KM Habibullah
ইসলাম। সাহিত্য। সংস্কৃতি। দাওয়াত। বিনোদন।
13/06/2026
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ: গৌরবময় ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে:
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এক সময় দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও আস্থাভাজন ব্যাংক ছিল। শুধু বাংলাদেশেই নয়, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি সফল মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর সুনাম ছিল। দেশের লাখো গ্রাহক, প্রবাসী বাংলাদেশি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কাছে এটি ছিল আস্থার প্রতীক।
দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্স আহরণ, শিল্প ও ব্যবসায় অর্থায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবার প্রসারে ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছে।
কিন্তু গত এক দশকে ব্যাংকটির পরিচালনা, মালিকানা ও ঋণ বিতরণ নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে যে রাজনৈতিক প্রভাব, গোষ্ঠীগত স্বার্থ এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাংকটির সুনাম ও আর্থিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কারণে বহু গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানেও যখন ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে, তখন সাধারণ গ্রাহক ও দেশের মানুষের প্রত্যাশা একটাই—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেন আবার কোনো বিতর্ক, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী লুটেরাদের নিয়ন্ত্রণে না যায়। ব্যাংকটি পরিচালিত হোক পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে।
আমরা চাই ইসলামী ব্যাংককে আবার তার আগের শক্তিশালী ও সম্মানজনক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হোক। এর জন্য বিতর্কিত ব্যক্তিদের ব্যাংকের পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হোক। গ্রাহকদের চাহিদা, আস্থা ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে এগিয়ে নেওয়া হোক।
কারণ ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি ব্যাংক নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, লাখো গ্রাহক এবং
23/05/2026
জিলহজের প্রথম দশ দিন ও তাকবীরের ফজিলত:
★
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন ইসলামের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সময়। এই দিনগুলোতে আল্লাহর যিকির, তাকবীর, তাহলীল, তাহমীদ, নফল ইবাদত ও তওবার গুরুত্ব অনেক বেশি। সাহাবায়ে কেরাম রা. এই দিনগুলোতে ঘরে-বাইরে উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করতেন।
★
আল্লাহ তাআলা বলেন: "যাতে তারা নির্ধারিত দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে।" — সূরা আল-হাজ্জ: ২৮
মুফাসসিরগণ বলেন, এখানে নির্ধারিত দিন দ্বারা জিলহজের প্রথম দশ দিন বোঝানো হয়েছে।
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন: "শপথ ফজরের, এবং দশ রাতের।" — সূরা আল-হজর: ১-২
অনেক তাফসীরবিদের মতে, এখানে "দশ রাত" বলতে জিলহজের প্রথম দশ দিন-রাতকে বোঝানো হয়েছে।
এই দশ দিনের আমলের ফজিলত
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "এমন কোনো দিন নেই, যেসব দিনে নেক আমল আল্লাহর কাছে এই দশ দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।"
সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, "আল্লাহর পথে জিহাদও নয়?"
তিনি ﷺ বললেন: "আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া, যে নিজের জান ও মাল নিয়ে বের হয়েছে এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসেনি।" — সহীহ বুখারী, হাদিস: ৯৬৯
বেশি বেশি তাকবীর বলার নির্দেশ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আল্লাহর নিকট এই দশ দিনের চেয়ে মহান ও প্রিয় আর কোনো দিন নেই। তাই তোমরা এ দিনগুলোতে বেশি বেশি তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) পাঠ করো।" — মুসনাদে আহমাদ
★
সাহাবীদের আমল:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও আবু হুরাইরা রা. জিলহজের প্রথম দশ দিনে বাজারে বের হয়ে উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করতেন। তাদের তাকবীর শুনে লোকেরাও তাকবীর পাঠ করত। — সহীহ বুখারী
এ থেকে বোঝা যায়, শুধু মসজিদে নয়; ঘর, রাস্তা, হাট-বাজার, কর্মস্থলসহ সর্বত্র তাকবীর পাঠ করা উত্তম।
তাকবীরের শব্দ
الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله، والله أكبر الله أكبر ولله الحمد
অর্থ: "আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।"
(আরও বিভিন্ন শব্দে তাকবীর বর্ণিত হয়েছে, তবে উপরোক্তটি আমাদের উপমহাদেশে বেশি প্রচলিত।)
তাকবীর কত দিন পড়তে হয়?
তাকবীর মূলত দুই প্রকার:
১. তাকবীরে মুতলাক (যা সবসময় পড়া যায়)
সময়: জিলহজের ১ তারিখ থেকে ১৩ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
কোথায় পড়বেন: ঘরে, মসজিদে, রাস্তায়, হাটে-বাজারে, সফরে কিংবা কাজের ফাঁকে। সাহাবীগণ এটি উচ্চস্বরে পড়তেন। তবে তা যেন অহংকার বা লোক দেখানো না হয়।
২. তাকবীরে মুকাইয়্যাদ (ফরজ নামাজের পরের তাকবীর)
সময়: অনেক ফকীহের মতে, ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত। অর্থাৎ মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর। প্রতি ফরজ নামাজ শেষে একবার এই তাকবীর পড়া সুন্নত।
★
নারীদের জন্য বিধান
নারীরাও তাকবীর পড়বেন। তবে পরপুরুষের সামনে উচ্চস্বরে নয়, ঘরে বা নিজেদের মাঝে মনে মনে বা নিচু স্বরে পড়তে পারেন।
★
এই দিনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ আমল
* বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা
* কুরআন তিলাওয়াত ও নফল নামাজ পড়া
* দান-সদকা করা
* ৯ জিলহজ আরাফার রোজা রাখা
* কুরবানির প্রস্তুতি নেওয়া এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
আরাফার রোজার ফজিলত
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার দিনের রোজা আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।" — সহীহ মুসলিম
★
শেষ কথা:
জিলহজের এই দিনগুলো ইবাদতের এক মহিমান্বিত মৌসুম। সাহাবায়ে কেরাম রা. তাকবীরের ধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত করে তুলতেন। আসুন, এই দিনগুলোতে আমাদের ঘর, মসজিদ, রাস্তা ও কর্মক্ষেত্র আল্লাহর বড়ত্বের ধ্বনিতে মুখর করে তুলি।
الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله، والله أكبر الله أكبر ولله الحمد
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Address
418
Doha