: সহীহ হাদিস সংকলন।
৩০. নামাজের মধ্যে সিজদায় যাওয়া ও রুকু-সিজদা করা
প্রতি রুকু-সিজদায় গুনাহ ঝরে পড়ে।
রেফারেন্স: তাবারানী ও অন্যান্য সহীহ সূত্র।
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
এই আমলগুলো নিয়মিত ও ঈমানের সাথে করতে হবে।
কবীরা গুনাহের জন্য তওবা (আন্তরিক অনুতাপ + ছেড়ে দেয়া + আর না করার সংকল্প) অত্যাবশ্যক।
আল্লাহর রহমতে এই ছোট আমলগুলোই জীবনের সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত আমল করুন, ইনশাআল্লাহ।
যদি কোনো আমলের আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান, জানাবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই আমলগুলো করার তাওফীক দান করুন। আমীন। 🌟
Clicca qui per richiedere la tua inserzione sponsorizzata.
Digitare
Contatta il personaggio pubblico
Indirizzo
Milan
20017