Gansanta Bhikkhu Page
বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন বিষয়ে আমার গবেষণামূলক লেখালেখি।
12/11/2023
I have reached 4K followers! Thank you for your continued support. I could not have done it without each of you. 🙏🤗🎉
পারাজিকা অর্থকথার দ্বিতীয় খণ্ড অনুবাদ শেষ হয়েছে। এতে আছে মাত্র চারটি পারাজিকা বিধির অর্থকথা সহ অনুবাদ। ৭০০ পেজের উপরে হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র চারটি পারাজিকা বিধির ব্যাখ্যা করতেই কত শত পৃষ্ঠা লেগেছে চিন্তা করে দেখুন। এখনো সংশোধনের কাজ কিছু বাকি আছে। আপাতত একটু পড়ে দেখছি, আর কিছু কিছু কথার সংশোধন করছি। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে পাঅকে চলে যাব। হাতে সময় বেশি নেই। তাই ছোটোখাটো ভুল থাকবেই। কী আর করা।
এখানে “ভান্তে” শব্দটি নিয়ে একটু বলি। এটাকে প্রায় সবাই “ভন্তে” লিখে থাকেন। কিন্তু আমি লিখি “ভান্তে” হিসেবে। কেন লিখি? উচ্চারণের সাথে বানানের সামঞ্জস্য থাকে বলে। “ভন্তে” লিখলে তখন পাঠকের এটা মাথায় রাখতে হয় যে, এর উচ্চারণ হবে “ভান্তে” হিসেবে। কী দরকার এত ঝামেলার? আমরা তো আর পালি লিখছি না। আমরা বাংলা লিখছি। বাংলায় “ভ” আর “ভা” উচ্চারণে আকাশ পাতাল তফাত। তাহলে হুবহু পালি বানানে লিখতে হবে কেন তা আমার মাথায় ধরে না। আমি যতদূর সম্ভব সহজবোধ্য করে লেখার পক্ষে। উচ্চারণ ও বানান যতদূর সম্ভব সামঞ্জস্যপূর্ণ হোক। বিজ্ঞজনদের মতামতের প্রত্যাশা রইল।
12/06/2023
ইয়াঙ্গুনে আন্তর্জাতিক চাকমা বৌদ্ধ নিবাস (ICBN) সম্পর্কে সাম্প্রতিক আপডেট এখানে।
যারা মনে করেন ICBN ভিক্ষু, ভক্ত এবং বুদ্ধাসনের জন্য প্রয়োজনীয়, সহায়ক এবং উপকারী তারা অসমাপ্ত মুলতুবি কাজটি সম্পূর্ণ করতে এগিয়ে আসতে পারেন।
যারা ঐক্যবদ্ধ এবং সমষ্টিগত তাদের পক্ষে পৃথিবীতে কিছুই অসম্ভব নয়।
আরও জানতে নীচে দেওয়া সংক্ষিপ্ত আপডেট ভিডিওটি দেখুন এবং অন্যদের সাথে শেয়ার করে তাদেরকেও জানান।
Here is the very recent update about International Chakma Bouddha Nivāsa (ICBN) in Yangon.
Those who think ICBN is necessary, helpful and beneficial for monks, devotees and Buddhasāsana may come forward to complete the unfinished pending work.
Nothing on earth is impossible to those united and collective.
Watch the short update video given below to know more and share with others too to let them know.
এবারে একটু কৃতজ্ঞতা স্বীকারের পালা। কিছুদিন আগে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম যে আমার কিছু কাজে সাহায্যের প্রয়োজন হচ্ছে। বিনয় মোতাবেক ভিক্ষুরা সরাসরি কোনো কিছু চাইতে পারে না। তবে কাজের প্রয়োজনে সাহায্য চাইতে পারে। আমি সেটাই করেছি। সেটার ভিত্তিতে অনেকেই আমার কপ্পিয়কারকের সাথে যোগাযোগ করে আর্থিক সহযোগিতা যুগিয়েছেন।
যেমন আমেরিকা নিবাসী শিপ্রা বড়ুয়া আছেন। তিনি অত্যন্ত উদার মনে নিজের ভাইকে সাহায্য করার মতো করে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।
এরপরে অবশ্যই আছেন পটিয়া নিবাসী শীলব্রত বড়ুয়া। তার সাথে আমার খুব পরিচয় নেই বোধহয়। তবুও তিনি অনেকবারই আমার বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছেন আপনজনের মতো। এবারেও তিনি ৫০০০ টাকা দান করেছেন আমার কপ্পিয়কারকের কাছে।
এরপর আছেন আমার বহুদিনের শুভাকাঙ্খী আপনজন ডাক্তার কিশোর কুমার মুৎসুদ্দী। তার সাথে আমার পরিচয় ফেসবুকে নয়, বরং তারও আগে, মনে হয় কোরা নামক ওয়েবসাইটে আমি যখন লেখালেখি করতাম সেখান থেকে। তিনি ও তার সহধর্মীনি স্নিগ্ধা মুৎসুদ্দি মিলে পাঠিয়েছেন ১০০০ টাকা।
এরপর আছেন আমার খাগড়াছড়ির উপাসক রুপায়ন চাকমা। প্রচণ্ড ধর্মপ্রাণ এই উপাসক পরম শ্রদ্ধার সাথে পাঠিয়েছেন ১০০০ টাকা। অথচ কী কাজ করব সেটা আমি তাকে বলিও নি। আমার উপর তার খুব আস্থা আছে সেটা স্বীকার করতেই হবে।
এরপরে আছেন কলকাতার উপাসক মৃণাল বাবু ও তার ছেলে। তাদের সাথে আমার কখনো দেখা হয় নি। যোগাযোগও খুব সম্ভবত হয় নি। তবুও তারা পিতাপুত্র মিলে ২০০ ডলার পাঠিয়েছেন পরম শ্রদ্ধাভরে। আন্তরিক আশীর্বাদ রইল তাদের জন্য।
কী কাজ করলাম
-------------
ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল এভাবে। মাসখানেক আগে ইয়াঙ্গুনে প্রচুর গরম পড়েছিল। রাতে ঘুমাতে পারতাম না। সেই গরম থেকে বাঁচতে চলে গিয়েছিলাম শান স্টেটে। সেখানকার আবহাওয়া ঠাণ্ডা। রাতে মোটা কম্বল গায়ে দিতে হয়। পানি বরফের মতো ঠাণ্ডা। প্রথমে গিয়ে আমার তো একদম সর্দি লেগে গিয়েছিল। সেখানে ছিলাম প্রায় বিশ দিনের মতো। সেটা সবই সম্ভব হয়েছে এক শান বন্ধু ভান্তের সহায়তায়। সেখানে এদিক ওদিক যাওয়া, খাওয়া, সবকিছুর খরচ সে বহন করেছে নির্দ্বিধায়। এত সমাদর মনে হয় জীবনে পাই নি। সেখানে আমি এক পয়সাও খরচ করি নি। ব্যাপারটা আমাকে তখন বেশ খোঁচাচ্ছিল। আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আমারও কিছু একটা করা উচিত। সে সম্প্রতি মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে। ভালো একটা কম্পিউটার লাগবে তার। তাই এবারে সেটার জন্য আমি তাকে ২ লাখ চ্যাট (১০ হাজার টাকা) সাহায্য করেছি। এভাবে অন্তত কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পেরে মনটা বেশ হালকা হয়েছে। নাহলে খুব অস্বস্তি লাগত। 😁
এছাড়াও মবি পাঅক ভাবনা কেন্দ্রে আমার ইচ্ছা হয়েছিল কয়েকটা মগ দান করব। সেখানে সকালে মগ ভর্তি করে চা বা কফি দেয়া হয়। কিন্তু ঢাকনা না থাকায় কুটির পর্যন্ত হেঁটে আসতে আসতে অর্ধেক ছিটকে পড়ে যায়। মহা যন্ত্রণা। এর মাঝেই দশটা কফিমগ পাঠিয়েছি এক জাপানিজকে দিয়ে। কিন্তু সেখানে আমার চাইনিজ ভিক্ষু বন্ধু দুজন আছে, তাদের ভাগে নাকি পৌঁছায় নি একটাও। তাই আরো বিশটা মগ পাঠানোর চিন্তা করছিলাম। কিন্তু একটু হযবরল হয়ে গেছে এবারে। তাই সেটা আপাতত থাকুক। পরে কোনো একসময় দেয়া যাবে সময় সুযোগ হলে।
এছাড়াও শান স্টেটে গিয়ে এক সেয়ালের সাথে পরিচয় হয়েছিল। যেসব মেয়ে প্রব্রজ্যা নিয়ে থাকতে চায়, ধর্মকে নিয়ে জীবন কাটাতে চায়, ধর্ম শিক্ষা করতে চায়, তাদের জন্য সে একটা পরিয়ত্তি বা ধর্ম শিক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ করছে। আমি তার সাহস দেখে রীতিমত অবাক হয়েছি। একা একজন সেয়ালে, সে কোনো ধর্মদেশক নয়, ধ্যানগুরু নয়, মাত্র ধম্মাচারিয় পাস করেছে, তার উপর হচ্ছে মেয়ে, তবুও সে এরকম প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সাহস রাখে, ভাবতেই পারিনি। তাই আমার ইচ্ছা হয়েছিল যদি পারি তার প্রতিষ্ঠানেও কিছু সাহায্য করব। তাই এবারে শ্রদ্ধাদান আসতেই ১ লাখ চ্যাট (৫০০০ টাকা) পাঠিয়ে দিয়েছি তার কাছে।
আরও আছে ইয়াঙ্গুনে চাকমা আন্তর্জাতিক ভিক্ষুনিবাসের কাজ। সেখানে এর মধ্যেই ইণ্ডিয়ার এক উপাসিকা ন্যান্সি মা শ্রদ্ধাদান পাঠিয়েছেন ৫০০০ রূপী। সেটা এর মধ্যেই এখানকার চাকমা বিহারের সেয়াদের কাছে দেয়া হয়েছে।
এই চাকমা বিহারের সেয়াদের কাছে আমিও কৃতজ্ঞ। বিভিন্ন সময়ে আমি তার বিহারেই থাকি মাসের পর মাস। তখন দেখি তার কত যন্ত্রণা। তার বিহারে থাকে অনেক শ্রামণ। তাদের পড়াশোনার খরচ যোগান সেয়াদ। খাতা কলম লাগলে তারা সেয়াদের কাছে যায়। এমনকি তাদের বাড়িতে বাবা মা অসুখ, তখন তারা আসবে সেয়াদের কাছে। সেয়াদ তখন তাদের যাতায়াতের ভাড়া, ওষুধের খরচ, নাস্তা ইত্যাদি দিয়ে দেবেন। এমনকি টুথপেস্ট লাগবে, ব্রাশ লাগবে, সেয়াদের কাছেই আসবে তারা। আমি শুধু দেখি আর অবাক হয়ে যাই, এভাবেই যদি বিহার পরিচালনা করতে হয় তাহলে সংসার তো নয়, সংসারের বাপ হয়ে যায়। কারণ স্ত্রীপুত্র নিয়ে সংসার করলে কেবল একটা পরিবারের দেখাশোনা করতে হয়। এখানে সেয়াদের যদি দশজন শ্রামণ থাকে, তাহলে ঐ দশজন শ্রামণের হচ্ছে দশজন পরিবার। ঐ দশটা পরিবারই বিপদে আপদে সেয়াদের কাছেই আসে। আর সেয়াদও নির্দ্বিধায় সাধ্যমত সাহায্য করে যান। তা দেখে আমি ঠিক করেছি আমি আর বিহারাধ্যক্ষ হব না জীবনেও। দরকার হলে বনে জঙ্গলে একাকী কাটাব সারাটা জীবন। তবুও কৃতজ্ঞতার খাতিরে সেয়াদের কাছে ১ লাখ চ্যাট দান করেছি। সেয়াদ সেগুলো নিয়ে যা খুশি করুন, আমার কুছপরোয়া নেই। 😊
এছাড়াও আরো অনেককে মন খুলে সাহায্য করতে পেরেছি। যেমন অনেক ভান্তের যাতায়াত খরচ, বিভিন্ন জিনিসপত্রের খরচ আমিই বহন করেছি। এগুলো হচ্ছে ছোটখাট দান। কিন্তু এরকম সময় ও সুযোগ মত বিন্দু বিন্দু দানময় পুণ্য দিয়েই পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করতে হয়।
তাই যারা আমাকে এসব কাজে আর্থিক সাহায্য করেছেন তাদের জন্য রইল আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। তাদের মনের আশা পূরণ হোক। ধর্মকে ধারণ করে তারাও সুখী হোন। অন্তরে শ্রদ্ধা জাগুক। শ্রদ্ধার উপর ভর করে ভবসাগর উত্তীর্ণ হোক সবাই। সবার জন্য রইল শুভকামনা।👍
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Address
Yangon