Apala
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Apala, New York, NY.
আমার বাসা যেভাবে এত পরিষ্কার থাকে 🥴
Sunday Funday
04/24/2026
ঘটনা গত বছর এই দিনের। ঈদের আগের দিন ছিলো। আযানের বয়স ১১ মাস তখন। আমি আর জুয়েল অফিসে ছিলাম। কি যেনো একটা সিলি বিষয় নিয়ে দুই তিন দফা ঝগড়া করছিলাম, এর মধ্যে আম্মুর ফোন যে আমি যেনো বাসায় যাই। আম্মুকে বললাম কি হয়েছে? আম্মু কোনো উত্তর দিলো না। আমি দ্রুত বাসায় যেয়ে দেখি আযান কান্না করছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু অস্থির লাগছিলো ওকে। আম্মু জানালো আযানকে প্লেম্যাটে খেলতে দিয়ে আম্মু বিছানা ঠিক করছিলো এর মধ্যে আযান মুখ বিকৃত করে বমির ভাব করে চিৎকার দিয়েছে। আম্মু কিছু বুঝতে না পেরে ওর কাছে গিয়ে দেখে ওর সামনে একটা ন্যাপথলিন বল। এই জিনিস কোনোভাবেই ওর রুমে আসার কথা না। আযানের রুম আলাদা। এই রুমের সব জিনিস বেবি সেইফ। এখানে ও যা খুশি করতে পারে। ন্যাপথলি এখানে আসাটা অবাক হওয়ার মতো বিষয়। আমেরিকায় ন্যাপথলিনের চল নেই। আমি বাংলাদেশ থেকে কয়েকটা আনিয়েছিলাম। এটা আমাদের ক্লোজেটে তুলে রাখা কাপড়ে অল্প কিছু আছে। কীভাবে এখানে আসলো আমাদের কারো কোনো আইডিয়া নেই। কয়েকদিন আগে ক্লোজেট থেকে কিছু চাদর বের করেছিলাম। অসাবধানবশত এটা কোন চিপাচাপায় পরে ছিলো হয়তো। কিন্তু আম্মু বুঝতে পারছিলো না ও এটা মুখে দিয়েছে কীনা । কনফার্ম হতে না পেরে কোনো রিস্ক না নিয়ে ইমার্জেন্সি নাম্বারে জানালাম বিষয়টা। সেখানেও ঝামেলা। ন্যাপথলিন কি এটা কোনোভাবেই তাদের বুঝাতে পারছি না। কোনোমতে ব্যাখা দেয়ার তিন চার মিনিটের মধ্যে আমার বাসায় পুলিশ আসলো। এসেই আযানকে নিয়ে নিলো ওরা। একজন আযানের সাথে খেলছিলো আরেকজন আমাকে শুরু করলো জেরা। ন্যাপথলিন কি জিনিস? এই জিনিস বাসায় আসলো কীভাবে? কই থেকে কিনেছি? কয় ডলার দাম? কয়টা কিনেছি? এখন বাসায় কয়টা আছে? এটা বাচ্চার সামনে থাকার সময় আমি কই ছিলাম আরও কত কিছু!!! এরই মধ্যে চলে আসলো অ্যাম্বুলেন্স। এরপর হাসপাতালে গিয়ে পরলাম আরেক চ্যালেঞ্জে। এখানেও ওরা ন্যাপথলিন চেনে না। আমি বললাম পয়জনিং মথ বল এটা। আমেরিকাতে এই নামই কিছুটা পরিচিত। এরপর ডাক্তার বললো তিনি কখনো এমন বেবি পাননি যেই বেবি এই বল মুখে দিয়েছে। এইটা পয়জন কেইস। এক্সট্রা রিসার্চ লাগবে। ডাক্তার পয়জন সেন্টারের সাথে কানেক্ট হলো। সবাই মিলে ব্যস্ত হয়ে গেলো । আমার কেনো যেনো মনে হচ্ছিলো সিরিয়াস কিছু হয়নি। আযান যেকোনো কিছু ধরে মুখে দেয়। ন্যাপথলি খুব বেশি হলে ও মুখে দিয়েই ফেলে দিয়েছে। আমি তো জাস্ট রিস্ক না নিতে অ্যাম্বুলেন্স কল করেছিলাম। এত কিছু হবে বুঝিনি। আর বুঝলেও আমি ফোনটা দিতামই। আযানের সিকিউরিটির চেয়ে বড় আমার কাছে কিছুই নাই। আযানের বাবার হাতেও প্রচুর কাজ ছিলো। কিন্তু সে সব ছেড়ে চলে এসেছে। ঈদের আগের রাতে একটা পরিবারের কত প্ল্যান থাকে। কাজ অফিস বাসা মিলায়ে একটা উৎসব উৎসব ভাব ছিলো। সব মুহূর্তে চেইঞ্জ হয়ে গেলো।
সব ধকল সামলাতে খুব টায়ার্ড লাগছিলো। প্রথম দফায় আযানের ব্লাড নেয়া হলো তিন টিউব। আমি ব্লাড দেখতে পারি না। নিজের ছেলের ব্লাড এইভাবে নিচ্ছে দেখে মাথা চক্কর খেয়ে দেয়ালে ধাক্কা খেলাম। এবার নার্সরা আমাকে জুস খাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে গেলো। মনে হচ্ছে ছেলের কাছ থেকে এটেনশন সরে যাবে। দ্রুত সরে গেলাম ওখান থেকে। বাইরে গিয়ে ইফতার কিনে আনলাম। অনেক রাত পর্যন্ত থাকতে হবে। আযানকে নেয়া হলো তিন ঘন্টা অবজারবেশনে। এরপর আবারও ব্লাড নেয়া হলো। ছবিটা অবজারবেশনের সময় তোলা। আযান আমার কোলে খেতে খেতে ঘুমিয়ে পরেছিলো। এর আগে অনেক কান্না করেছে সে। ও ঘুমায় গেলে আম্মু আর আযানের আব্বুর কাছে ওকে হাসপাতালের বেডে রেখে আমি বের হয়ে যাই। অফিসের কাজ অর্ধেক করে এসেছিলাম। ওটা আমি ছাড়া শেষ করার কেও নাই। কাজটা শেষ করি। বৃষ্টি হচ্ছিলো। তার উপর প্রচন্ড ঠান্ডা। তাড়াহুড়ো করে বের হওয়ার সময় শীতের পোশাক নেইনি। নিউ ইয়র্কের এই বরফ ওয়েদারে জমে যাচ্ছিলাম। কিন্তু মাথায় ছিলো আযানের সেই কান্না করা মুখটা। পরদিন ঈদ। আমাদের ওয়াশিংটন ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান। টিমের সবাই কত এক্সাইটেড। যাওয়া হবে কিনা সেটা পরের চিন্তা। আপাতত সবার একটাই ভয় রিপোর্টে কি আসে? আমি কাজ শেষ করে দ্রুত হাসপাতালের ব্যাক করলাম। কেওই ইফতার করেনি। সবাই দুশ্চিন্তায় ক্লান্ত।
রাত ১১ টায় রিপোর্ট আসলো যে সব ঠিকঠাক। আযানের ব্লাডে ন্যাপথলিনের কোনো স্যাম্পল পাওয়া যায়নি।………
নিউইয়র্কে চেরি ব্লসম চলছে
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Website
Address
New York, NY
1205