Jhankar Mahbub
আমি বাংলার কথা কই, আমি বাংলায় কথা কই
06/24/2026
নেইমার ও মেবি আজকে কামব্যাক করবে।
সে ছেড়ে দেয় নাই।
তার পা এখনো গোশতের সাথে লাগানো আছে মানে সে আছে।
তাকে শত হাজার ধরনের ট্রল করা হয়েছে।
তার ইনজুরির ছবি মাঠে নাজুক অবস্থা আঘাতের পর।
আমরা কেউ ছাড় দিই নাই।
কিন্তু সে ছেড়ে দেয় নাই। কটু কথা, ট্রল সব উপেক্ষা কওরে এই দুঃখী রাজপুত্র আবার আজকে ২৬ এর কাপে খেলবে।
হয়তো মেসি রোনালদোর মতো আলো ছড়াবে। হয়তো নেভা তারা হয়ে এক কোণায় পরে থাকবে।
কিন্তু একটা জায়গায় সে জিতে গেছে। পায়ে কোমড়ে মেরুদন্ডে এতো ছুরি চালাচালির পর ও সে উঠে দাড়িয়েছে। সে মাঠে আছে।
নেইমারকে আমরা কেউ ছাড় দিইনি।
ইনজুরির ছবি ভাইরাল হয়েছে, মিম হয়েছে।
মাঠে কাঁদতে দেখেছি, ট্রল করেছি।
ক্যারিয়ার শেষ বলেছি। মেসির ছায়া বলেছি।
টাকার পেছনে ছোটা বলেছি। যা বলার বলেছি।
কিন্তু সে ছেড়ে দেয়নি।
শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে চিকিৎসকের হাত পড়েনি। অপারেশন টেবিলে শুয়ে কতবার ভেবেছে কে জানে, আর পারছি না।
কিন্তু উঠে দাঁড়িয়েছে। আবার বুট পরেছে। আবার মাঠে এসেছে।
এতকিছুর পরেও সে মাঠে আছে। পা দুটো এখনো শরীরের সাথে লাগানো আছে, আর সে এখনো খেলছে। এটা ছোট জয় না। এটা সেই জয় যেটা স্কোরবোর্ডে লেখা থাকে না কিন্তু মানুষের বুকে থাকে।
ট্রল করা সহজ। উঠে দাঁড়ানো কঠিন।
তুমি যখন পরের বার ভাববে আর পারছি না, ছেড়ে দিই, তখন একবার মনে করো এই দুঃখী রাজপুত্রের কথা। যে শরীরে এতগুলো ক্ষত নিয়েও বুট পরে মাঠে নেমেছে।
ফিরে আসা মানেই জেতা।
একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি।
তুমি কি কখনো খেয়াল করেছ, মানুষ সবচেয়ে বেশি কাজ করে কখন?
পরীক্ষার আগের রাতে। বসের ডেডলাইনের দিন সকালে। বাসায় অসুস্থ কেউ থাকলে। পকেট একদম খালি হয়ে গেলে। মানে যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন মানুষ হঠাৎ খুঁজে পায় এমন এনার্জি যেটা সে জানতই না তার ভেতরে ছিল।
এইটা খুব ইন্টারেস্টিং না?
স্বাভাবিক সময়ে যে মানুষ সকাল দশটায় উঠতে পারে না, পরীক্ষার আগের রাতে সে রাত তিনটা পর্যন্ত পড়ে। যে সারাদিন ফোন নিয়ে পড়ে থাকে, ডেডলাইনের দিন সে এক নিঃশ্বাসে কাজ শেষ করে। যে বলে আমি দিয়ে হবে না, সংসার বিপদে পড়লে সে-ই সব সামলে নেয়। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই এনার্জি কোথায় থাকে বাকি সময়?
উত্তর হলো, সবসময় ভেতরেই থাকে। শুধু ঘুমিয়ে থাকে। আর এই ঘুমন্ত এনার্জিকে জাগায় একটাই জিনিস।
ইমার্জেন্সি।
আসল সমস্যা হলো আমরা ইমার্জেন্সির জন্য অপেক্ষা করি। নিজে থেকে সেই ইমার্জেন্সি তৈরি করি না। ভাবি, এখনো তো সময় আছে। পরে করব। কাল থেকে শুরু করব। পরের মাস থেকে সিরিয়াস হব। আর কাল কখনো আসে না। দুনিয়ার সবচেয়ে সফল মানুষগুলো একটা কাজ করে যেটা বাকিরা করে না। তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য ইমার্জেন্সি তৈরি করে। তারা বাইরের চাপের জন্য অপেক্ষা করে না, ভেতর থেকে নিজেই চাপ তৈরি করে নেয়।
কীভাবে?
একটা ডেডলাইন দাও নিজেকে যেটা ভাঙলে সত্যিকারের একটা কিছু হারাবে। একটা কমিটমেন্ট করো সবার সামনে যেটা থেকে পিছিয়ে গেলে লজ্জা পাবে। একটা স্বপ্নকে এতটা বড় করে দেখো যে সেটা না পাওয়ার ভয়টা তোমাকে রাত তিনটায়ও জাগিয়ে রাখে।
মানে নিজের মাথায় নিজেই আগুন জ্বালাও। কারণ বাইরের আগুনের জন্য অপেক্ষা করলে দুইটা সমস্যা আছে। এক, সেই আগুন কখন আসবে তুমি জানো না। দুই, সেই আগুন অনেক সময় এসে সব পুড়িয়ে দেওয়ার পরে টনক নড়ে।
আর যদি নিজে নিজে সেই আগুন জ্বালাতে না পারো, তাহলে এমন একটা পরিবেশ খোঁজো যেটা তোমার হয়ে সেই কাজটা করে দেবে। এমন মানুষ খোঁজো যারা ঘুমাতে দেবে না, এমন জায়গা খোঁজো যেখানে বসে থাকলেই মনে হয় কিছু একটা করতে হবে, এমন একটা দল খোঁজো যারা প্রতিদিন তোমাকে মনে করিয়ে দেবে তুমি কেন শুরু করেছিলে।
কারণ পরিবেশ মানুষকে বদলে দেয়। লাইব্রেরিতে গেলে পড়তে ইচ্ছা করে, জিমে গেলে ব্যায়াম করতে ইচ্ছা করে, আর পরিশ্রমী মানুষের মাঝে থাকলে নিজেও পরিশ্রমী হতে ইচ্ছা করে। এইটা মানুষের স্বভাব, দোষ না।
এখন একটু সৎ থাকো নিজের সাথে।
তোমার জীবনে এখন এমন কোনো একটা জিনিস আছে যেটা তুমি করতে চাও, করা দরকার, কিন্তু করছ না? পড়ালেখা হোক, স্কিল শেখা হোক, ব্যবসা শুরু করা হোক, শরীর ঠিক রাখা হোক, যাই হোক।
সেই জিনিসটার জন্য এখন নিজেকে একটা প্রশ্ন করো।
যদি এই মাসের মধ্যে এটা না করি, তাহলে আমার জীবনে কী হবে? পাঁচ বছর পর আমি কোথায় থাকব? দশ বছর পর পিছনে তাকালে কী দেখব?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি তোমাকে একটু অস্বস্তিতে ফেলে, একটু ভয় দেখায়, একটু ব্যথা দেয়, তাহলে বুঝবে তুমি ঠিক জায়গায় পৌঁছে গেছ। সেই অস্বস্তিটাই তোমার ইমার্জেন্সি। সেই ভয়টাই তোমার আগুন। এখন সেই আগুনটা নিয়ে কাজে নামো। আজকে। এখনই। এই মুহূর্তে। কারণ পরীক্ষার আগের রাতে যে এনার্জি পাও, সেটা সবসময় তোমার ভেতরে আছে। শুধু ডাক দেওয়ার অপেক্ষায়।
তুমি কি ডাক দিবে?
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Address
Chicago, IL