RadioNum.Com
সব সমস্যার সমাধান একটাই, মেনে নাও, ছেড়ে দাও, নয়তো বদলে যাও।আল্লাহ বদনজর থেকে মুক্ত দেও।
“সফলতা কী?
অনেক মানুষের কাছে সফলতা মানে আর্থিক স্থিতিশীলতা, ভালো সুনাম, সৌন্দর্য ইত্যাদি।
কিন্তু আমার কাছে! আল্লাহর কসম, পুনরায় আল্লাহর কসম! সফলতা হলো আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছে সেই একই পবিত্র আত্মা নিয়ে ফিরে যাওয়া, যা তিনি জন্মের সময় আমাকে আমানত হিসেবে দিয়েছিলেন।”
25/03/2026
ডিউটি থেকে এসে ফোন হাতে নিয়ে ফেসবুক স্ক্রল করতেই ছোট্ট একটা মেয়ের ভিডিও সামনে আসলো। মেয়েটা তার মৃত মায়ের কবরের পাশে বসে বিলাপ ধরে কান্না করতে করতে বলছে,"ও মা তোমার লগে আমারে নিয়া গেলানা কেন? আমারে এনে রাইখা গেছো কেন?"
মূল ঘটনাটা কি বুঝতে কমেন্ট বক্সে ঢুকে কয়েকটা কমেন্ট পড়ার পর বুঝলাম যে- মেয়েটি সৎ মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মৃত মায়ের কবরের পাশে বসে এভাবেই বিলাপ করে কাঁদছে।
কিছু মুহূর্তের জন্য মনটা এত খারাপ হয়ে গেলো। চুপ করে বসে রইলাম অনেক্ষণ। আমার কাছে পৃথিবীর সবচে ভারি কান্না হচ্ছে শিশুদের কান্না। আমার কাছে শিশুদের কান্নার চেয়ে ভারি পৃথিবীতে আর কিছু নাই।
আমাদের সমাজে সাধারণত দুই কারণে সন্তানরা অসহায় হয়ে পড়ে। প্রথমটা বিচ্ছেদ। বিচ্ছেদ হয় বাবা মায়ের, সম্পর্কটা ভাঙে, আর সম্পর্কের সেই ভাঙা টুকরোতে গোটা জীবন হাত-পা কাটে সন্তানরা।
দ্বিতীয় কারণটা হয়, হয় বাবার মৃত্যু- না হয় মায়ের মৃত্যু। মৃত্যুতে কারও হাত নেই, সন্তানের কথা চিন্তা না করে ভুলভাল মানুষকে দ্বিতীয়বার বিবাহ করে সন্তানের জীবনকে নরকে পরিনত করার দায় তো অবশ্যই বাবা-মায়ের।
আমি আমার আশপাশের অনেক ঘটনা দেখেছি এমন, অধিকাংশ মানুষ পরে দ্বিতীয়বার সংসার শুরু করে। শর্তসাপেক্ষ প্রথম সংসারের সন্তানের যত্ন, ভালো রাখার, মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসার শুরু করলেও বিবাহের পর আগের ঘরের সন্তানরা হয় চরম অবহেলিত না হয় অধিকাংশ সময় ভয়ংকর নির্যাতিত।
সামান্য প্রাণী মুরগীও তো নিজের সন্তানদের রক্ষা করতে শত্রুপক্ষের উপর ঝাপিয়ে পড়ে, জীবন বাজি রাখে। আর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব মানুষ কি করে পারে দ্বিতীয় সংসারের ইন্ধনে প্রথম সংসারের সন্তানদের উপর অত্যাচার করতে, অবহেলা করতে, অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে? তাদের কি এতটুকু বুক কাঁপে না?
বলা হয়, আল্লাহ বলেন, যে এতিমের মাথায় হাত রাখলো সে যেন আমার মাথায় হাত রাখলো, আর যে এতিমকে কষ্ট দিলো- সে যেন আমাকেই কষ্ট দিলো।
এই যে ছোট্ট মেয়েটি কষ্টে এমন আহাজারি কান্না করলো মৃত মায়ের কবরের পাশে, সে তো মজলুম, তার এই কান্না কি খোদা শুনেন না? এই কান্না কি অভিশাপ হয়ে ঝরবে না?
আম্মা,
আপনারে থুইয়্যা এই অচেনা শহরে পইড়া আছি। আপনার লাইগা আমার মনটা ভীষণ পুড়ে। একশো তিন ডিগ্রী জ্বরে যেই কপালে আপনার হাত নাই সেই কপাল হতভাগা, যেই শহরে আমার জান্নাত নাই হেই শহর আমার কাছে নরক মনে হয় আম্মা। যেই ঘরে আপনি নাই হেই ঘরে আমার লাইগা তিন বেলা দুঃখ রান্ধন হয়। কতকিছু আছে দামি দামি আসবাদপত্র, আরাম দায়ক রুম, তবুও ক্যান জানি সব ফাঁকা ফাঁকা লাগে। নকিব আব্বুরে বইলা ডাক দেওনের মানুষ নাই আমার এইহানে আম্মা।
আব্বার লগে আমার শাসনের সম্পর্ক, আপনি হইলেন বন্ধু। বাড়ি থেইকা যেদিন আইছিলাম - আপনার সেলাম করনের পর সবার চেয়ে আপনি বেশি কানছিলেন, আপনার কান্না দেইখ্যা আমার বুক ফাইট্যা কান্না আইছিলো আম্মা! কিন্তু কানতে পারিনাই; আপনার মনখান ছোট হইয়া যাইবো দেইখ্যা। কানছি বাড়ি থেকে বাহিরে আইসা।
রাইত কইরা ঘুমাইলে কেউ আদুরে রাগ কইরা কয়না ঘুমা, রাগ কইরা না খাইয়া থাকলে কেউ আব্বাজান কইয়া মুখে খাওয়ন তুইল্যা দেয়না।দেরি করে বাসায় ফিরলে কেউ শাসন করে না আম্মা।
আম্মায়, আপনারে মেলা মনে পড়তাছে, চোখ ভিজ্জা আহে। খুব ইচ্ছা করতাছে নামাজের বিচনায় বসলে আপনার কোলে শুইয়া পরানডা ভইরা আপনারে দেখি। আপনার হাসি দেইখ্যা পরানডা জুড়াই, সব চাইতে বেশি মনে পড়ে খাইতে বইলে আম্মা, কতদিন আপনার হাতের তরকারি খাইনা।
আম্মা, আমার লাইগ্যা আপনে আপনার বিয়ার কানের দুলজোড়া,গলার হার বেইচা দিছেন। আপনি চিন্তা কইরেন না আম্মা, আপনার লাইগ্যা আমি সোনার দুল, গলার হার গড়াইছি,নিজের সব স্বপ্ন পুরন করছি।এইবার আহনের সময় নিয়া আসুম।মন চায় ঈশ্বর চন্দ্রের মতো সমুদ্র পাড়ি দিয়া ছুইটা আপনার কাছে চইলা আহি।
আম্মা,
আপনারে খুব ভালোবাসি, আপনে ভালা থাইকেন।
ইতি
আপনার আব্বাজান।
জীবন কত ছোট তা ইদানীং খুব অনুভব করি। কত ক্ষুদ্র সময় নিয়ে এসেছি আমরা পৃথিবীতে। গত ভোরেও যারা শিশু ছিল, আজ তারা তরুণ; যারা তরুণ ছিল, তারা যুবক; যারা যুবক ছিল, তারা বৃদ্ধ।
গত বছর ইফতারের টেবিলে, নামাজের কাতারে, কিংবা ভোররাতের সেহেরিতে, চায়ের আড্ডায় যারা ছিল তারা অনেকেই এ বছর নেই। আমাদের বন্ধুদের তালিকায় প্রতিবছর কাটাকাটি হচ্ছে, সখ্যতা কমছে। একে একে সবাই চলে যাচ্ছে অনন্ত জীবনের দিকে।
এই বছর আমরা যারা আছি, আগামী বছর হয়তো তারাও থাকব না। জীবন বড়ই অনিশ্চিত। সময় বড়ই কম।
সৃষ্টিকর্তা যাদের নিজের কাছে ডেকে নিয়েছেন তারা সকলে খুব ভালো থাকুক। তাদের ওপারের জীবন সহজ হোক।
নিজেও এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি সেই অজানা জগতের, অনন্তকালের জীবনের। এই অপেক্ষা অযৌক্তিক নয়। এই জগৎ-সংসারের কিছুই আমার না। তাছাড়া মানুষ তো চিরকালই পৃথিবীর মর্গে দাঁড়িয়ে থাকে নিজের লাশের অপেক্ষায়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Al Shahafa
Riyadh
Opening Hours
| Monday | 12am - 1am |
| Tuesday | 12am - 1am |
| Wednesday | 12am - 1am |
| Thursday | 12am - 1am |
| Sunday | 12am - 1am |